অনেক মানুষ মনেকরে ফর্মাল্ডিহাইড এবং ফরমালিন একই রাসায়নিক পদার্থ। আসলে তেমনটা না। ফরমালিন হলো ফর্মাল্ডিহাইডের একটি ভিন্ন নমুনা। এতে ফর্মাল্ডিহাইডের সাথে ৩৭% পানি মিশ্রিত থাকে। ফরমালিন মূলত জীবাণুনাশক, ব্যাকটেরিয়ানাশক এবং ছত্রাকনাশক।
পোষাক শিল্পে ফরমালিনের প্রচুর ব্যবহার রয়েছে। কাপড়ের রঙ নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা এবং কাপড়ের দীর্ঘ ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য ফরমালিন ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও কোন অটোমোবাইল ম্যানুফেকচারিং, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক এবং প্লাস্টিক শিল্পে ফরমালিন ব্যপক হারে ব্যবহার করা হয়। তবে ফরমালিনের মুল ব্যবহার হলো কোন কিছুতে যাতে ব্যকটেরিয়া এবং ছত্রাক জন্মাতে না পারে তা নিশ্চিত করায়। এছাড়াও পঁচন-নিবারক হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়। ফরমালিন আমাদের কোষ কিংবা টিস্যুর পরিবর্ধন এবং পরিমার্জন করে থাকে।
খাদ্যে ফরমালিন ব্যবহার কতটা ক্ষতিকারক তা বলা মুশকিল। ফরমালিন খাদ্যে ব্যবহার করা হয় পঁচন-নিবারন করার জন্য। যেহেতু এটি খাদ্য বিশেষ করে ফলমূল এবং কাঁচা শাকসবজিকে দ্রুত পঁচনের হাত থেকে রক্ষা করে তাই খাদ্যে ফরমালিন ব্যবহার করা যায়। তবে এর একটি নিদ্দিষ্ট মাত্রা রয়েছে। অতিরিক্ত পরিমাণ ফরমালিন ব্যবহার আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এর ফলে বিভভিন রকমের রোগ এমনকি ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে।
Source মাছ; যেখানে ফরমালিন ব্যবহার করা হতে পারে।
জাতি সংঘের খাদ্য এবং কৃষি সংস্থা (ফাও) তাদের এক প্রতিবেদনে বলেছে স্বল্প পরিমাণ ফরমালিনে কোন ক্ষতি নেই। তবে অতিরিক্ত পরিমাণ ফরমালিন আমাদের শরীরকে দুর্বল করে দিতে পারে। আমাদের কোষগুলোকে ক্যান্সেরের মত ভয়ানক রোগের জীবণু বহনে সক্ষম করে তুলতে পারে।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে কম পরিমাণ ফরমালিন ব্যবহার করলে আমাদের তেমন কোন ক্ষতি না হলেও অতিরিক্ত পরিমাণ ফরমালিনের ব্যবহার আমাদের ব্যপক ক্ষতি সাধন করতে পারে। আর যেহেতু আমাদের বাঙ্গালি কৃষক কিংবা বিক্রেতা ফরমালিন ব্যবহারে সর্বোচ্চ পরিমাণ সম্পর্কে অজ্ঞাত তা তারা নিজেদের মন মত পরিমাণ ফরমালিন ব্যবহার করে থাকে। এতে করে আমাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। আমাদের তাই এ ব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিৎ।