জীবন প্রবাহমান! সময়ের পরিবর্তনে স্কুল কলেজের গন্ডি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনও শেষের পথে। হয়তো কিছুদিন পর সমাপ্তি হবে ছাত্রজীবনেরও। প্রায় দের যুগ ধরে এই ছাত্রজীবনে রয়েছে অনেক পূর্নতা আর অপূর্ণতা। রয়েছে হাজারো স্মৃতিময় অধ্যায়, যা ভাড়ি করেছে স্মৃতির পাতাকে।
জীবনের এই সময়টাতে এসে মনে হচ্ছে জীবনের সবচাইতে ভালো সময়গুলো পার করে ফেলেছি। হয়তো কখনও আর ফিরে পাবোনা এই দিনগুলোকে।
হঠাৎ করেই মনে চাইছিলো কলেজের ক্যাম্পসটাকে ঘুরে দেখতে, নিজের স্মৃতির পাতাকে একটু উল্টিতে দেখতে। প্রায় দুই বছর হয়ে গেছে কলেজ ক্যাম্পাসে যাওয়া হয়নি। আসলে ইচ্ছা থাকলেও জীবনের ব্যস্ততায় সুযোগ হয়ে উঠেনি।
ঈদের ছুটিতে সকল বন্ধুবান্ধব বাড়িতে থাকায় কয়েকজন বন্ধু মিলে পরিকল্পনা করলাম কলেজ ক্যাম্পাসে একটা ছোটখাটো আড্ডা দেওয়ার। প্রথমে অনেকে আসার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেই আমরা 8 থেকে 10 জন। তাতে কি ৮/১০ ই বা কম কিসের।
একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই কলেজের উদ্দেশ্যে রওনা হই আমরা। আমার বাড়ি থেকে 15 /20 কিলোমিটার দূরে হলো অনেকেরই তা কয়েক ঘন্টার রাস্তা। তাই সবাইকে বলা হয়েছিল একটু আগেভাগেই বের হতে। বন্ধুবান্ধব আড্ডায় বসলে কি আর অল্প সময়ে শেষ হয়!
আমি পৌঁছে যাই বেলা বারোটার মধ্যেই। সবাই আসতে আসতে দুপুর দুইটা। শুক্রবার হওয়াতে জুমার নামাজ আমরা পাশের একটা মসজিদেই পরে নেই। এই কিছুদিনে প্রায় সবকিছুই পরিবর্তন হলেও মসজিদটা সেই আগের মতই আছে।
[পুকুরপার]
[কলেজের জনপ্রিয় রাস্তা]
[কলেজ ক্যাম্পাসে হরিন]
ক্যাম্পাসটা আর আগের মত নেই, নতুন নতুন গাছ আর উঁচু দেয়াল জায়গা করে নিয়েছে এই অল্প কয়েকটা বছরে। যাইহোক পরিবর্তনটা ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যটাকে বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে।
সবচাইতে বেশি পরিবর্তন এসেছে ছেলেদের হোস্টেলে। পুরনো টিনের হোস্টেলটা এখন কয়েক- তলা দালানে পরিনত হয়েছে। সেই পাচ নাম্বার রোমের এখন আর কোন চিহ্ন নেই। এই পাচ নাম্বার রোমটাকে ঘিরে ছিল হাজার স্মৃতি আর হাজারো স্বপ্ন । শুধুমাত্র ঘুমের জন্য কতোবার যে স্যারের হাতে মাইর খেতে হয়েছে তা হিসেব নেই, কয়েকবার তো হোস্টেলের সামনের পুকুরেও নামতে হয়েছে। প্রচন্ড শীতে হাটুপানিতে নামিয়ে রাখতো স্যার।
এই ক্যাম্পাসেই জীবনে প্রথম কাউকে ভালো লেগেছিলো।সেই মানুষটাকে ঘিরে রয়েছে হাজারো স্মৃতি। ক্লাস শেষে লেক নাইনে তার জন্য দাঁড়িয়ে থাকা। ক্যাম্পসের বৈকালি ব্রিজে তার সাথে বসে কথা বলা আরো কতো কি। কলেজ জীবনের সাথে সাথে সেও হারিয়ে গেছে স্মৃতির পাতায়।
[মেয়েদের হোস্টেল😊]
যাইহোক, সব বন্ধুরা মিলে একসাথে আড্ডা আর খাওয়াদাওয়ার পর সন্ধ্যায় নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা হই সবাই। ক্যাম্পাসটাকে ফেলে আসতে খুব কষ্ট হচ্ছিলো। মনে বলছিলো, পারবো কি আবারো ফিরে আসতে?