This content got low rating by people.

খাচার পাখি ও মুক্ত পাখি -২

Words
255
Reading
2 min
Listen
Play
8y

image

প্রথম পর্বের পর.....

মার কথা শুনে রায়হান খুব খুশি হল। সে শুধু দিন গুণতে থাকে কখন শালিকের জোড়া মানুষের মত কথা বলবে। সে খুব যত্নের সাথে শালিক পাখি দুটি লালন পালন করতে থাকে। একদিন রায়হান পাখির খাঁচাটি বারান্দায় রেখে খাবার আনতে বের হয়। বাড়ি ফিরে এসে দেখে একটি শালিক আহত হয়ে পড়ে আছে এবং অপর শালিকটি খুব মন খারাপ করে বসে আছে। রায়হান বুঝতে পারল এটি দুষ্ট বিড়ালের কাজ। সুযোগ পেয়েই ওদের উপর ঝাপিয়ে পড়ে। অবশেষে রায়হান আর শালিক পাখিটি কে বাচাতে পারেনি। শালিক পাখিটি মারা যাওয়ার পর থেকেই রায়হানের খুব মন খারাপ। মা রায়হানকে সান্ত্বনা দিয়ে বলছে,
মন খারাপ করেনা বাবা, একটি পাখি তো এখনও আছে।
শালিক পাখিটিও এখন আর আগের মত নাচ গান করেনা, শিশ দিয়ে গান গায়না। সঙ্গী হারানোর পর কেমন জানি এক গুয়ে হয়ে গেছে। খাচার এক কোণে বসে সারাদিন আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে। একা এই ছোট খাচার ভিতর তার আর কোন সুখ নেই। রায়হান পাখিটিকে আরও বেশি আদর যত্ন করতে থাকে। তারপরেও পাখিটি আর আগের মত হাশি খুশি হয় না। সারাক্ষণ আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে। রায়হান দেখে খুব কষ্ট পায়। রায়হান মাকে জিজ্ঞেস করে,
মা পাখিটির কি খাচার ভিতরে থাকতে কষ্ট হচ্ছে। এখন আর আগের মত হয়না কেন? সারাক্ষণ শুধু মন খারাপ করে বসে থাকে। ও কি চলে যেতে চায়।
মা উত্তরে বলেন, তোমাকে যদি সারাদিন একটি ছোট ঘরে একা আটকে রাখা হয় তাহলে কি তুমি সুখে থাকবে? পাখিটিরও একা থাকতে কষ্ট হয়। মহা আকাশ ছেড়ে ছোট খাচায় বন্দি থাকার অনেক কষ্ট।
রায়হান সব বুঝতে পারে এবং পাখিটিকে ছেড়ে দেয়।পাখিটিও অনেক আনন্দের সাথে উড়তে উড়তে অন্য পাখিদের সাথে মিশে যায়।