তাল চুরি করে খেয়েছি ভেবে মনে কইরেন না যে অামরা চোর, অথবা কোনো অপরাধ করেছি। প্রতিবছর এই সময়ে অামরা পাড়ার পোলাপান অাম, কাঠাল, তাল এগুলো খেয়ে থাকি। যদিও এগুলোর গাছ সবার বাড়িতে বাড়িতেই অাছে। সবাই একসঙ্গে হেটে গিয়ে দূরে কোথাও থেকে খেয়ে অাসার যে কেমন মজা, যারা এভাবে খেয়েছেন কখনো তারা বলতে পারবেন। মূলত অামরা জানি, এই তালের গাছ, এটি কারো হাতে রোপন করা গাছ নয়। এটি প্রকৃতভাবেই জন্ম হয়েছে এবং পরবর্তীতে সিমানার ভিত্তিতে মালিকানাধিন হয়ে গেছে। কিন্তু প্রকৃত অর্থে এই গাছগুলো জন্মনিতে অনেক বছর লেগে যায়, সে ক্ষেত্রে দেখা যায়, অামার দাদা যদি এরকম গাছ রোপন করে তাহলে তার নানি, পুতির অামলে সেই গাছে ফল ধরবে। সুতরাং, এই ফলগুলোর প্রতি কারোর ধরা বাধা নিয়ম থাকেনা। সেই সুবাদেই, গতকাল সকাল বেলা সবাই প্লান করলাম তাল চুরি করে খেতে যাবো চলো।
চুরি করে কথাটা এজন্যই বলেছি, অাসলে এই চুরি কথাটার ভিতরে কিছু এক্সাইটেড অার অানন্দ নিহীত অাছে। কেননা, তাল তো সবাই নিজের গ্রামেই অার বাড়িতেই অাছে, বা বাজারে খুব সস্তায় বিক্রি হয়। যেকোনো ভাবে লিগাল উপায়ে খেতেই পারা যায়। তাহলে চুরি করতে যাওয়া লাগবে কেনো? অাসলে অামরা ছোটবেলা থেকে এরকম একটা অভ্যাসে পরিনত হয়েছি, সবাই একসঙ্গে হবো, দা-চাকু হাতে নিবো, জঙ্গলে জঙ্গলে ঘুরে বেড়াবো অার নিরিবিলিভাবে তাল খাবো। শুধুমাত্র অানন্দ অার মন ভালো থাকার জন্যই এভাবে তাল খাওয়া। অার হ্যা, অামাদের কখনো কেউ ধাওয়া বা নিষেধ করেনি। তাল ওয়ালাও জানে যে, পোলাপান এসে তাল চুরি করে খাবেই, পোলাপানের জন্য ১৬ অানা ভাগ দিতেই হয় তাদের।
এই (তাল) ফলটি খেতে কচকচে নরম লাগে। তবে কিছু কিছু তাল একটু অাগে জন্ম নেয়ায় ভিতরে কচকচে অবরণ টা শক্ত হয়ে যায়। এছাড়া অামরা জানি, তালের উপরের অংশটি খুব শক্ত অাবরনে তৈরী। যা ধারালো কিছু দা-চাকু ব্যাতিত কাটা মুশকিল। তবে যাই হোক, ভিতরের এই কচকচে অংশটুকু খেতে যে কেমন মজা লাগে, তা প্রথমে না খেলে বুঝাতে পারবো না।
উপরের ফটেটিতে দেখতে পারছেন, ঐ কচকচে অংশটুকু। এই অংশটুকু খেতে ভারি স্বাদ লাগে। একটু একটু মিষ্টি। তবে এর ভিতরে ডাবের পানির মতো পানি রয়েছে। যেটি খেলে যেনো কলিজাটা শীতল হয়ে যায়। তবে দূঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে, অামাদের এই গ্রুপে অারও দূজন ছেলে অাজ থাকতো, কিন্তু তারা অার পৃথিবীতে নাই। একজন চাচাতো ভাই, অারেকজন ভাস্তে মানুষ। তারা ৩ মাসের ব্যবধানে পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়। যেটি অাগের পোষ্টে বলেছি। গতবারের তাল খেতে তারা ছিলো। বাস্তবতাটা টা অাজ কোথায়। যাই হোক, সবমিলে খুব ভালো একটা দিন কেটেছে, বেশ অানন্দ অার মজা উপভোগ করা হয়েছে।
বাহিরে তাল খেতে গেলে অামরা লুকেচুপেই যাই, তালগাছের মালিকের ভয়ে থাকি। যদি দেখে ফেলে হয়তো বকাবকি করবে সামান্ন, এর বেশি না। এছাড়া অামরা পাশের গ্রামের পোলাপাইন, লজ্জাকর একটা বিষয়। এগুলো মাথায় রেখেই চুরি করে এই তাল খাওয়াটার ভিতরে সত্যিই অনেক মজা। অামরা তাল পেরে, তা খালে ফেলে দিয়ে ভেসে ভেসে নিয়ে অাসছি। তাল মোট ২১ বাদা পেরেছিলাম। নিচে ফটোটি দেখুন,
তালগুলো এতেটুকু সাইজে না খেলে, অার ১৫ দিন পর খেলে তা অার এইরকম অবস্থায় থাকবে না, ঐ কচকচে অংটুকটুকু একদম শক্ত হয়ে অাটি হয়ে যাবে। যা তখন পূর্ণাঙ্গ তালফল হয়ে যাবে। তখন এই ফলগুলো জড় বাতাসে মাটিতে পরে পরে যায় এবং মানুষ সেগুলো কুড়িয়ে কুড়িয়ে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তালের পিঠা, তালের বরা, তালের রস ইত্যাদি বানিয়ে থাকে,
যাই হোক, অামরা দিনের বেলায় পেরে খেয়েছিলাম। কারো ক্ষতি করে নয়। অাগেই বলেছি, গ্রামে এই তালের প্রতি কারোর কোনো অাফসোস থাকেনা, এটার প্রতি সবার সমান অধিকার। গ্রামের পাশ দিয়ে শতশত গাছ বিদ্যমান। অামরা অন্যগ্রামে খেতে যাই, ওরা অামাদের গ্রামে অাসে। শুধু একটু মজা হবে এই উদ্দেশ্যে। এভাবেই তাল উৎসব চলে। সুতরাং, বিষয়টি কেউ সিরিয়াস ভাববেন না যে চুরি করেছি
কারো ক্ষতি করেছি।