বিষ্ঠা লেখনী

Words
586
Reading
3 min
Listen
Play
5y

মিনিট দশেক আগে দিয়ে ইংলিশ এ আমার রাইটারস ব্লক নিয়ে একটা লেখা লিখার চেস্টা করে যাচ্ছিলাম হাইভে পোস্ট করবো চিন্তা করে। অনেকদিন হাবাজাবা লেখা হচ্ছে না। সল্প দরের দার্শনিক হবার চেস্টা আমার অনেক দিনের। পরিচিত মানুষজন মাঝে মধ্যে আমার অতি উচ্চমার্গীয় দর্শন শুনে তেল, সাবাস বাহবা দিয়া যায়। আমারো ভাল লাগে। অতি উৎসাহের সাথে আমি আরো ঊচ্চমার্গীয় দর্শন চর্চায় নেমে যাই। কিন্তু উদানিং তাও আর করা হচ্ছে না। এমনই এক গ্যরাকলে পর গেছি যে কিছুই বের হয় না। শালার কি একটা অবস্থা ! হাইভে আগে এই আতলামি করে করেই তো পেটের বার্গার আর ফুস্ফুসের সিগারেট জোগাড় করতাম। কিছুদিন ধরে ট্রেডিং এ একটু ভালো করেটরে অহংকার এমন বেড়ে গেল যে ফাচুকি লেখাও ছেড়ে দিলাম। নব্য ট্রেডারদের বিগিনারস লাক বলে একটা জিনিশ খুব ভাল কাজ করে। আমার ও কি সুন্দর কাজ করে গেল কয়েক মাস। এখন কেন জানি আর করে না! ফাকে দিয়ে লেখা ছেড়ে দিয়ে এখন পকেটে বাস ভাড়াও থাকে না। তার সাথে অন্যের ওয়ালেটে এইচবিডির বহরের সাথে নিজের ফাকা মানিব্যাগ মিলিয়ে আমার মন হিংসা দিয়ে ভরে যাচ্ছে। তাই পোস্ট একটা জরুরী।

সে যাই হোক, ইংলিশ এ এসবই লেখার পায়তারা করতে করতে চিন্তা করে দেখলাম, অনেক দিন মায়ের ভাষায় লেখা হয়ে উঠে না। মনে প্রেমপ্রেম ভাব ও একটু প্রবল। কিছু একটা লিখে ফেলি, এক ঢিলে দুই পাখি মারি। আমার প্রেমিকার বাংলায় আবেগী লেখা ভালো লাগে। সাথে আমিও হাইভের একটা হাগু পোস্ট পেয়ে যাবো। সে ভেবেই নিচের কয়েক অনুচ্ছেদ লেখা।

যে বিকেলে কালোমেঘ ও উত্তরের বাতাস মিলিয়ে ঝুম প্রপাতের পরে সোনালি আলোর সাথে মাটির মিষ্টি গন্ধ উদাসীনতায় ডুবিয়ে মারে, সে রকম এক মুহুর্তে তার প্রেমে পরেছিলাম। অদ্ভুত সে প্রেমে নাকানি চোবানি খেয়ে মনের এ আকস্মিক ভাবাবেগ পরিবর্তন আমার জীবনে নতুন। পরীর মতন দেখতে একটা মেয়ের প্রেমে ডুবে গেলাম। সাদামাটা এক পরী। সাজে না, মুখে কিছু মাখে না, গলায় কিছু পরে না, বাংগালিয়ানার ছাপহীন এই মেয়ে আমার দেখা সর্বাত্মক বাংগাল এক মেয়ে।

ক্লান্ত রাতের চোখ জুড়িয়ে আসা ঘুমের মতন আমার মন জুড়িয়ে তার সিংহাসন জোরপুর্বক দখল করে নেয়া সেই দস্যি মেয়ে আমাকে তার অতি আপন, অতি মাত্রায় নিজ বানিয়ে ফেলল। এতই আপন যে অন্য কোন পরপুরুষ তার সাথে দুরত্তি মেলামেশা করলে মনে মনে সেই ছেলে কে ৪-৫ বার বিভৎস সব উপায়ে খুন করে ফেলি। তার প্রেমিক কে এইভাবেই চার-পাচশ বার মেরে ফেলা হয়ে গেছে আমার। নিজেকে এখন ধারাবাহিক খুনী মনে হয়। হলেই বা কি, তার জন্যে শ-পাচেক খুন করতে হয়ত সত্যি ই আমার বাধবে না।

নির্জনতা কে ভয় পাওয়া এই আমি এখন আর ভয় পাই না। সত্যই ভয় লাগে না। তা পরখ করে দেখবার জন্যে নিঝুম দ্বীপে রাতের দ্বিপ্রহরে একা একা হেটে দেখেছি। মাথার উপরে ঝুলন্ত আকাশ গঙ্গা, পায়ের নিচে কনকনে ঠান্ডা বালু, আর উপসাগরের দিক হতে ধেয়ে আসা বাতাস ও তেমন একা একা লাগে নি। চোখ বুঝলেই তার নির্মল চেহারা, আর বুক ভরে নিশ্বাস নিলে লোনা বাতাসের মধ্যেও খুজে পাওয়া তার চুলের গন্ধ আমাকে বিন্দুমাত্র একা লাগতে দিলো না।

কিন্তু, রাতে তার দেয়া ঘুমানোর আবেগ আপ্লুত ডাক না শুনলে নিদ্রা দেবী আর ধরা দিতে চান না। এরকম সব রাতে একাকিত্ব আমার খুব সন্নিকটে থাকে। যে একা থাকা আমার অভ্যেস ছিল, তা এখন অত্যাচার মনে হয়। যে পালিয়ে যাওয়া আগে আমার জন্মগত শিক্ষা ছিলো, তা ভুলে আমি আজ এই নারীর সাধনা করি। হয়ত শেষ পর্যন্ত আমাদের দুরত্ব যোজন যোজন ক্রোশ হয়ে যাবে, তার আগ পর্যন্ত, যত সাধনা করা যায় করে যাব।

এ পর্যন্ত লিখে থেমে যাওয়াই ভালো মনে হচ্ছে। মনের অনেক গভীরে লুকিয়ে রাখা কিছু কথা আবেগের সাথে বের হয়ে যাবার চেষ্টা করে যাচ্ছে। লাগাম টেনে না ধরলে পাগলা ঘোড়া পারস্যে চলে যাবে। মরুভুমির দেশে, তেলের দেশে আপাতত কামলা দিতে যাবার আমার কোন ইচ্ছা নেই। হাগুপোস্ট এখানেই শেষ। সাথে গভীর রাতে নিঝুম দ্বীপের বালুকাবেলার একটি অপ্রাসঙ্গিক ছবি দেয়া থাকুক।

(817)_1.jpg

বিষ্ঠা লেখনী | Ecency