আজকের তাপমাত্রা অন্যান্য দিনের তুলনায় কিছুটা বেশী, যার কারনে আজ কিছুটা বেশী গরম অনুভূত হচ্ছে। যদিও বর্তমানে আমাদের শহরের মানুষ তাপমাত্রা বেশী দেখলে কিছু আনন্দ প্রকাশ করেন, কারন তারা বিশ্বাস করছেন যে, অতিরিক্ত গরমে করোনা ভাইরাস খুব বেশী ক্ষতি করতে পারে না। সুতরাং তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে কিছুটা কষ্ট হলেও মানুষ সেটা মেনে নিচ্ছে। যাইহোক, তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারনে আজ অফিসে আসতে কিছুটা কষ্ট হয়েছে। কারন অতিরিক্ত গরমে বেশীক্ষণ হাঁটা যায় না। অধিকাংশ সময় আমি হেঁটে অফিসে যাওয়ার চেষ্টা করি।
সাধারণত আমি অফিসে ঢোকার পর, প্রথমে অফিসের মেইল চেক করি তারপর সারাদিনের কাজের একট ছক তৈরী করে ফেলি, যাকে কাজগুলো সমাধা করতে সহজ হয়। তারপর পূর্বের অভ্যাস অনুযায়ী ব্লকচেইন এর আপডেট জানার চেষ্টা করি এবং গ্রুপগুলোকে একটু উঁকি মারি। আজ আমাদের গ্রুপে দেখলাম বাংলা নিয়ে কিছু কথাবার্তা হচ্ছে। আমিও সে ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করে ছোট্ট একটি কবিতা লিখে ফেললাম। যদিও স্কুল জীবনের পর তেমন বেশী কবিতা লেখার প্রাকটিস করার সুযোগ পাই নাই। তবে হ্যাঁ, এক সময় কবিতা লেখার বেশ চেষ্টা করতাম। একটি জাতীয় পত্রিকায় আমার কবিতা ছাপাও হয়েছিল।
বাংলা প্রাণের ভাষা,
বাংলা মায়ের ভাষা,
সে তো ছোট বেলার সেই স্কুলের শিখানো কথা
শিক্ষিত ভদ্র সমাজে যেটা আর সচল না।
ভাষার শিষ্টতা,
ভাষার মাধুর্যতা,
হারিয়ে গেছে আধুনিকতার মুখোশে
বাংলিশ নামের নব সংস্করণে।
আমাদের উদাসিনতা,
আমাদের দেশপ্রেমহীনতা,
ভাষার প্রতি- মায়ের প্রতি
চরম অবজ্ঞার নিদর্শণ এটা।
যদিও বাংলা ভাষায় আমার তেমন দক্ষতা নেই তবুও চেষ্টা করতাম, যদিও বর্তমান সময়ের ছেলে-মেয়েরা এই চেষ্টাটাও করতে আগ্রহ দেখায় না। কারন তারা আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর ডিভাইস নিয়ে স্ট্যাটাস কিংবা টুইট করতে বেশী ভালোবাসে। আর আমাদের সময় আমরা নিজের প্রতিভা প্রকাশের চেষ্টায় মত্ত থাকতাম। যেটা দেখে আমাদের পিতা-মাতাও অনেক খুশি হতেন।তারা এসব ক্ষেত্রে আমাদের উৎসাহ দিতেন। কবিতা কেমন হলো, সেটা শুনে আবার প্রসংশাও করতেন। মাঝে মাঝে কিছু পরামর্শও দিতেন ভাষা এবং শব্দ চয়নের ব্যাপারে।
আমার এখনো স্পষ্ট মনে আছে, আমাদের এলাকায় একটি সংগঠন ছিলো সাহিত্য চর্চার। যার নাম ছিলো সৃষ্টি সাহিত্য পরিষদ। আমি সেটার সদস্য ছিলাম। প্রথমবার যখন আমি সেখানে কবিতা জমা দিয়েছিলাম। তার প্রতিষ্ঠাতা আমাকে ঢেকে বুঝালেন, শুন তুমি কবিতা মোটামুটি ভালো লিখ, কিন্তু সমস্যা হলো তোমার শব্দ চয়নে কিছুটা সমস্যা রয়েছে। কবিতা লেখার সময় সাধারণ নিয়মে শব্দ চয়ন কবিতার সৌন্দর্য্য নষ্ট করে দেয়। সেদিন তিনি চমৎকার কিছু পরামর্শ দিয়েছিলেন আমায়। সত্যি বলছি, পরবর্তীতে আমাকে কোনদিন এই ব্যাপারে আর কারো কথা শুনতে হয় না। যদিও সাধু এবং চলিত ভাষার সংমিশ্রনের কিছু সমস্যা সব সময় উপস্থিত থাকতো আমার লেখায়।
তবে সত্যি বলছি, আমাদের সময় ভাষা নিয়ে চর্চার করার সংস্কৃতিটা বিদ্যমান ছিলো।যার উপস্থিতি বর্তমান সময়ে নেই বললেই চলে। এর চমৎকার একটি প্রভাব আমরা বর্তমান সমাজে বেশ ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারছি। কারন ভাষা প্রকাশ কিংবা ব্যবহারে এখন কেউ মোটেও যত্নশীল নয়। সবাই নিজের পছন্দ মতো শব্দ ঢুকিয়ে বাংলিশ নামক খিচুরি বানানোর চেষ্টায় রত।কারন শুদ্ধ উচ্চারনের ব্যাপারে কেউ কাউকে উৎসাহ দিচ্ছে না। বরং সবাই নিজের মতো চালিয়ে যাচ্ছে। যার কারনে বাংলা ভাষা তার বৈশিষ্ট্য এবং মাধুর্যতা হারাতে বসেছে।
যাইহোক, আজ এখানেই শেষ করছি। তবে, হ্যাঁ, ভাষা নিয়ে বাংলা ভাষায় আরো কিছু লেখার ইচ্ছা প্রকাশ করছি। বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে আরো কিছু কথা, আরো কিছু মনের ব্যাথা প্রকাশের চেষ্টা করবো আমি। যদিও আমি জানি ভাষা নিয়ে কিংবা সৃষ্টিশীল লেখা নিয়ে আমাদের মাঝে আগ্রহ নেই। দেখা যাক, বর্তমান আকাশ সংস্কৃতির কুপ্রভাব আমাদের কোথায় নিয়ে যায়!
ধন্যবাদ সবাইকে।
If you do not understand Bengali, you can read the text by Google Translate if you want. Some words about the practice of Bangla language have been shared here.
আমি মোঃ হাফিজ উল্লাহ, চাকুরীজীবী। বাংলাদেশী হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। বাঙালী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য লালন করি। ব্যক্তি স্বাধীনতাকে সমর্থন করি, তবে সর্বদা নিজেকে ব্যতিক্রমধর্মী হিসেবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করি। পড়তে, শুনতে এবং লিখতে ভালোবাসি। নিজের মত প্রকাশের এবং অন্যের মতামতকে মূল্যায়নের চেষ্টা করি। ব্যক্তি হিসেবে অলস এবং ভ্রমন প্রিয়।
Subscribe me on DTube: https://d.tube/#!/c/hafizullah