২দিনের লম্বা বিরতির পর অবশেষে লেখক ফিরলো সেই প্রেমকাহিনীর বাকি অংশ নিয়ে। কি? কোন কাহিনী? জানতে চাইলে চোখ রাখুন জি-বাংলায়... থুক্কু এই পোষ্টে।
আগে যা ঘটেছে...
উষ্ণর ভালোলাগা শুরু হলো রুমি কে। উষ্ণ কিন্তু এখনো বুক ফুলিয়ে বলতে পারবে যে, তার মনে রুমির জন্য কোন ফিল ই ছিল না আগে, কিন্তু সাগর আর মতিন এর এই সেই কথা শুনে উষ্ণ প্রেমে পরে যায় রুমির।
টাইটেল দেখেই আপনাদের বুঝার কথা যে উষ্ণর প্রেম টা একদিকের ছিল, মানে শুধু উষ্ণই প্রেমে পড়েছিল আর রুমির মনোভাব তখন ঠিক এমনটা... "এখনো হাই স্কুলে উঠি নাই, প্রেম কি?"
কিন্তু উষ্ণ সেই ছোটবেলা থেকেই ঠিক এমন মনোভাবের ছেলে... "সে ভালোবাসুক বা না বাসুক, আমি না বলেই ভালোবেসে যাবো"।
তো শুরু হয়ে গেল উষ্ণর one-sided ভালোবাসা। সাগরের তখন ভেল নেই কোন, যদিও সাগর মনে মনে কষ্ট পেত। একবার পরীক্ষার আগে উষ্ণ, রুমিসহ বেশ কিছু ছাত্রছাত্রী স্কুলে কোচিং ক্লাস করতো কিন্তু সাগর করতো না। একদিন কোচিং এ গিয়ে রুমির সাথে উষ্ণ দুষ্টুমি করছিল আর ঠিক সেই সময়ে সাগর পাশের মাঠে খেলছিল। জানালা দিয়ে ওদের দুষ্টুমি দেখে জানালার কাছে এসে সাগর সেই পরিমান কেমন কেমন যেন করতেছিল। ওর ভাব দেখে মনে হচ্ছিল যেন ওর বউয়ের সাথে অন্য কেউ প্রেম করছে। উষ্ণ তখন মনে মনে বলছে "শালা, ভালোবাসা কুরবানি দিয়ে আবার এতো কষ্ট কিসের? আমি কি বলছিলাম মহৎ হতে?"
উষ্ণ ছোটবেলা থেকেই কম্পিউটারে ওর বয়সী আবার অনেক বড়দের তুলনায়ও বেশি স্মার্ট ছিল। ওদের স্কুলে কম্পিউটার প্র্যাকটিক্যাল ক্লাস হতো সপ্তাহে একদিন। শিক্ষকরাও কম্পিউটার সেভাবে চালাতে পারতো না যেভাবে উষ্ণ পারতো। উষ্ণের টাইপিং স্পিড দেখে তো সবাই অবাক থাকতো যেখানে বাকিদের সবাই কি-বোর্ড letter খুজে খুজে নিজের নাম লিখতো। এমনকি স্কুলের প্রধান শিক্ষক সিদ্দিক স্যারও উষ্ণকে দিয়ে স্কুলের কম্পিউটারে ভিডিও গেমস সেটাপ করাতো। তো কোন এক প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসে উষ্ণকে দায়িত্ব দেওয়া হলো ক্লাসের সবাইকে কিছু জিনিস শিখানোর। একে একে রুমির পালা আসলো। রুমি কম্পিউটারে বসে কি-বোর্ড চাপছিল কিন্তু সেরকমভাবে পারছিল না কিছু। এতে কোন সমস্যা? উষ্ণ তো ছিল পাশেই। রুমির হাত কম্পিউটার মাউসের উপরে আর উষ্ণ হাত রাখলো রুমির হাতের উপরে তারপর মাউস চালানো শিখালো। তখন উষ্ণর মনে কোন গানটা বাজছিল অনুমান করতে পারবেন?
প্রথম প্রেমের, প্রথম ছোয়া... কি দুষ্টু মিষ্টি নেশা...
এভাবে করে উষ্ণের one-sided প্রেম ভালোই চলছিল। কিন্তু প্রত্যেকটা প্রেমের গল্পেই ভিলেন থাকে, জানেন তো? উষ্ণর প্রেমে ভিলেন ছিল ওর ই ২টা কাছের বান্ধুবি তানিয়া আর সাড়া। রুমি বাদে ক্লাসের প্রায় সবাই জানতো উষ্ণর প্রেমকাহিনী। এমনকি ২/১ টি শিক্ষিকাও জানতো বা আন্দাজ করতে পেরেছিল। উষ্ণ চেয়েছিল ওর এই প্রেম এভাবেই না বলা থেকে যাক। কিন্তু এই গল্পের ভিলেন রা সেটা আর হতে দিল না। কি একটা ঘটনার পর রুমি কে সব বলে দিল, উষ্ণ তখন আড়াল থেকে সব দেখল আর স্কুলের পিছনের চিপা দিয়ে বাসার ছাদে গিয়ে ভাবতে লাগলা, "এ মুখ এখন আমি কিভাবে দেখাবো রুমি কে? আর যাবো না স্কুলে"।
এরপর থেকে শুরু হলো রুমির দুরত্ব বজায় রাখার পালা। উষ্ণ নাহয় একটু বেশিই পাকনা ছিল অত ছোটবেলায়, কিন্তু রুমিই বা কতোটা ম্যাচিউর্ড ছিলো ভেবে দেখেন নইলে ওট্টুকু মেয়েও দুরত্ব বজায় রাখতে পারে? :D
উষ্ণ একবার কথা কাটাকাটির সময় রুমিকে শব্দ ছাড়া মুখের ইশারায় বলেই দিল সেই তিন শব্দের ইংরেজি কথাটা। এরপর রুমি তো রেগে ফায়ার। উষ্ণ রুমির প্রেমে এমনভাবে পড়েছিল যে সে জমানো ১০টাকা দিয়ে স্কুলের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের একটা ছবি কিনেছিল প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে যেই ছবিতে রুমি ছিল। ছবিটা কোথায় আছে এখন, উষ্ণ সেটা জানে না। তো এভাবে করে দিন গেল, মাস গেল, প্রাইামারি স্কুলের লাইফটা ফুড়োলো। তারপর দুইজন দুই স্কুলে আর একটা সময়ে রুমি এলাকা থেকে উধাও যদিও হাই স্কুলে ভর্তির স্লিপ নিতে গিয়ে প্রথম দেখাতেই উষ্ণ আরেকটা মেয়ের প্রেমে পড়ে যায় যেই গল্পটা হয়তো অন্য কোনদিন জানতে পারবেন। এরপর রুমির সাথে আর কখনো দেখা সাক্ষাৎ হয় নাই উষ্ণর। অনেক বছর পর উষ্ণর একটা ছ্যাচড়া বান্ধবি শুপ্ত উষ্ণকে ম্যাসজ করলো।
শুপ্তঃ ওই তোর রুমির কথা মনে আছে?
উষ্ণঃ কোন রুমি? কে রুমি? কিসের রুমি? হঠাৎ রুমি?
শুপ্তঃ বলতো কে?
উষ্ণঃ আরেহ চিনছি, ওই মেয়েটা না? আমার পিছে ঘুরঘুর করতো যে?
শুপ্তঃ 🤣🤣🤣🤣🤣
উষ্ণঃ আচ্ছা তারপর বল।
শুপ্তঃ যার জন্যে তুমি আর সাগর মারামারা করছিলা। ওর সাথে কথা হলো।
উষ্ণঃ কি বলিস এসব? কবে মারামারি করলাম? বউ কিন্তু পাশে, সংসারে আগুন লাগাইস না।
শুপ্তঃ তোর কথা জিজ্ঞাসা করলো। কি করস, বিয়ে করছস নাকি আর আইডি চাইলো, দিমু নাকি?
সংসারে আগুন লেগে গেল, আগুন নেভাতে উষ্ণ ব্যাস্ত হয়ে পড়লো আর এখানেই গল্পের সমাপ্তি ঘটলো।
"সমাপ্ত | The End"
"Be Good, Think Good and Do Good"