পড়ন্ত বিকেলে। 🌅

Words
453
Reading
3 min
Listen
Play
4y

জীবন এক হাজারো ব্যাস্ততার নাম। ব্যস্ততার মাঝেই কেটে যাচ্ছে সময়। একের পর এক ক্লাস, কুইজ, এসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন দিতে দিতে হাপিয়ে পরেছি। একটু বাইরে বের হওয়ার সুযোগ বেড় করতে পারাটাই এখন বড় ব্যাপার। ঘুম বাদে সারাদিন পড়ালেখা, আর পড়ালেখা এবং শুধুই পড়ালেখা। অবসাদ আমাকে ঘিরে ধরেছে চারপাশ থেকে।

নানা ব্যাস্ততায় ক্লান্ত আমি সিদ্ধান্ত নিলাম আজ ক্লাসই করবো না। একটু নিজের মতো করে দিনটা পার করবো। সকালে ঘুম থেকে উঠি দশটার দিকে। তারপর ক্ষুধা নিবারনে পছন্দের নুডুলস রান্না করে খেয়ে আবারো বিছানায় শুয়ে পড়ি মুভি দেখবো বলে। কিন্তু মুভি আর দেখা হলোনা। হঠাৎ করে ম্যাসেজ আসলো কাল আরেকটা কুইজ। এটা দেখে মাথায় বাজ পড়ার মতো। বিন্দু মাত্রও প্রিপারেশন নেই আমার৷ তাই না চাইতেও বসলাম পড়ার জন্য।

কোনরকমে কিছুক্ষন হালকা পাতলা পড়ালেখা করে আবার বসলাম নাটক দেখবার জন্য। নাটক দেখতে দেখতে কোন দিক দিয়ে ঘুমও চলে এসেছে। তাই আবারো ঘুমের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। ঠিক সেই সময় বন্ধুরা এসে বললো, চল বাইরে থেকে ঘুরে আসি, অনেকদিন বাইরে যাওয়া হয়না। প্রথমে ঘুমের কারণে আমি যেতে সম্মত হলাম না। কিন্তু তাজিউল আর মেহরাজুল বায়না করে বসলো যেতেই হবে৷ শেষ পর্যন্ত আর মানা করে থাকতে পারলাম না, তৈরি হয়ে বেরিয়ে পড়লাম বিকেলটাকে উপভোগ করার উদ্দেশ্যে।

IMG_20220621_180648.jpg

আজকে আমাদের গন্তব্য তুরাগ নদীর পাড়। আমাদের বাসা থেকে ৪/৫ কিলোমিটার দূরে তুরাগ নদীর অবস্থান। লম্বা সরু রাস্তা হয়ে আমিন গ্রুপের মধ্য দিয়েই এগিয়ে চললাম তুরাগ নদীর উদ্দেশ্যে। কিছুটা সামনে যেতেই চোখে পড়লো অনেকে মিলে ক্রিকেট খেলায় ব্যস্ত। আহা! কতোদিন হলো ক্রিকেট খেলা হয় না, কতই না পাগল ছিলাম এই ক্রিকেট খেলার জন্য। কিন্তু আজ একটু সময়ই হয়না ক্রিকেট খেলার জন্য। কিছুক্ষন আড্ডা মারতে মারতে দর্শকের মতো খেলা উপভোগ করে এগিয়ে চললাম তুরাগ নদীর উদ্দেশ্যে।

IMG_20220621_180546.jpg

IMG_20220621_180705.jpg

এবার হাঁটার পথে চোখে পড়লো নতুন একটা রেস্টুরেন্ট তৈরি হয়েছে। বাইরে থেকে দেখতে খুব সুন্দর লাগছিলো, আর আমাদের ক্ষুদাও লেগেছে ভিষন। তাই হালতা পাতলা একটু খেয়েই নিলাম। খেয়ে আবারো আমরা তুরাগ নদীর পথে। রাস্তার চারপাশের বড় বড় গাছগুলো রাস্তার সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলেছে হাজার গুনে। সবচাইতে সোন্দর লাগছিলো ঝাই-গাছগুলোকে। তারা যেনো আকাশ ছুতে চায়। কিছুক্ষনের জন্য মনে হচ্ছিলো স্বপ্নের মতো কোন রাস্তায় এগিয়ে চলছি সামনের দিকে।

IMG_20220621_180907.jpg

IMG_20220621_180733.jpg

IMG_20220621_181200.jpg

IMG_20220621_181238.jpg

IMG_20220621_181330.jpg

ঘুরতে করতে এক ঘন্টা পর আমরা পৌছে যাই তুরাগ নদীর পারে। নদী এখন সেঁজেছে নতুন রূপে। পানি বেড়েছে অনেক। নদীর ঠান্ডা বাতাস পুরো শরীরটাকে একবারে শীতল করে দিলো। এদিকে অনেকেই নৌকা করে পার হচ্ছিলো নদী। বিশেষ করে রাস্তা সংস্কারের কাজ চলায় অনেকেই বেছে নিয়েছে এ পথ। কিছুক্ষন দাড়িয়ে থেকে নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করে এবার আমাদের পালা বাসায় ফিরার। ভার্সিটির বাসে করে অল্প সময়ে আমরা পৌছে যাই সবুজ ক্যাম্পাসে। বিকেলের ক্যাম্পাসটা অনেক সুন্দর দেখাচ্ছে। অনেকগুলো ছেলে মাঠে খেলাধুলায় ব্যস্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরুতে আমিও প্রতিদিন বিকেলে ক্যাম্পাসে ছুটে যেতাম খেলাধুলা করার জন্য। কিন্তু ওই যে বললাম, এখন আর সময় হয়ে ওঠে না।

IMG_20220621_181408.jpg
IMG_20220621_181421.jpg
IMG_20220621_181437.jpg

বিকেলের শেষ সময়টা ক্যাম্পাসে কাটিয়ে এবার পালা বাসায় ফিরার। দীর্ঘদিন পর বিকেলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভালোই লেগেছেব ভিষন। আজকার দিনটার পূর্ণতা পেল বিকেলের কিছু ভালো সময়ে।

পড়ন্ত বিকেলে। 🌅 | Ecency