রাই-কিশোরী অমনিবাসের সব সহজে খুঁজে পাওয়া যাবে নীচে দেয়া #RaiAnirudhha হ্যাশট্যাগে।
বোকা রাই-কিশোরী,
আশা করি সব কিছু কুশল মঙ্গল আছে।
তোমাকে লিখার জন্য প্রকৃতস্থ হয়ে মনোবল করে উঠতে উঠতে কেটে গেছে বহুদিন।
যেদিন তোমার চিঠিটা হাতে পেলাম, সোজা সমীরদা'র বাসায় চলে গিয়েছিলাম।
আচ্ছা তুমি কি রাগ করলে দ্বিতীয়কেউ তোমার চিঠিটা পড়লো বলে!? তুমিতো জানোই, সমীরদা আমার কাছে কি!
আর ওই মুহুর্তে আমার এই সুতীব্র হতশা, অপার্থিব সুখ কিংবা অপ্রাপ্তির মর্মবেদনা এক সাথে এমন জগাখিচুড়ি পেকে এমন হয়েছিলো, আমার এই অপ্রকৃতস্থের মত অবস্থায় দাদাই ছিল একমাত্র ঠাই!
যাকজ্ঞে সেসব কথা।
দাদাও চুপচাপ পড়ে আবার ফিরিয়ে দেয়! দাদা জানতো আমার সে সুপ্ত প্রণয়ের কথা। দাদা বহুবার সাহসও দেবার চেষ্টা করেছিল আমাকে জানো!
যদিও আমি স্বৈরাচারীর মত তোমার সব কবিতাগুলোর সমস্তটা জুড়ে নিজেকে কল্পনা করে নিতাম।
তোমার সব গল্পের নায়কের ভূমিকায় নিজেকে ভেবে নিতাম।
তোমার সেই অবাক হয়ে চোখ বড়বড় করে চাওয়া দৃষ্টি, পরিবেশ পরিস্থিতি ভুলে সেই খিলখিল করে হেসে উঠা, সেই নাক কুঁচকানো, মুখ বাঁকানো, গাল ফোলানো!
তোমার অভিব্যক্তির ব্যাপ্তি আমায় এত মুগ্ধ করতো যে ইচ্ছে করে তোমাকে খোঁচাতাম!
একটা মানুষের অভিব্যক্তি দেখতেও যে এতটা ভালো লাগতে পারে তোমাকে যে দেখেনি সে বুঝবে না।
আহা রাই!
কি দিন ছিলো আমাদের!
তুমি এত অনন্য ছিলে, মনে হতো আমাদের সাধারণের মাঝের কেউ নয় এ! এত জ্ঞান, এত সুপিরিয়র চিন্তাধারা, এত মায়া!
যেই তোমার সংস্পর্শে আসতো সেই তোমাকে পছন্দ করে ফেলতো! আমাদের মাঝে তোমাকে বরং দেবী মনে হতো আমার কাছে।
অস্পৃশ্যা!
যাকে দূর থেকে ভালবাসা যৌক্তিক।
তোমার সিঁথিতে সিঁদুর পরানোর চিন্তাটাই আমার হৃদকম্প বাড়িয়ে দিত বহুগুণ।
আর তুমি কিনা বলছো, ভালবাসো জানলে আমি অহংকারী হবো! সে দুঃসাহস আমার হতে পারতো!
আসলে আমি, আমরা আমাদের মত সাধারণেরা সবাই ই ধর্ম, সমাজ, জাত, কুলের শেকলে বাঁধা। আমরা স্রষ্টাকে কেবল ভয়ই পাই, তোমার মত করে তাকে আরাধনা করতে পারিনি। তাই তোমাকে দিয়ে আমার ঘর আলো করবার কথা ভাবার দুঃসাধ্যও করিনি।
কিভাবে এই অপদার্থ, নস্যি এক কাপুরুষের প্রেমে পড়লে তুমি আমি এখনো ভেবে কূল পাইনে।
তোমাক সেদিন খুব পরিণত লাগছিলো।
মনে হলো, সেদিনের সেই চপলমতি পাড়াকুঁদুলি মেয়েটা হুট করেই এক পরিণত নারী হয়ে গেলো!
তোমার মেয়েটাও তোমার মতই হয়েছে মনে হলো।
চঞ্চল, অস্থির সর্বদা!
তোমার কপালের বিন্দুবিন্দু ঘামে, চোখ ছুঁয়ে যাওয়া সে হাসিতে কেনো যেনো সুখীই মনে হলো তোমাকে।
অবশ্য এও জানি সবকিছুতে মানিয়ে নেবার এক অপূর্ব ক্ষমতা আছে তোমার।
চিঠিটা লিখছি আর আমার চাপা কষ্টে দলা পাকিয়ে ওঠা কান্নাকে গেলার চেষ্টা করছি।
তোমার অমন আকুলতাকে আমার বোধহয় প্রশ্রয় দেয়া উচিৎ হচ্ছেনা।
আমার বোধহয় উচিৎ ছিল তোমাকে এসব না জানিয়ে নির্ঝঞ্জাট দিনানিপাত করতে দেয়া।
কিন্তু পারলাম না বলে ক্ষমাপ্রার্থী।
কাপুরুষ স্বার্থেন্বষী প্রেমিক হবার পাশাপাশি নির্লজ্জ, স্বৈরাচারী হওয়া হও্যাকে থেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলাম না।
তোমার মত যদি একটু গুছিয়ে লিখতে পারতাম!
তার'চে বরং আমরা সুখী, সংসারী থাকি।
তোমার কপালে অঢেল সুখ থাকুক, আমার ভালবাসার মায়াটাও থাকুক।
ভালো থেকো খুব।
আর দুঃসাহসী হতে না পারা এই কাপুরুষ, অপদার্থটা প্রেমিকটাকে ক্ষমা করে দিও।
অনিরুদ্ধ
পুনশ্চঃ
সত্যি বলতে ভীষণ দেখতে ইচ্ছে হচ্ছে তোমায়, কতদিন চোখ ভরে দেখিনা, দুটো কথা বলতে ইচ্ছে হচ্ছে। সেদিনের অল্প দেখায় তৃষ্ণাটা চাগিয়ে উঠেছে বহুগুণ।