ঔপনিবেশিক যুগের ইতিহাস আমরা কম বেশী সবাই জানি। সে যুগে আন্তর্জাতিক আইন নামে কোন কিছুর অস্তিত্ব ছিল না। শক্তিই ছিল সকল ন্যায়-অন্যায়ের মাপকাঠি। স্বার্থই ছিল সকল বোঝাপড়া এবং ভাগ-বটোয়ারার কেন্দ্রবিন্দু। কলোনিয়াল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কয়েকটি শক্তি, যেমন- ব্রিটেন, ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল এবং ইতালির দিকে তাকালে তা বোঝা যায়। দুনিয়ার যে অংশটি যে ঔপনিবেশিক শক্তির অধীনে থাকতো সে শক্তিটিই হতো ঐ এলাকার নিয়ন্ত্রক। তাদের চোখের ইশারায় কেউ গোলাম থেকে রাজা হতো, আবার রাজাকে চৌরাস্তার মোড়ে ক্রুশবিদ্ধ করে ঝুলিয়ে দেয়া হতো।
ঔপনিবেশিক যুগে খণ্ড-রাজ্যগুলোতে যদিও নাম কা ওয়াস্তে একজন স্থানীয় শাসক বসিয়ে দেয়া হতো, কিন্তু অর্থনীতি, বিদেশনীতি থেকে নিয়ে সবগুলো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের চাবি থাকতো বহিরাগত শক্তির হাতে। স্থানীয় শাসকদের মর্যাদা একজন ভৃত্যের চেয়ে বেশী থাকতো না। উপমহাদেশে মীর জাফর, মীর কাশিম এবং মিসরে মুহাম্মাদ আলী পাশার বংশের শাসকেরা এর বড় উদাহরণ। ইংরেজরা যখন যাকে চাইতো ক্ষমতায় বসাত, আবার যাকে চাইতো আস্তাবলে নিক্ষেপ করতো। হালের ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের প্রাদেশিক মুসলিম সরকার প্রধানরা এবং আফ্রিকার সাবেক ফরাসী কলনীগুলোর বর্তমান শাসকরা এর লেটেস্ট উদাহরণ হতে পারে।