উষ্ণকে ভুলে জান নি তো? যেই উষ্ণের ছেলে বেলার প্রেম কাহিনী পড়েছিলেন বেশ কিছুদিন আগে সেই উষ্ণর কথা বলছি। ওহ, আপনি সেই গল্প পড়েন নি? সমস্যা নাই, এখান থেকে এবং এখান পড়ে নিতে পারেন।
হাই স্কুলে ভর্তির স্লিপ নিতে গিয়ে প্রথম দেখাতেই উষ্ণ আরেকটা মেয়ের প্রেমে পড়ে যায় যেই গল্পটা হয়তো অন্য কোনদিন জানতে পারবেন
হ্যা, আজ সেই গল্পটাই জানতে পারবেন আপনারা আর আমি আশা করছি গল্পটা খুব একটা খারাপ লাগবে না আপনাদের কাছে। তো পপকর্ণ হাতে নিয়ে বসে পরেন গল্প পড়ার জন্যে।
রুমির কাছে কিঞ্চিত ছেকা খাওয়ার পর উষ্ণ মোটেও বাঁকা হয়ে পরে নাই। প্রাইমারি স্কুল শেষ করে এবার উষ্ণ যাচ্ছে হাই স্কুলে। পাশের বাসার কাউসার মামার পরে থাকা বাই সাইকেল নিয়ে উষ্ণ একাই গেল হাই স্কুলের ভর্তি স্লিপ আনতে আর সাথে ছিল তার প্রিয় মামা। তার মামা রা সবাই ঐ স্কুল থেকেই লেখাপড়া করে বেড়িয়েছে তাই তার ও ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছা ছিল সে ঐ স্কুলেই লেখাপড়া করবে। বড় স্কুল, অনেক মানুষ, উষ্ণর ভিতরটা ধুপ...ধুপ...ধুপ করছিল। ভর্তির স্লিপ এর জন্য অপেক্ষা করছিল আর আশপাশ টা ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করছিল। হটাৎ কে যেন বলে উঠলো, আমার মেয়ের স্লিপ টা দেন। উষ্ণ ঘুরে তাকালো দেখার জন্যে যে মেয়েটা কে। ছোটবেলা থেকে বেশ কয়েকবার ক্রাশ খেয়েছে উষ্ণ কিন্তু এটা ছিল তার জিবনে প্রথম love at first sight. ছোট্ট কিউট মেয়েটাকে প্রথমবার দেখেই উষ্ণ প্রেমে পরে যায় যদিও সে তখন পর্যন্ত ভাবতেই পারে নাই যে সে এই মেয়েটার পিছন পিছন আগামি ৫টা বছর ঘুরতে থাকবে কিন্তু তার মন পাবে না। স্লিপ নিয়ে রাস্তায় সাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় সেই মেয়েটাই সামনে পড়লো আবার। উষ্ণর মনে ঘণ্টা বেজে উঠলো আর সাইকেলের স্পিড দিল বাড়িয়ে, দেখাতে হবে না তার সাইকেল চালানোর দক্ষতা? প্রেম হলে ভবিষ্যতে হয়তো তাকে নিয়ে কতবার সাইকেল টানতে হবে।
ঘটনা হচ্ছে গিয়ে... উষ্ণ তো সেই ছোটবেলা থেকেই একটা কথায় বিশ্বাসী আর সেটা হচ্ছে, সে নিজেই ভালোবেসে যাবে। ভালোবাসার কথা বলবে, তারপর প্রত্যাখ্যান যদি হয়, সেই রিস্ক টা নিতে চায় না সে।
স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর উষ্ণ বেশ কিছু নতুন বন্ধু পেল যার মধ্যে রাশেদ নামে ছোটখাটো বডিওয়ালা ছেলে টা তার অনেক কাছের বন্ধু হয়ে গেল অল্প সময়েই। রাশেদ এর আবার ক্রাশ ছিল লিজার আরেক বান্ধুবির উপর। ওহ আমিতো সেই মেয়েটার নাম বলতেই ভুলে গিয়েছি যেই মেয়েটার উপর উষ্ণ love at first sight ফিল করলো। হ্যা, তার নাম ই লিজা। তো, রাশেদ লিজার একটা বান্ধুবির প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছিল। তখন উষ্ণ, রাশেদ সহ বেশ কিছু ছেলের বাড়ির রাস্তা একদিকে ছিল আর তাদের ক্রাশ খাওয়া মেয়েগুলোর বাড়ির রাস্তাও একই দিকে ছিল। তো উষ্ণ আর তার বন্ধুদের একটা রেগুলার রুটিন হয়ে গেল। কিসের রুটিন? ঐ যে স্কুল ছুটির পরে মেয়েগুলোর পিছনে পিছনে হাটার রুটিন। পিছন পিছন হাটতো আর ভাবতো কবে একসাথে হাটবে। হাটার একটা পর্যায়ে রাশেদ সহ অন্যান্য বন্ধুদের বাড়ির কাছে চলে যাওয়ার কারনে উষ্ণ পরে একা হয়ে যায় রাস্তায় আর সামনে থাকে তার ক্রাশ লিজা। আরো কিছুক্ষন হাটার পর লিজাও অন্য রাস্তায় চলে যায় আর তখন উষ্ণ জলদি করে গিয়ে সামনে অন্য রাস্তা দিয়ে দূর থেকে তাকিয়ে থেকে লিজা কে দিনের শেষ বারের মতো দেখে নিত আর মনে মনে বলতো, "কালকে আবার দেখা হবে"।
কালকের কথা লিখতে গিয়ে মনে পড়লো... আমার কালকে বেশ কিছু কাজ আছে তো এখন কিছুটা গুছিয়ে নিতে হবে। তাই গল্পটা এখানেই সমাপ্ত, না সমাপ্ত না, বিরতি তে রাখি কি বলেন?
"বিরতি"
"Be Good, Think Good and Do Good"