দুর্দান্ত এক জয় দিয়ে বিশ্বকাপের শুরুটা রাঙ্গালো বাংলাদেশ দল। বিশ্ব মঞ্চের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ মুখোমুখি হয়েছিল আফগানিস্তানের বিপক্ষে। ব্যাটিং বোলিং এবং ফিল্ডিং তিন ফরমেটেই দুর্দান্ত পারফরমেন্সের মাধ্যমে ছয় উইকেটের ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ দল। আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে জয়ের মাধ্যমে টানা তিনটি বিশ্বকাপে জয় দিয়ে সূচনা করার রেকর্ড গড়লো বাংলাদেশ দল। ২০১৫ সালেও এই আফগানদের হারিয়ে বিশ্বকাপের সূচনা করেছিল বাঙালিরা। সেবার বিশ্বকাপে সেমিফাইনালেও খেলেছিলো বাংলাদেশ দল।
২০১৫ বিশ্বকাপের পর ২০১৯ বিশ্বকাপে দক্ষিন আফ্রিকার বিপক্ষে জয় এবং ভারত বিশ্বকাপে আফগানদের হারিয়ে বিশ্বকাপের শুরু করলো বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে এমন জয় বাংলাদেশ দলের আত্মবিশ্বাসকে যে বহুগুনো বাড়িয়ে তুলবে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা! ভারত বিশ্বকাপে কতদূর যেতে পারবে সাকিব-মুশফিক বাহিনী? পারবে কি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ অর্জন সেমিফাইনালকে ছাড়িয়ে যেতে?
বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তানের মধ্যাকার ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় ভারতের ধর্মশালায় অবস্থিত হিমাচল প্রদেশ ক্রিকেট এসোসিয়েট স্টেডিয়ামে। ম্যাচের শুরুতে বাংলাদেশ ক্যাপ্টেন সাকিব আল হাসান টসে জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়৷ আফগানের অল্প রানে আটকে দেওয়াটাই ছিলো তার মূল লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য পূরনে আফগানের প্রথম বেটিংয়ে আমন্ত্রণ জানায় বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের আমন্ত্রণে আফগানদের হয়ে শুরুতে ব্যাটিং এ আসে রহমানুল্লাহ গুরবাজ এবং ইব্রাহিম জাদ্রান। এই দুই ওপেনার আফগানিস্তানকে দারুন শুরু এনে দেয়। দলীয় ৪৭ রানের মাথায় ইব্রাহিম জাদ্রান সাকিব আল হাসানের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে আউট হলে ভাঙ্গে এই জুটি। এক উইকেট হারানোর পরও ভালোভাবেই এগিয়ে যাচ্ছিলো আফগানিস্তান দল। মাত্র দুই উইকেট হারিয়ে তারা দলীয় শতরান পূর্ণ করে। তারপরেই শুরু হয় আফগানিস্তানের ব্যাটিং বিপর্যয়।
মেহেদী হাসান মিরাজ এবং সাকিব আল হাসানের দুর্দান্ত বোলিংয়ের পাশাপাশি শরিফুল ইসলাম-তাসকিন আহমেদের ওয়েল কন্ট্রোল বোলিংয়ে মাত্র ১৫৬ রানেই অল-আউট হয় আফগানরা। মাত্র ৪৬ রানে মহামূল্যবান আটটি উইকেট হারায় দলটি। মেহেদী মিরাজ এবং সাকিব আল হাসান তিনটি করে উইকেট তুলে নেয়।
আফগানিস্তানের দেওয়া ১৫৭ রানের জবাবে ব্যাটিং করতে নেবে বাংলাদেশের শুরুটাও যে ভালো হয়েছিলো তেমনটি নয়! মাত্র পাচ রানেই আউট হয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরে জুনিয়র তামিম নামে পরিচিত তানজিদ তামিম। তার বিদায়ে একটু পরেই বাংলাদেশ দলের সহ অধিনায়ক লিটন কুমার দাস বোল্ড আউট হয়ে সাজঘরের পথ ধরলে চাপে পরে যায় বাংলাদেশ। সেই চাপ সামাল দিয়ে দলের জয়টা নিশ্চিত করে দুই তরুণ খেলোয়ার নাজমুল হাসান শান্ত এবং মেহেদী হাসান মিরাজ। বোল হাতে তিন উইকেটের পর ব্যাট হাতেও অর্ধশত পূরণ করে এই অলরাউন্ডার। ম্যাচ শেষে তার এই অসাধারণ পারফরমেন্সের কারণে ম্যাচসেরার পুরস্কার জয় করে মিরাজ।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে পারফরমেন্সের ধারা বাংলাদেশ তাদের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ও ধরে রাখবে সেই আকাঙ্ক্ষা সাধারণ ভক্ত সমর্থকদের। বাংলাদেশ তাদের বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচে আগামীকাল মুখোমুখি হবে ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দল এবং বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। এই ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য অনেক কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। বাংলাদেশ ২০১১ এবং ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে পরপর দুবার ইংল্যান্ডকে হারিয়েছে। ভারত বিশ্বকাপে বাংলাদেশ কি পারবে ইংল্যান্ড বাধা অতিক্রম করতে?