Describe Your Para : প্রতিযোগিতা

Words
396
Reading
2 min
Listen
Play
6y

Photo From:Pexabaynxwoqq.jpg

ভাবি জানেন আমার ছেলে রাফি বুয়েটে ভর্তি পরিক্ষায় মেধা তালিকায় সপ্তম স্থান লাভ করেছে!
কিংবা আমার মেয়ে আমার অমুক আমার তমুক জিপিএ পাইভ পেয়েছে এই রকম আহ্লাদি কথা শুনো শুনে আমরা বড় হই। আসলে বড় হই শরীরে গায়ে মনের দিক থেকে কতো টুকু বড় হইতে পারছি সে হিসাব না হয় মুলতবি থাক।

আমরা আমাদের সন্তানদেরকে স্কুলে ভর্তি করিয়ে বলে দি পরবর্তী ক্লাসে উঠার সময় প্রথম হতে হবে সেই থেকে আমরা তাদেরকে ঠেলে দি অসুস্থ প্রতিযোগিতায়। আর অভিভাবকরা ও আনন্দ পায় তাদের সন্তানদের রেজাল্ট কার্ডের স্বাস্থ্য দেখে কিন্তু কোনদিনও খেয়াল করে দেখেনি তাদের মনের স্বাস্থ্যের অবস্থা।

অভিভাবকরা হয়তো দামি স্কুল ব্যাগ, জুতা কিনে দিয়ে সন্তানের টিফিনবাক্সে বাহারি খাবার দিয়ে দায়িত্ব সারতে চায়। কিন্তু কোনদিন বলেনা তোমার খাবারটা তোমার বন্ধুর সাথে শেয়ার করিও।

নিজের সন্তানের ভালো ফলাফলের খবর পৌঁছাতে গিয়ে অন্য বাসার মানুষকে কতনা ভিব্রত করি তা হয়তো একবারও ভাবিনি কিংবা ভাবলেও এড়িয়ে গিয়েছে সচেতন ভাবে। ক্ষেত্র বিশেষ কয়েকটি বাঁকা কথা শুনিয়ে দিতেও কিছু অভিভাবক সিদ্ধহস্ত। অথচ গল্পটা হতে পারতো আরো বেশি মানবিক, পাশের প্লেটে গিয়ে সমবেদনা জাননো, তাদেরকে উৎসাহ দেয়া ভরসা দেয়া। কিন্তু কিভাবে করবে ঐযে স্কুলের প্রথম দিন থেকে যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা।

সন্তানদেরকে শিখায়নি মানবিক হতে, মানুষ হতে। আহমদ ছফা তাই হয়তো আক্ষেপ করে বলেছেন
"বড় বড় স্কুল কলেজে ছেয়েময়েরা জ্ঞানের চেয়ে অহংকারই বেশি শিখে"।

প্রতি বছর ডিসেম্বর মাস আসলে দেখা যায় অভিভাবকদের মাঝে তীব্র প্রতিযোগিতা কার সন্তান কত ভালো মানে বড় স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পায় এবং সে অনুযায়ী গর্ব করা। পারতপক্ষে তারা একবারো ভাবেনা তাদের সন্তানরা কী চায়? আর এই ভাবে বাড়তে থাকে আমাদের শৈশব, আমাদের যৌবন!

আবার এই ছেলে ময়েরা যখন হতাশাগ্রস্ত হয়ে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে তখন টনক নড়ে অভিভাবকদের কিন্তু ততোদিনে হয়তো সময় শেষ।

নিত্যনৈমিত্তিক ভাবে যখন আমাদের টাকাওয়ালা পিতারা গাড়ির মডেল পরিবর্তন করে আর তা দেখে আমাদের পাড়ার অন্যরা তখন ফেলফেল করে চেয়ে হয়তো দীর্ঘশ্বাস গনে কিন্তু ঘরে গেলে হয়তো ওদের আনন্দের অভাব হয়না অভাব হয়না ঘুমেরও। অপরদিকে টাকাওয়ালা পিতাটি দীর্ঘশ্বাস গুনে গয়তো পার করে দিচ্ছে রাতের পর রাত, আনন্দতো দূর আাকেশর তারা।

অভিভাবকরা যদি নিজেরা নিজেদের মতো করে না ভেবে সন্তানদেরকে কীভাবে মানবিক করা যায়, তাদেরকে স্কুলের প্রথম দিন যদি বলপ দেয়া যেতো আগে তুমি মানুষ হও তারপর অন্য কিছু তাহলে রক্ষা পেতো আমাদের সন্তানরা।

বি.দ্র. গল্পের প্রয়োজনে হয়তো আমরা চরিত্র খুঁজি কিংবা স্থানকে সাক্ষী করে অংকিত হয় কালের, অভিভাবকদের জায়গায় যেকোনো নাম বা সন্তানের স্থানে ও নাম বসিয়ে দিলে হয়ে যায় চরিত্র আর কিছু গল্প সময়কে অতিক্রম করতে পারে বলেই কোন নির্দিষ্ট স্থানের প্রয়োজন হয়না।

Describe Your Para : প্রতিযোগিতা | Ecency