Photo From:Pixabay
আমরা যখন মঙ্গল গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব আবিষ্কার করছি, করোনা ভাইরাস তখন আমাদের জীবনে মহামারী রূপ নিলো এবং এর প্রভাবে সমগ্র বিশ্বের অর্থনীতিই কোমায় চলে যাচ্ছে। এতো মধ্যে বেসরকারি চাকরিতে বেতনভাতা শতকরা ২০ থেকে ৫০ ভাগ কমানো হলো। অনেক প্রতিষ্ঠানে ছাটাই করা হয়েছে বেশ কিছু কর্মি।
বেসরকারি ব্যাংক মালিকরা ঘোষণা দিয়েছে বেতন কমানোর। দেশীয় ব্যাংকগুলে এখনো ছাটাই এর ঘেষনা না দিলেও বহুজাতিক ব্যাংক এইচএসবিসি ব্যাংক বিশ্বব্যাপি প্রায় তিন লাখ কর্মি ছাটাই এর সিন্ধান্ত নিয়েছে। দেশীয় ব্যাংক ছাটাই না করলেও নিয়োগ বন্ধ রাখা হবে বেশ কয়েক বছর বলে জানিয়েছে মালিক পক্ষ।
কবিড-১৯ এর প্রভাবে ইতোমধ্যে কমেছে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়। তৈরি পোশাকখাতে ২৬৮ কোটি ডলার ক্রয়াদেশ বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিএমইএ। মোটের উপর বলা যায় যে কর্ম সংস্থানের জায়গায়টা সংকোচন হয়ে আসছে দিনে দিনে। এইদিকে আইএমএফ বলছে করোনায় বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষতির জেট হবে ১২ ট্রিলিয়ন ডলার।
বিআইডিএস এর ধারনা করোনার প্রভাবে ইতোমধ্যে দারিদ্র্যের হার শতকরা ৯ ভাগ বেড়ে ২৯ ভাগে পৌঁছেছে। তার চিত্র হয়তো আমরা ঢাকার টু-লেট বিজ্ঞাপন দেখে বুঝতে পারছি কিছুটা। পাশাপাশি কোভিডের সময়ে শহরের শ্রমিকের আয় কমেছে ৮০ শতাংশ এবং গ্রামীণ শ্রমিকের আয় কমেছে ১০ শতাংশ মত প্রকাশ করে বিআইডিএস।
করোনার প্রভাবে আমাদের মোট দেশজ উৎপাদনের স্বাস্থ্যে ও আঘাত পড়তে দেখা যাচ্ছে। তবে এতো কিছু র পরও আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়ায়। মাছ ও ধান উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশ আগের অবস্থান থেকে উন্নতি লাভ করে যথাক্রমে ২য় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করে।
করোনা পরবর্তী অর্থনীতিতে কৃষি খাত একটি ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। বিশ্ব মহামারির এই সময়ে পৃথিবীতে টিকে থাকার সহায়ক ভূমিকা পালন করবে কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য।
সরকারের উচিত কৃষি খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে প্রান্তিক কৃষকদের সহায়তা দ্বিগুণ করে এই খাতকে শক্তিশালী করা। সহজ শর্তে ঋণ দানের মাধ্যমে কৃষিকে এজটা সম্মান জনক পেশা হিসেবে যদি স্থান দেয়া যায় তাহলে দেশের শিক্ষিত লোকজন বেশি করে এই পেশার সাথে জড়িত হবে। এরফলে দেশের বেকারত্ব ও কিছুটা লাগব হবে এবং কৃষি খাত থেকে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা ও অর্জন সম্ভব। এবং সরকারকে বিপণন ও সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
সবশেষে সরকারে উচিত স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানো এতে করে দেশে স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগ বাড়বে মানুষ উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশগামী কম হবে, বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে এবং এই খাতে কর্ম সংস্থানও বৃদ্ধি পাবে। এর পাশাপাশি সরকারের উচিত সমতা বিত্তিক আরো অনেক মডেল নিয়ে কাজ করা এবং বাস্তবায়নের উপর জোর দেয়া।
অপরদিকে অর্থনৈতিক মন্দা কাটাতে সঞ্চয় এর উপর জোর না দিয়ে জনগনকে খরচের উদ্ভুদ্ধ করতে হবে। অর্থনীতিতে ১০০ টাকা সার্কেলুসন করলে তা ৫০০ টাকার সমান সুযোগ সৃষ্টি করে।