আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ,
আশা করি আমার বাংলা ব্লগ পরিবারের সকল সদস্য পরম করুণাময় মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে সুস্থ ও ভালো আছেন।
মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় নিয়ামত হলো সুস্থতা। কিন্তু নানা প্রয়োজনে আমাদের শারীরিক পরীক্ষার জন্য কিংবা চিকিৎসার খাতিরে হাসপাতালে যেতে হয়। গতকাল আমারও তেমনই একটি কাজে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল নোয়াখালী এবং পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে হয়েছিল। আজকের ব্লগে সেই অভিজ্ঞতাটিই আপনাদের সাথে শেয়ার করছি।
১. নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে গমন:
গতকাল দিনের শুরুতেই আমি ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল নোয়াখালীতে যাই। হাসপাতালের সামনের পরিবেশটা বেশ ব্যস্ত ছিল। অটো, রিকশা এবং মানুষের আনাগোনায় বেশ সরগরম ছিল চারপাশ। হাসপাতালের বিশাল গেইট ও ভবনের দৃশ্যটি সত্যিই চোখে পড়ার মতো। আমার কিছু শারীরিক পরীক্ষার রিপোর্ট সংগ্রহের প্রয়োজন ছিল। তাই সরাসরি ভেতরে চলে গেলাম রিপোর্ট ডেলিভারি কাউন্টারের উদ্দেশ্যে।
২. রিপোর্ট সংগ্রহ ও অপেক্ষা:
ভেতরে যাওয়ার পর নির্দিষ্ট কাউন্টারে গিয়ে দেখা গেল বেশ কিছু মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। ১, ২, ৩ ও ৪ নম্বর রিপোর্ট ডেলিভারি কাউন্টারের সামনে আমি কিছু সময় অপেক্ষা করি। ব্যস্ততার মাঝেও সবাই সারিবদ্ধভাবে নিজ নিজ রিপোর্ট সংগ্রহ করছিলেন। হাসপাতাল মানেই মানুষের অপেক্ষা ও উদ্বেগের এক স্থান, তা কাউন্টারে দাঁড়িয়ে মানুষের মুখগুলো দেখলেই বোঝা যায়।
৩. পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও বুকের এক্স-রে পরীক্ষা:
হাসপাতালের কাজ শেষ করে এরপর আমি পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার নোয়াখালী শাখায় যাই। সেখানকার পরিবেশ বেশ সুশৃঙ্খল ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ছিল। সেখানে মূলত চেস্ট (বুকের) এক্স-রে পরীক্ষার জন্য গিয়েছিলাম।
এক্স-রে রুমে প্রবেশ করার পর আধুনিক শিমাদজু (Shimadzu) এক্স-রে মেশিনের সাহায্যে পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। টেকনিশিয়ান খুব যত্নসহকারেই পরীক্ষাটি সম্পন্ন করলেন। এক্স-রে রুমের ভেতরের পরিবেশ ও আধুনিক প্রযুক্তি দেখে বেশ ভালো লাগলো।
৪. সন্ধ্যা ও দিনশেষে ফেরা:
সব কাজ শেষ করতে করতে বেশ সময় লেগে যায়। ততক্ষণে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। ওপর থেকে শহরের আবছা আলো আর দূর থেকে প্রদীপের মতো জ্বলে ওঠা রাস্তার লাইটগুলোর দৃশ্য সত্যিই অসাধারণ দেখাচ্ছিল। শহরের এই রাতের রূপ দেখতে দেখতে দিনের সকল ক্লান্তি ভুলে ঘরে ফিরলাম।
সব মিলিয়ে গতকালকের পুরো দিনটি বেশ ব্যস্ততা ও দৌড়াদৌড়ির মধ্য দিয়ে কেটেছে। মহান আল্লাহর কাছে লাখো শুকরিয়া যে সব কাজ ঠিকঠাকভাবে শেষ করতে েছি। আপনারা সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন যেন সুস্থ থাকতে পারি।
সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে!
বিনীত,
দেলোয়ার হোসেন (Delowar Hossain)
ইউজারনেম: @delowar41
অবস্থান: নোয়াখালী, বাংলাদেশ