নোকিয়া-১১০০
জীবনের প্রথম পাওয়া টা যে কত আনন্দের তা শুধু যে পায় সেই জানে, হোক সেটা মা-বাবা, ভাই-বোন, চাচা-চাচি, নানা-নানি কিংবা অন্য যে কোন মানুষের কাছ থেকেই পাওয়া হোক না কেন। আর সেটা যদি হয় নিজের টাকায় কেনা তাহলে তো আনন্দের কোন সীমা থাকে না। এত গেল পাওয়ার আনন্দ, এবার প্রথম পাওয়া জিনিসটা যদি হয় মোবাইল ফোন তাহলে আনন্দের পরিমাণটা কেমন হতে পারে একবার ভেবে দেখেছেন কি! হা আমি একটি মোবাইল ফোনের কথা-ই বলছি। ইংরেজি ২০০৬ সাল, আমি একটি ব্যাংকে চাকুরী নিয়ে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে যোগদান করি।
ব্যাংকে চাকুরী হলে ও ছোট পদ হওয়াতে তেমন বেশি বেতন ছিল না। যাই হোক বেতন দিয়ে তো আর শখকে বিচার করা যাবে না।আর মোবাইলের প্রতি একটা দুর্বলতা কলেজ জীবন থেকেই আছে।যখন দেখতাম আমার ফুফাতো ভাই সাইফুল বাংলালিংক অফারের সাথে পাওয়া একটা মোটোরোলা মোবাইল ফোন ব্যবহার করত, তখন থেকেই কেন জানি মোবাইলের প্রতি আসক্তিটা আর ও বেড়ে গিয়েছিল। যাই হোক মনে মনে পরিকল্পনা করতে লাগলাম যে কিভাবে একটা মোবাইল কেনা যায়।
খুজতে থাকলাম যে কম দামে একটা নতুন ফোন অথবা পুরনো একটি ফোন পাওয়া যায় কিনা। কথাটা আমি আমার রুম মেটের সাথে শেয়ার করলাম, সে আমাকে আশ্বাস দিল যে আমাকে মোবাইল ফোন কেনার ব্যাপার এ যথেষ্ট সহায়তা করবে। আমি অপেক্ষা করতে লাগলাম কখন সেই কাংখিত সময় আমার কাছে আসবে। দুদিন পর রুমমেট সিদ্দিক ভাই আমাকে জানায় যে তার ব্যবহিত মোবাইল ফোনটাই বিক্রি করে দিবে, আমি যদি ফোনটা নেই তাহলে নিতে পারি। তো আমি অনেক ভেবে দেখলাম দেখলাম তার ফোনটা কিনলে খারাপ হয় না, কারন এই কয়দিনে তার সাথে থাকতে থাকতে তার মোবাইল অপারেটিং সিস্টেমটা মোটামুটি অনেকটা শিখেই ফেলেছি।
অনেক ভেবে আমি আমার মনের অভিব্যক্তিটা ওকে জানিয়ে ফোনটা আমি নিচ্ছি বলেই তাকে জানিয়ে দিলাম। অনেক দামাদামির পর আমি ৩৭০০ টাকা দিয়ে সীম সহ মোবাইল ফোনটা কিনে নিলাম।
এবার দামশুনে সবাই হয়তো ভাবছেন যে ফোনটা মনে হয় টাচস্ক্রীন কিংবা বাটন মোবাইল ফোন হলে ও অনেক দামি ফোন।আসলে সেরকম কিছুই না, মোবাইলটা ছিল নোকিয়া-১১০০ মডেল। আসলে বাটন মোবাইলের মধ্যে এই মোবাইলটাই ছিল জনপ্রিয়তার তুংগে। মোবাইলটার অপারেটিং সিস্টেম ও ছিল খুব সহজ। মোবাইলটা হাতে পাওয়ার পর আমি সারারাত কাটিয়ে দিয়েছিলাম ফোনটাকে অপারেটিং করতে করতে, মনে হচ্ছিল আমি যেন হিমালয় জয় করে ফেলেছি।ফোনটা কেনার পর যে আমি কত খুশি হয়েছিলাম সেটা বলে বোঝাতে পারব না।আসলে প্রথমে কিছু পাওয়ার মজা বা আনন্দটাই অন্যরক।
চিত্রঃঃ নোকিয়া ১১০০ মডেল।