'ধন্য সে পুরুষ যার নামের উপর রৌদ্র ঝরে চিরকাল, ধন্য সে পুরুষ যার নামের উপর ধুলো জমতে দেয়না হাওয়া" - শামসুর রাহমান, ধন্য সে পুরুষ কবিতায় বঙ্গবন্ধুকে এইভাবে চিত্রায়িত করেছেন।
বাঙালির আধুনিকতা, বাঙালির নাগরিক হাসিকান্না, প্রেম অথবা বিলাসিতা, বোধ ও বিবেক, এইসব কিছুকে নাড়া দিয়ে ১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয় তার "প্রথম কাব্য গ্রন্থ প্রথম প্রেম, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে " ষাটের দশকে প্রেম নিয়ে এইভাবে কেউ ভাবতে পারে? শামসুর রাহমান তা আমাদের দেখিয়েছেন।
শামসুর রাহমান এর সাথে আমার পরিচয়" ট্রেন চলেছে " কবিতার মাধ্যমে ট্রেন যে ঝকঝক করে চলে তা আমি আবিস্কার করি ওনার কবিতা পড়ে। তখন ভাবতাম শামসুর রাহমান মনে হয় ছোটদের জন্য লিখে। আমার ভাবনার দুয়ারে কড়া নাড়ে "স্বাধীনতা তুমি" কবিতা, তখন আমি নবম শ্রেণিতে পড়ি, স্কুলে কবিতা প্রতিযোগিতায় আমি পাঠ করি এই অমর কবিতা
স্বাধীনতা তুমি
রবিঠাকুরের অজর কবিতা, অবিনাশী গান।
স্বাধীনতা তুমি
কাজী নজরুল ঝাঁকড়া চুলের বাবরি দোলানো
মহান পুরুষ, সৃষ্টিসুখের উল্লাসে কাঁপা-
স্বাধীনতা তুমি
শহীদ মিনারে অমর একুশে ফেব্রুয়ারির উজ্জ্বল সভা
স্বাধীনতা তুমি
পতাকা-শোভিত শ্লোগান-মুখর ঝাঁঝালো মিছিল।
স্বাধীনতা তুমি
ফসলের মাঠে কৃষকের হাসি।
স্বাধীনতা তুমি
রোদেলা দুপুরে মধ্যপুকুরে গ্রাম্য মেয়ের অবাধ সাঁতার।
আমি পুলকিত হয়, আর নিজের কাছে নিজেই ছোট হয়ে পড়ি, কিছু পরে স্নাতক পর্যায়ের বইতেও ওনার কবিতা দেখি, ততেদিনে শামসুর রাহমান সম্পর্কে যা জানার দরকার সব কিছু জেনে নি।
হুমায়ুন আজাদ বলেছেন ১৯৬০ সাল বাঙালি মুসলমানদের আধুনিক হয়ে উঠার বছর, তাদের কবিতায় আধুনিকতা আয়ত্তের বছর। কেনো?কারণ শামসুর রাহমান এর প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে বের হয় ১৯৬০ সালে।
মৌলবাদ, স্বৈরাচার, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এতো সরব কবিতা আছে? "স্বাধীনতা তুমি ", তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা, কিংবা আসাদের শার্ট " এর মতো কালজয়ী কবিতা আছে?
জেমস্ এর দেরাজ কন্ঠে যখন শুনি "সুন্দরী তমা"
সুন্দরীতমা আমার
তুমি নীলিমার দিকে তাকিয়ে
বলতে পারো
এই আকাশ আমার
সুন্দরীতমা আমার
তুমি নীলিমার দিকে তাকিয়ে....
তখন নড়েচড়ে বসতাম গানের রচয়িতাকে খুঁজতে, পরে জানলাম এই গানের গীতিকবি আমাদের শামসুর রাহমান। শমাসুর আনাদেরকে প্রতিনিয়ত বিমোহিত করতেন তার সৃষ্টি দিয়ে।আর আমরা তাঁকে খুঁজে পাই যেমন ইচ্ছে লেখা আমার কবিতার খাতায়..