আমাদের এবারের চট্টগ্রাম ভ্রমন পর্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পার্ট ছিল কায়াকিং। পুরো ভ্রমনের ক্লান্তিকে অল্প সময়েই দূর করে দিয়েছে এখানকার পাহাড়ের মাঝখানে পানির আপরূপ সৌন্দর্য। বিকেলের সূর্যের আলো হেলে পড়েছিলো পানির বুকে। চারদিকে পাখির সুরেলা কন্ঠে গান এক চমৎকার পরিবেশ তৈরি করেছিলো।
এই ভ্রমনের শুরুতে আমরা চন্দ্রনাথ পাহাড় জয় করতে উঠে পরে লেগেছিলাম। দুই ঘন্টার কঠিন সাধনার পর আমরা পৌছে যাই চন্দ্রনাথের চূরায়। ১০০০ ফুট উপর থেকে চারদিকটা খুব সুন্দর দেখাচ্ছিলো। বিশেষ করে পুরো চট্রগ্রাম শহটাকে পাখির চোখে দেখার সুযোগ হয়েছিলো। দূরের সমুদ্রটাকেও দেখা যাচ্ছিলো পাহাড়ের চূড়া থেকেই। পাহাড়ে ভালো কিছু সময় অতিবাহিত করে আমরা আবারো গাড়িতে করে রওনা হয়ে যাই নতুন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে।
সারাদিন গুলিয়াখালি সমুদ্র সৈকত আর খৈয়াছড়া ঝর্ণায় ঘুরাঘুরির পর আমাদের শেষ মন্তব্য মিরেরসরাইয়ের মহামায়া লেক। ঝরনা থেকে লেগুনা করে পৌছাতে পৌছাতে তখন সূর্য পশ্চিম দিকে হেলে পড়েছে৷ ঘরির কাটায় ৫ বেজে ৩০ মিনিট। প্রবেশ ফি ৩০ টাকা দিয়ে টিকেট কেটে ঝাউগাছের মধ্যে দিয়ে হাটতে হাটতে লেকের কাছে পৌছে যাই আমরা৷
বিকেলে লেক সেজেছে অপরূপ রূপে। অনেকেই ট্রলারে করে ঘুরে বেড়াচ্ছে, অনেকে আবার বুটে করে কায়াকিং। আমাদের হাতে সময় ছিলো মাত্র এক ঘন্টা। তাই কায়াকিং করবো নাকি ট্রলার নিয়ে পুরো লেকটা ঘুরে বেড়াবো তা নিয়ে পড়লাম দোটানায়। শেষ পর্যন্ত আমি কায়াকিং করার সিদ্ধান্ত নিলাম, সাথে একজন ছোট ভাই। বাকিরা ট্রলারে করে লেক ঘুরে দেখবে৷ তবে তাদের ইচ্ছে ছিকো ট্রলারে করে ঘুরে এসে কায়াকিং করবে। তবে এখানেই তো বিপত্তি, সময় তো নেই৷
আমরা দুজন ৩০০ টাকার বিনিময়ে একঘন্টার জন্য বুট ভাড়া করলাম। শুরু হলো আমাদের কায়াকিং পর্ব। বিশাল লেকে বুটে করে গান শুনতে শুনতে ঘুরে বেড়াতে খুব ভালো লাগছিলো৷ সাথে সূর্যের শেষবেলার আলো পরিবেশটাকে আরো সুন্দর করে তোলেছে। লেকের মাঝখানের উচু পাহারগুলোতে পাখিরা কিচিমিচি করছে। একটু দূরে একেবারেই নিস্তব্ধ আশেপাশের এলাকা। চারদিকে কেউ নেই। একটা সময় হালকা ভয় লাগা শুরে হলে আবারো তীরের কাছা ফিরে আশা।
কিছুক্ষন পর দেখলাম বাকিরা ফিরে এসেছে ট্রলারে করে। কিন্তু আমাদের এখনো ৩০ মিনিট বাকি। আমরা এবার কায়াকিং করতে করতে চলে যাই লেকের অন্য পাশে। লেকের পানিগুল বেশ পরিষ্কার৷ ইচ্ছে করছিলো গোষল করতে নেমে পড়তে। তবে তা আর কি করে হয়! সময় তো নেই। একেবাতে সন্ধ্যায় শেষ হয় আমাদের কায়াকিং পর্, যা ছিলো এই ভ্রমনের সবচাইতে আকর্ষণীয় ও সুন্দর মূহুর্ত৷