কুরবানীর পশু কেনার আমেজ

Words
651
Reading
3 min
Listen
Play
4y

মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বছরে ২ বার ঈদ পালন। এর মধ্যে একটি হলো ঈদুল ফিতর আর একটি হলো ঈদুল আযহা। ঈদুল ফিতর থেকে ঈদুল আযহা অনেকটা আলাদা ভাবে উদযাপন করা হয়। কারণ এই ঈদে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পশু কোরবানি করা হয়। আমাদের কাছে সবচেয়ে প্রিয় পশুটি আল্লাহর জন্য কোরবানি করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। ঈদুল আযহা এর অর্থ হলো ত্যাগের উৎসব। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য এই কুরবানীর ঈদ অনেক গুরত্বপূর্ণ। কারণ এই কুরবানীর ঈদের সময় হজ্ব পালিত হয়। যাদের হজ্ব করার সামর্থ থাকে তারা হজ্ব পালন করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে।

ঈদুল আযহা বা কুরবানীর ঈদ জিলহজ্ব মাসের ৯-১১ তারিখ এর মধ্যে উদযাপন করা হয়। জিলহজ্ব মাসের চাঁদ ওঠার ১০ তম দিন অর্থাৎ জিলহজ্ব মাসের ১০ তারিখ ঈদ পালন করা হয়। আবার এই জিলহজ্ব মাসের ৮-১২ তারিখ পবিত্র হজ্ব পালিত হয়। জিলহজ্ব মাস ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য অনেক পবিত্র ও গুরত্বপূর্ণ একটি মাস। আল্লাহ তাআলা হযরত ইবরাহীম (আঃ) কে স্বপ্নের মাধ্যমে জানিয়ে দেন তার প্রিয় পুত্র হযরত ইসমাইল (আঃ) কে আল্লাহর জন্য কুরবানী করতে হবে। আল্লাহ তাআলা তাদের পরীক্ষা করার জন্য বলেন। কিন্তু এই পরীক্ষায় হযরত ইবরাহীম (আঃ) ও হযরত ইসমাইল (আঃ) দুই জনই পাশ করেন। আল্লাহর জন্য তাদের এই ত্যাগ অতুলনীয়। পরবর্তীতে হযরত ইসমাইল (আঃ) এর পরিবর্তে একটা দুম্বা কুরবানী হয়ে যায়। এরপর থেকেই ঈদুল আযহা বা কুরবানীর ঈদে পশু কোরবানি করা হয়। তবে আল্লাহ তাআলার কাছে পশুর রক্ত মাংস কিছুই যাবে না। আল্লাহ তাআলা দেখবেন বান্দার অন্তর, বান্দার নিয়ত।

IMG_20220705_155040.jpg

এই কুরবানীর ঈদ আসতে না আসতেই শুরু হয়ে যায় ঈদে পশু কেনা বেচার আমেজ। সবাই যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী পশু কিনে থাকে। কেউ কিনবে গরু ,কেউ ছাগল, কেউ মহিষ, কেউ উট, কেউবা দুম্বা। তবে আমাদের দেশে বেশিরভাগ মানুষ কুরবানীর জন্য গুরু কিনে থাকে। কারণ আমাদের দেশে গরু অনেক বেশি পাওয়া যায়। আর এই ঈদে পশু কেনার জন্য ঈদের এক না দুই সপ্তাহ আগে থেকেই প্রত্যেক এলাকাতেই গরু ছাগলের অনেক বড় আকারের হাট বসে। ঈদ এর পশু কেনার হাট বলে কথা। এখানে অনেক আকারের গরু ছাগল কেনা বেচা হয়।

আবার এই কুরবানীর ঈদ কে ঘিরে জমে ওঠে কামারদের রমরমা ব্যবসা। পশু জবাই করার চুরি, দা বটি তৈরি করা ও সেগুলো মেরামত করতে ব্যাস্ত হয়ে ওঠেন তারা। পশুর চামড়া বেবসায়ীরা ও অনেক ব্যাস্ত হয়ে ওঠেন এই সময়।

IMG_20220705_154830.jpg

আমাদের সমাজে এখন একটা সংস্কৃতি তৈরি হয়ে গেছে। কে কার থেকে বড় পশু কুরবানী দিতে পারে। ওর থেকে আমার কুরবানীর গরু বড় হতে হবে। বড় না হলে মান সম্মান থাকবে না এই রকম একটা মনোভাব। বড় গরু কুরবানী দাওয়া খারাপ কিছু না বরং এটাই ভালো।নিজের স্বার্থের সর্বোচ্চ টুকু দিয়ে কুরবানী দেওয়াই উত্তম। কিন্তু এখন আমাদের মাঝে একটা মনোভাব যে ছোট গরু কুরবানী দিলে লোকে কি বলবে বা কুরবানী না দিলে লোকে কি বলবে এইটা ভেবে কুরবানী দেয় অনেকেই। এইটা মোটেও ঠিক না। কুরবানী হচ্ছে আল্লাহ তাআলা কে সন্তুষ্টি করার জন্য পশু জবাই করা।

ঈদের এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যে কুরবানীর পশু কেনা বেচার আমেজ শুরু হয়ে যায়। এইতো কালকে গেয়েছিলাম আমাদের কুরবানীর গরু কেনার জন্য। আমি আর আব্বু দুপুরের খানা শেষ করে রওনা হই হাটের উদ্দেশ্যে। প্রতিবারের থেকে এবার হাটে গরুর সংখ্যা বেশি থাকলেও এবারও গরুর বাজার অনেক বেশি। হাটে যাওয়ার পথে রাস্তায় কিছু গরুর দাম জিজ্ঞাসা করে গরুর দামের কিছু ধারণা নিয়ে গেলাম। হাটে ঢুকতেই প্রথমে চোখে পড়লো বড় বড় কিছু গরুর দিকে। বড় আকারের গরু গুলো দেখলেই ভালো লাগে। পরে ধীরে ধীরে হাটের ভিতরের দিকে গেলাম। তবে গরুর হাটে আসলে খুব সাবধানে থাকতে হয়। মনে হয় এইবুঝি গরু লাথি দিলো বা ডিপ দিলো।

IMG_20220705_154807.jpg

তবে হাটে গরুর থেকে মানুষের ভীড় টাই বেশি ছিল। আর যারাই গরু কিনতে গেছেন সবার মাঝেই গরু কেনার একটা আনন্দ উৎছাস কাজ করতেছিল। আমারও অনেক ভালো লাগতেছিল অনেক দিন পর কুরবারির গরু কিনতে আসা। তবে ছোট বেলায় গরু কেনা নিয়ে অনেক বেশি আমেজ আর আনন্দ কাজ করতো। হাট থেকে গরু কিনে নিয়ে আসলে অনেক আনন্দ লাগতো। গরু কেনার পর আরো বেশি আনন্দ লাগতো কারণ তখন মনে হতো ঈদ খুব নিকটে চলে আসছে। এইটা ভেবে আরো বেশি খুশি লাগতো। কিন্তু এখন আর সেই ছোটোবেলার সেই অনুভূতি কাজ করে না। কত ঈদ যাচ্ছে আসছে তবুও ছোটোবেলার সেই অনুভূতি গুলো ফিরে পাওয়া হয় না।