মসজিদে দান করার চেয়ে স্ত্রীকে আইস্ক্রিম কিনে দেয়াতে সাওয়াব বেশি!
মসজিদে দান করার চেয়ে স্ত্রীকে আইস্ক্রিম কিনে দেয়াতে সাওয়াব বেশি! . লেখক : ড: আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহঃ এটা কিভাবে? . যেমন : পুরুষদের উচিত ঘরে ঢুকেই সালাম করা এবং সবার সাথে হাসিমুখে কথা বলা। বিনা খরচে সওয়াব হাসিলের এগুলোই সুযোগ। স্ত্রী বা পরিবারের যে-ই থাকুক হাসিমুখে সাক্ষাতটি এনে দেবে আপনাকে অনেকগুলো সওয়াব। . রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “লা তাহকিরান্না মিনাল মা’রুফে শাইয়ান ওয়ালাও আন তালক্বা আখাকা বি ওয়াজহিন ত্বালেক”- অর্থাৎ *কোন নেক আমলকেই তুচ্ছ মনে করো না, এমনকি তোমার ভাইয়ের সাথে হাসি মুখে সাক্ষাত করার ব্যাপারটিকেও*-(মুসলিম) . আল্লাহ্ তা’আলা এরশাদ করেন, *“যখন তোমরা ঘরে বাড়িতে প্রবেশ করো, তোমরা একে অপরকে সালাম প্রদান করো। সালাম হচ্ছে আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য একটি পবিত্র ও বরকতময় শুভেচ্ছা”*- (সূরা নূর: ৬১) . দুঃখের বিষয় হলো, অনেক সময় দেখা যায় যে, লোকটি বাইরে লোকজনের সাথে হাঁসি-খুশি, ভদ্র ও অমায়িক ব্যবহার করছেন, ঘরে ফিরছেন বদ মেজাজী স্বভাব নিয়ে, স্ত্রী-পরিবার তার রাগান্বিত চেহারার দিকে তাকিয়ে ভয় পেয়ে যান। কোন কিছু জিজ্ঞেস করা মাত্রই তেলে- বেগুনে জ্বলে উঠেন। একটা মানসিক সন্ত্রাস সৃষ্টি হয়ে গেলো তিনি বাড়ি আসার সাথে সাথেই। ছেলেমেয়েরা ভয়ে যার যার কক্ষে আশ্রয় নিলো, পিতার মুখোমুখি যেন না হওয়া লাগে। . অথচ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এরশাদ করেছেন, *“তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তি উত্তম যে তার স্ত্রী-পরিবারের সাথে উত্তম ব্যবহার করে”*-(ইবনে মাজাহ)। . রাসূলুল্লাহ (সা) বাহির থেকে ঘরে এলে সালাম কালাম এর পরই মিস্ওয়াক করে নিতেন। কারণ, দীর্ঘক্ষণ বাইরে থাকলে ও খাওয়া দাওয়া না করলে মানুষের মুখে দুর্গন্ধ পয়দা হওয়ার আশংকা থাকে। এ সতর্কতা ও খেয়াল এজন্য যে, পরিবার-পরিজন যেন তার কাছ থেকে আনন্দ ও খুশি ছাড়া কোন ধরনের কষ্ট না পান। এমন কি মুখের সামান্য দুর্গন্ধও যেন তাদেরকে কষ্ট না দেয়।বলুন তো ভাই, স্ত্রী-পরিবারের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে আল্লাহর কাছ থেকে অফুরন্ত সওয়াব হাসিল করতে আপনার কত টাকা খরচ হবে? . যে মহিলাটি আপনার জন্য সারাদিন অপেক্ষা করছে, ঘুরে ঢুকে তার সাথে বদমেজাজ না দেখিয়ে মায়া, মমতা, সোহাগভরা দু’টো কথা বলতে আপনাকে কতো পরিশ্রম করতে হবে?