অনেকদিন পর বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দিয়েছে। প্রায় দেড় বছর পর আমরা সবাই আবার ক্যাম্পাসে চলে আসি। ক্যাম্পাসে আমরা একটা ফ্লাট নিয়ে থাকি সবাই। ক্যাম্পাস থেকে যার দূরত্ব ৫/৬ মিনিটের হাটার রাস্তা হবে। আমাদের বাসার সবাই ৩/৪ দিনের মধ্যে এসে গেছে৷ সবার উপস্থিতিতে অনেকদিন পরে বাসাটা আবার উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে।
এভাবে কিছুদিন কেটে গেলো। নিজেদের মধ্যে কিছুটা অবসাদ কাজ করছিলো। তাই আমরা ভাবতেছিলাম কি করা যায়। সবার মতামতের ভিক্তিতে আমরা ঠিক করলাম আমরা একদিন নিজেদের মধ্যে একটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করবো। আমরা ফ্লাটে ১২ জন ছিলাম। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম আমরা নিজেদের মধ্যে খেলাধুলায় আয়োজন করবো। সেজন্য আমরা ক্রিকেট এবং ফুটবল খেলাকে বেছে নিলাম। এখোন আসলো পরিকল্পনার পালা।
সবার সিদ্ধান্ত অনুয়ায়ী আমরা রাতে বসলাম পরিকল্পনা করার জন্য। ফুটবল ও ক্রিকেট দল নির্ধারণ করার জন্য আমরা রেফেল ড্র এর ব্যাবস্থা করলাম। লাল এবং সবুজ দল নামে সবাইকে দুটি দলে ভাগ করে খেলা নির্ধারণ করা হলো। দলের প্লেয়ার ভাগ করার পর্বটি ছিলো অত্যন্ত আকর্ষণীয় পার্ট। সবার থেকে ১০০ টাকা করে চাঁদা নির্ধারণ করা হলো খেলা শেষে পার্টি করার জন্য।
পরিকল্পনামতো আমরা পরদিন খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে গেলাম। আজ আমাদের ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হবে। সবাই খেলার প্রস্তুতি নিয়ে মাঠের উদ্দেশ্যে বের হয়ে গেলাম। আমরা আমাদের আরেক বন্ধুকে রেফারি হিসেবে নিযুক্ত করলাম খেলা পরিচালনা করার জন্য। আমাদের মধ্যে কেউ ই তেমন পারদর্শী ছিলাম না, ফলে অনের খুনসুটি আর দুষ্টুমির মধ্যদিয়ে কোন গোল ছারাই শেষ হয় আমাদের ফুটবল ম্যাচটি।
বিকেলে আমরা আবার বের হয়ে গেলাম ক্রিকেট খেলার উদ্দেশ্যে। পূনরায় পূর্ব নির্ধারিত দলে ভাগ হয়ে আমরা খেলায় নেমে পরলাম। এই ম্যাচে সবুজ দলের প্লেয়াররা আমাদের থেকে ভালো হওয়ায় আমরা ধারনা করছিলের ওরা সহজেই জিতে যাবে খেলাটি। কিন্তু অনেক অঘটন এক মাধ্যমে আমরা জিতে জাই খেলাটি। শেষ ওভারে আমাদের প্রয়োজন ছিলো ১০ রান। অসাধারন ২ টি চারের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত জয় হয় আমাদের সবুজ দলের। খেলাটি ছিলো অনেক আনন্দের৷ জয়ের উল্লাসে কোন কমতি ছিলোনা আমাদের৷ মোটামোটি একটি মিছিলের মতো হয়ে গেলো আমাদের।
সবশেষে আসলো আমাদের খাওয়ার পালা। আমরা নির্ধারন করলাম পুরান ঢাকার বিখ্যাত খাবার কাচ্চি খাবো সবাই মিলে৷ সন্ধ্যায় সবাই মিলে বের হলাম কাচ্চি খাওয়ার উদ্দেশ্যে । হোটেলে গিয়ে সবাই বসে পরলাম কাচ্চি খেতে। সবাই একসাথে মিলে খাওয়ার আনন্দ আসলে ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
সবাই মিলে একসাথে আড্ডা দেওয়া, খেলাধুলা করা এবং সবশেষে একসাথে মিলে খাওয়ার এক অন্যরকম অনুভূতি ! এই দিনটি ছিলো আমার এখন পর্যোন্ত বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সবচাইতে আনন্দের দিন। এই দিনটি কখোনও ভুলে যাওয়ার মতো নয়। সব দিনগুলো যদি এই দিনটার মতো হতো তাহলে কতোই না ভালো হতো ।☺️☺️☺️