তারপর সব ভালোলাগা আঁধারে নিজের খোঁজ পেলো,
মধুমাখা মুখখানা তার চাঁদের আলোয় তরুছায়ার কালিরেখা,
কালো থেকে ক্রমশ শুভ্রতার সফেদ বেলীফুলের ঝাঁক সুখদেখা ;
মৌ মৌ ঘ্রানে ছেয়ে গিয়েছে মনপ্রান, অন্তর তিলের নিরাশ উঠোনে।
খুঁজেছি তাহারে কার্তিকের নিরালা দুপুরে মনের মন্দিরে উদাস চাহনিতে,
যেন শুনতে পাই তার ঝুমঝুম নিক্কণ কঙ্কন ঘুঙুর চরণের ধ্বনি চারধারে,
স্তব্ধ থেকে ক্ষীণ প্রহরে সব কোলাহল থেমে যায়, থেমে যায় পাখিদের আনাগোনা,
দূরের ভীড় থেকে ভেসে আসে রিনিঝিনি হাসি, চির অমলিন প্রেয়সীরূপ মুখখানা।
অনুভবে ঠাসা কম্পমান হৃদমাঝারে হুতাশ যেন সে চোখের দেখায় পলকের চাহনি,
রূপসা নদীর জলে ভাসিয়ে নিয়ে যায় মনের নদী, খেয়াঘাটের মাঝি তার আমি,
ফিরে ফিরে আসে তাহার প্রতি প্রেম, অনুরাগের ভরা এক স্বপ্ন, স্বেচ্ছাচারী খেয়াল,
জোনাকির আলোয় তাকে আগলে রাখি আলিঙ্গনে, সে ও আমি - মাঝে অস্পৃশ্য দেয়াল।
অন্ধকার রাতের চাঁদের আলোর আভা সারাবেলা দীঘির কালোজলে স্নিগ্ধতার চাঁদের ঢল,
জমেছে রাত এ ধারে বিরান প্রান্তরে বসে বসে তোমার কথা ভেবে কল্পনা ধরায় টলমল,
সাদা শাড়ি পরে এসেছ তুমি কাছে, মিশেছ হৃদয়ের ছটফটে অসুখে যেখানে তন্দ্রা ঘনঘোর,
তারা ঝলমল, ফসলের মাঝে হু হু বাতাসের রেশ মেলে না - তুমিময় স্বপ্ন থামবেনা আর।
এ জগতে দীর্ঘ এক পথচলা কেটেছে একেলা পথে হেঁটে, হঠাৎ ভীড় হতে এলে প্রিয়তম কেউ,
নির্জনের মন সারা জীবন ধরে বুনেছে স্বপ্ন, শালিকের নীড়ের পাশে যেখানে আছে নদীর প্রবোল ঢেউ,
জীবনের বহু লেনাদেনা যাচ্ছে যাক তবে হীরার চেয়েও মূল্য যাহার, তারে বাহুডোরে না রাখি,
সমস্ত দিনরাত্রি তোমার মতো আমাকেও ঘিরে ধরে, ফিরে চাই বারেবারে সেদিনে মেলে আঁখি।
মাঝখানে বছর অনেক কেটে কেটে সময় মুছে দিল পায়ের রেখা,হয়েছিল যেদিন ক্ষনিকের দেখা,
সে মুহূর্ত, সে নিটোল সংকট রূদ্ধশ্বাস দিবস সূর্যের আনন্দলোক স্মৃতির পাতাতে ক্ষয়ে গেল,
পাখির পালক মিশে গেল মাটির মাঝে, রয়েছ কি আগের মতন জানতে চায় সে চাঁদের আলো,
হঠাৎ ধরো সে বিরান প্রান্তরে তোমারে পাই আবার, অনেক বছর পর -যখন তুমি আমি পথভুলো।