আমিঃ সালাম আব্বু।
আব্বুঃ ওআলাইকুম আসসালাম! সালামি দাও আম্মা!
আমিঃ অ্যাঁ!?
আব্বুঃ দাও আম্মা! সালামিটা দাও, বাইরে যেয়ে এক কাপ চা খেয়ে আসি!
আমিঃ আরে! এখানে এই আমি হচ্ছি গরীব, বেকার, অসহায় এক ছোটো মানুষ! তুমি না!
সকাল বেলাটা এরকম লস প্রজেক্টের মতো শুরু হলো!
বড়ই মর্মাহত হলাম।
বড় হয়ে দেখি ভালোই জ্বালা হলো! ছোটোদেরতো দিতেই হয়, এখন যারা প্রবীণ তাঁদেরও দিতে হচ্ছে!
শংকা হলো সারাদিন আদৌ কোনো সালামি মিলবে নাকি খালি দিতেই হবে!
এই মন্দার বাজরে দু'একজনের কাছে থেকে যাও পেলুম, তার বহুগুণ দিয়েই দিলুম দুপুর না গড়াতেই!
এখন আর কারো সাথে দেখা সাক্ষাৎ করছিনা! চুপ করে ঘরের মধ্যে কাটিয়ে দিচ্ছি।
পাড়ার চাচীরা আমাদের বাড়িতেই ঈদের নামাজ পড়ে সবসময়।
আম্মা তাঁদের নেত্রী।
আমি চুপ করে ঘুমিয়ে থাকার ভান ধরে পড়ে ছিলাম। শুনছি তারা সহাস্যে কলরবে আম্মার কাছে আমার খোঁজ জানতে চাইছে!
বছরে একবার সালামি পায় তাও একজনের কাছ থেকে (মানে আমার থেকে) সুতরাং সেটা হারানোর রিস্ক আম্মা নেয় নাই দেখা গেলো।
এই দল বেশ ভয়ংকর! একবার তাদের খপ্পরে পড়লে আর রক্ষে নাই!
আমাকে বাগে পেলে প্রথম আঘাত হানবে বিবাহ কেন্দ্রিক। বিয়ে কবে হবে, বিয়ে কবে করবা ইত্যাদি ইত্যাদি!
সে আঘাত ঠেকাতে না ঠেকাতেই সামলে ওঠার আগেই পালটা আঘাত হানবে "চাকরি করো (যদিও এখন বেকার) সালামি দাও"
আপাতত আমি এসব যুদ্ধ বিগ্রহ চাইনা!
একটা শান্তির ঘুম চাই!
বয়স কুড়ি পেরুনোর পর থেকে ঈদগুলোর আমজে যেন বর্গের ব্যস্তানুপাতিক হারে কমতে থেকেছে। আর এখন প্রায় তিরিশে পৌঁছে, ঈদ কেবলই একটি উপযুক্ত, নির্ঝঞ্জাট ঘুমের নাম বৈ কিছু নয়!
অনেক বছর পর এলাকায়, বাড়িতে ঈদ করলাম বোধহয়। তাও এক প্রকার বাধ্য হয়েই!
পুরো রমজান মাস ব্যাপী ঈদের বাজার আর করা হয়না, মেহেদী দেয়া নিয়ে আসর বসেনা, সপ্তাহব্যাপী ঈদের দিন থেকে শুরু করে ঈদের সপ্তম দিন পর্যন্ত কবে কখন কোথায় বেড়াতে যাব সেসব পরিকল্পনাতো হয়নই না!
এলাকায় আসার পরে স্কুল-কলেজের বন্ধু-বান্ধব যে ক'জনের সাথে সোশ্যাল-মিডিয়ায় যোগাযোগ আছে, নক দিয়েছিলাম হাল-হকিকত জানতে। সবাই বিয়েশাদী করে সংসার, শশুরবাড়ি সামলে মহা ব্যস্ত!
ইবলিশ চত্ত্বরের জমজমাট পুকুর পাড়টা খাঁ খাঁ করছে। চারিদকে কেমন বৈরী আবহ।
যেন আশেপাশের সব অদৃশ্য বাসিন্দারা উঁকি মেরে এই আগুন্তুককে এক মনে পর্যবেক্ষণ করে চলেছে।
দোকানি মামারা কেউ আর এখন চেনেনা। আগের দোকানিদের খোঁজও কেউ জানেনা।