গল্পটা ২০১৬ সালের। সবেমাত্র আমি কলেজে ভর্তি হয়েছি। স্কুল জীবনে কখনও মেয়ে বন্ধু হয়ে উঠেনি আমার। তবে আমার বেশিরভাগ বন্ধুরাই দেখতাম প্রেম করতো। এখন যুগটাই এমন হয়ে গেছে যে, স্কুল জীবনেই ছেলে-মেয়েরা প্রেম করে। আমি অবশ্য একটু বোকা টাইপের ছিলাম, মেয়েদের এরিয়ে চলতাম সবসময়। তবে সাথের বন্ধুদের প্রেম করতে দেখে আমারো প্রেম করতে মন চাইতো 😊। আসলে বন্ধুদের দেখাদেখি এই চাওয়াটা তৈরি হয় আমার। কথায় আছে না, “ সজ্ঞ দোসে লোহা ভাসে ”। তাই আমি স্থির করেছিলাম কলেজে একটা প্রেম করতেই হবে 😇।
কলেজের প্রথম দিন ই একটা মেয়েকে খুব ভালো লাগে আমার৷ জীবনে প্রথম কাউকে এতোটা ভালো লেগেছিলো আমার। বন্ধুদের সাথে শেয়ার করার দু-দিনের মধ্যেই মেয়ের সব তথ্য তারা বের করে ফেলে৷ যার পরিবর্তে তাদেরকে ট্রিট দিতে হয় আমার। মেয়েটার নাম ছিলো স্বর্না , বাসা- মতলব। আমাদের সাথেই ভর্তি হয়েছে সে । সবচাইতে অবাক করা বিষয় ছিলো আমার রোল নাম্বারের পরের নাম্বারটি ছিলো তার।
তারপর থেকে প্রায় ই আমি তাকে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখতাম। যানি কাউকে লুকিয়ে দেখা অন্যায়, তারপরও মন শুধু তাকে দেখতে চাইতো। এভাবে কেটে যায় এক মাস। বন্ধুরা প্রায়ই তাকে নিয়ে দুষ্টুমি করতো, যার ফলে তার প্রতি আকর্ষনটা আরো বেশি বেড়ে যায়৷ আস্তে আস্তে ভালোলাগা রূপান্তরিত হতে থাকে ভালোবাসায়। কিন্তু তার সামনে দাড়ানোর সাহস ছিলোনা তখনো। সারাদিন শুধু তার কথা ভাবতাম- খাইতে, ঘুমাইতে এমনকি পড়ার সময়ও। তাকে অন্য ছেলেদের সাথে কথা বলতে দেখলে অনেক হিংসা হতো আমার। কোন কিছুতেই মন বসতে চাইতো না।
কিছুদিন পর আর তাকে না জানিয়ে থাকতে পারছিলাম না। মনে ছিলো তাকে হারানোর ভয়। কিন্তু তার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলার মতো সাহস ও ছিলোনা আমার। তাই আমি বন্ধুদের সাহায্যে তাকে জানালাম বিষয়টা। কিন্তু সে সরাসরি না করে দেয়৷ হঠাৎ করে এরোকম একটা প্রস্তাব, তাও আবার অপরিচিত কারো কাছ থেকে! সেই হিসেবে তার না করাটাই স্বাভাবিক । কিন্তু তবুও এই ব্যাপারটা মানতে খুব কষ্ট হচ্ছিলো আমার। মনে হচ্ছিলো এই বুঝি সব শেষ হয়ে গেলো। এই ঘটনার পর প্রায় এক সপ্তাহ কলেজে যাওয়া হয়নি আমার।
একদিন হঠাৎ একটা নাম্বার থেকে কল আসে আমার ফোনে। কল ধরতেই অচেনা এক কন্ঠ ভেসে আসে ওপাশ থেকে, যার সাথে আমি আগে পরিচিত নই। বিরক্তির শুরে সে আমায় বলে, “ আপনি কলেজে আসেন না কেনো? ” আমি কোন কারন না বলে তার পরিচয় জানতে চাই। প্রথমে সে তার পরিচয় দিতে না চাইলেও পরে বলতে বাধ্য হয়। আমি তাকে বললাম, ‘ আপনি তো আমার প্রস্তাব প্রত্তাক্ষান করেছেন , তাহলে এখন আবার ফোন কেনো দিয়েছেন? ’ সে আমাকে অনেকক্ষন বুঝিয়ে বন্ধুত্ব করতে বলে। কিন্তু আমি যাকে আমার করতে চাইতাম তার সাথে শুধু বন্ধুত্বতা আমি চাই না । এই বলে ফোন রেখে দিলাম।
তারপর থেকে প্রায়ই আমাকে সে ফোন দিতো। কিন্তু আমি তার ফোন রিসিভ করতাম না। তাকে দেখলে পাশ কাটিয়ে চলে যেতাম। এভাবে কেটে যায় কিছুদিন। শুরু হয় আমাদের অর্ধ বার্ষিক পরীক্ষা। পরিক্ষার হলে রোল নম্বর অনুযায়ী সে আমার পিছনে বসে। না চাওয়া সত্ত্বেও তার সাথে কথা বলা হতো মাঝে মাঝে। শুধু সে কিছু জানতে চাইলে যেনো আমি বলতে পারি, সেজন্য ভালোভাবে পড়ালেখা করে আমি পরীক্ষার হলে যেতাম আমি। আস্তে আস্তে আমাদের মধ্যে একটা বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠে।
গল্পটির বাকি অংশ থাকবে পরবর্তী পর্বে..........