জীবন নদীর সময়ের স্রোত বহমান! দেখতে জীবন থেকে বিদায় নিয়েছে আরো একটি বছর। আজ পহেলা জুলাই বাইশ পেরিয়ে পদার্পন করেছি তেইশ তম বছরে৷
১৯৯৯ সালের পহেলা জুলাই এই সুন্দর পৃথিবীতে আগমন ঘটেছিলো একটি ছোট্ট শিশুর। বাবা মা খুব যত্ন করে নামটা রেখেছিলো ফাহিম। যেই নামের আরবি অর্থ হলো বুদ্ধিমান, মেধাবী, বোধশক্তিসম্পন্ন । এই নামের কতোটা পূর্ণতা আজ পর্যন্ত দিতে পেরেছি জানা নেই, তবে চেষ্টা করে যাচ্ছি।
আজ মনে হচ্ছে, এইতো সেদিন পদার্পণ করেছিলাম বাইশ তম বছরে৷ বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা আর ঘুরাঘুরি করে স্মৃতিময় দিনটি পার করেছিলাম। তবে সেবার জন্মদিনটা পরিবার থেকে দূরে থেকেই পালন করতে হয়েছিলো। পরীক্ষার জন্য বাড়িতে আশা হয়ে ওঠেনি। বন্ধুদের মাঝে দিনটা পার করলেও পরিবারের অপূর্ণতাটা আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছিলো আমার জন্য পরিবার কতোটা গুরুত্বপূর্ণ।
তাই আল্লাহ আমাকে এবার সুযোগ করে দিয়েছে বিশেষ এই দিনটা পরিবারের মাঝে থেকে পার করতে। হা এবারো ছিলো পরিক্ষা নামক বাধা! তবে তা শেষ হয়েছে আমার জন্মদিনের ঠিক একদিন আগে। পরিক্ষার আগের দিন রাতেই আমি বাড়ি ফিরার উদ্দেশ্য ব্যাগটাতে আমার প্রয়োজনীয় সবকিছু গুছিতে রেখেছিলাম। বাড়ি ফিরার আনন্দে সারাটা রাত ঘুম হয়নি ঠিকমতো। খুব সকালে ঘুমে থেকে উঠে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে চলে যাই পরিক্ষা দিতে। কোনরকমে পরিক্ষা দিয়ে এসেই সবাইকে বিদায় জানিয়ে ব্যাগপত্র নিয়ে বেড়িয়ে পরি ভার্সিটির বাসের উদ্দেশ্যে।
ভার্সিটি বাসে করে শহরে ফিরা এবং তারপর আরেকটি বাসে করে কুমিল্লার উদ্দেশ্য এগিয়ে চলার পুরোটা পথ জুড়েই ছিলো বাড়ি ফিরার আনন্দ। তবে এই আনন্দে কিছু বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলো তীব্র যানযট। চারঘন্টার রাস্তা আট ঘন্টায় পারি দিয়ে আবশেষে পৌছে যাই পরিবারের কাছে।
তবে আমি অন্যদের মতো কেক কেটে জন্মদিন পালনে আগ্রহী নই। জীবনে দু-একবার ছাড়া কখনোই কেক কেটে জন্মদিন পালন করিনি৷ আমার বাবা চেষ্টা করতো জন্মদিনে দু'আ পড়াতে। কিন্তু এবার জন্মদিনে আমরা পরিকল্পনা করি ভিন্ন কিছু করার।
আজকের দিনটাকে স্মরণীয় করে রাখতে আমরা সিদ্ধান্ত নেই কিছু অসহায় এবং অভাবগ্রস্থ মানুষের পাশে দাড়ানোর৷ গ্রামে কয়েকজন বন্ধু মিলে আমরা বিভিন্নভাবে গ্রামের অসহায় মানুষকে সাহায্য করার চেষ্টা করে থাকি। আজকের দিনেও আমরা কিছু অভাবগ্রস্থ ও এতিম শিশুদের খুজে বের করি এবং কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে তাদেরকে পায়জামা- পাঞ্জাবি কিনে দেওয়ার ব্যাবস্থা গ্রহন করি। ইনশাল্লাহ দুই-একদিনের মধ্যেই আমরা তাদেরকে নতুন জামা উপহার দিতে সক্ষম হবো।
জীবনের খাতা থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেলো আরো একটি বছর৷ জানিনা আর কতোদিন বাচবো এই সুন্দর পৃথিবীতে, তবে যতোদিন বাচবো সবাইকে নিয়ে একটু ভালোভাবে বাচতে চাই। অসহায় ও অভাবগ্রস্থ মানুষগুলোর পাশে দাড়াতে চাই। ইনশাল্লাহ মহান সৃষ্টিকর্তা আমাকে সেই তৌফিক দান করবেন।