আমার আজকের কবিতা দুই পথিক।
বৈশাখেরে এক ভরদুপুর
ভ্রমোছি পথ বহুদূর।
তপ্ত রোদ বাড়ছে ক্লেশ
জলের তেষ্টা পেল বেশ।
বইছে তীব্র তাপদাহ
পথের দু’ধার নেই গৃহ।
বিজন পথে এই দুপুর
ফিরছি একা ধর্মপুর।
পথের অদূর বটছায়া
দৃষ্টি কাড়ে কার কায়া?
সম্মুখ ছায়ায় এলাম ক্ষণ
গাইছে প্রবীণ পথিকজন।
কণ্ঠে মধুর ভাটির সুর
চিত্ত হলো মূর্ছাতুর।
স্বস্তি ছায়া বটতলে
পথের ক্লান্তি যাই ভুলে।
উদাস করা গীত শেষে
শুধাই পানের জল আছে?
প্রভাত প্রহর নীড় ছেড়ে
ভ্রমোছি এই রোদ্দুরে।
সহাস্যে কয় প্রবীণজন
অন্নজলের এই তো ক্ষণ।
অদ্যকার এই জলখাবার
করব দোঁহে পানাহার।
উদরপূর্তি হলো বেশ
তেষ্টা ক্ষুধার নেইকো রেশ।
দুঃখ-সুখের হৃদকখন
দোঁহে হলো বেশটা ক্ষণ।
বদন আঁখির এ কী মায়া!
পেলাম খুঁজে পিতৃছায়া।
কৌতূহলে শুধাই ক্ষণ
সংসারে আর কে আপন?
বিষণ্ণ কয় প্রবীণজন
জাগাও কেন হৃদবেদন?
জগৎ জীবন কঠিন রণ
ক্লেশটা রহে আমরণ।
পথের ও’ধার মাঠের পর
হিজলতলীর ছোট্ট ঘর।
দারা পুত্র কন্যাহীন
একেলা কাটে রাত্রিদিন।
তিনকূলে আজ নেই কেহ
জগৎ সুধার নেই মোহ।
ঘরের বধু গুলবাহার
গত হলো বছর চার।
পরের জমিই করছি চাষ
দৈন্য দুঃখে ফুরায় মাস।
কর্মে কভু নেই হেলা
অন্ন জোটে দুই বেলা।
গল্প কথায় যায় লগন
আঁখি মেলি দূরগগন।
গুড় গুড় ডাকছে মেঘ
বাড়ছে ঝড়ো পবন বেগ।
দাঁড়ায়ে কহে প্রবীণজন
কালবোশেখির দিন এখন।
গগনজুড়ে মেঘের ভিড়
এবার ফেরো আপন নীড়।
দু’হাত বাড়ায় প্রবীণজন
শোনায় বাণী বিদায়ক্ষণ।
শ্রম সাধনে অন্ন ধন
স্রষ্টাধ্যানে পুণ্য মন।
Copyright: This is a self-written story by [Abbas Ali]. All rights reserved.