আমার আজকের কবিতার নাম মকবুল মাঝি!
মকবুল মাঝি,
বিজন নদীর কূল গোধূলি লগন
রক্তিম আলোর আভা পশ্চিম গগন।
কুহেলির ঘন সাজে পৌষের ভুবন
ঝিরিঝিরি বইছে হিমেল পবন।
শুভ্র কুহেলির বুক চিরে চিরে
ডানা মেলে পাখিরা ফিরছে নীড়ে।
বৈরী এ শৈত্যে দেখা পাব কার?
বেলাশেষে ফিরে গেছে গৃহে যে যাহার।
ধীরে ধীরে চারিধারে ঘিরিছে আঁধার
থেমে গেছে দু'কূলের খেয়া পারাপার।
একখানি ছোটতরি বাঁধা নদী তীর
মাঝির দেখা নেই, ফিরেছে কি নীড়?
এপারেতে দাঁড়ায়ে ভাবি একেলা
কেনইবা এসেছি্নু এই অবেলা?
কখন কেমনে দিব নদীজল পাড়ি?
ফিরিব ও গাঁয়ের ছোট্ট বাড়ি।
পারের আশায় একা প্রহর গুনি
সহসাই শুনি কার পদধ্বনি।
হেনকালে মেলেছি সচকিত আঁখি
পশ্চাতে দাঁড়ায়ে কে যেন ডাকি!
কে হে ভাই অবেলায় দাঁড়ায়েছো কূলে?
যাবে কোথা? কোন গাঁয়? পথ গেছো ভুলে?
ওপারেতে যাব ভাই হেমপুরে থাকি
তরি বাঁধা তীরেতে, মাঝিরে না দেখি।
মকবুল মাঝি নামে চেনে সকলে
দু'কূলেতে পারাপার, নিবাস এ কূলে।
বৈঠা হাতে লই প্রভাতের কালে
তরি বেঁধে গৃহে যাই বেলা ডুবিলে।
অবেলায় খেয়াঘাটে আসা হলো ভুল
পথে মাঝি হলো দেরি, নাও না ও কূল।
দেখি নাই প্রিয়মুখ বহু দিনরাত
প্রতীক্ষাতে আছে গৃহে প্রাণনাথ।
কী যে করি কহে মাঝি, মনে দ্বিধা ভয়
ভাবনায় ফেলে দিলে এই অসময়।
কুহেলিকা নদীজল যেন একাকার
কেমনে বাহিব তরি নেমেছে আঁধার?
যেতে যে হবেই মাঝি প্রতিকূল এ শৈত্যে
এসো মাঝি উঠি তরি নির্ভয় চিত্তে।
বৈরী আঁধার যত হোক ঘোরতর
স্রষ্টার নামে মাঝি বৈঠা ধরো।
ক্ষণেক ভাবিয়া মাঝি ছাড়িল তরি
ধরায় নামিল ঘোর বিভাবরী।
মাটির প্রদীপখানি জ্বলছিল কোণে
স্রষ্টার মহানাম স্মরি দু'জনে।
প্রকৃতির বৈরিতা দূরে ঠেলে
ধীরে ধীরে তরি জলে বহিয়া চলে।
মাঝে হলো দু'জনার কথা বিনিময়
ভিড়লে তীরে তরি, কাটে সংশয়।
বহুদিন পর আজ সেই নদীকূল
পারাপারে দেখি এক যুবা মশগুল।
বয়স কত হবে? উনিশ কি বিশ
মুখচ্ছবি সেই মাঝি সদৃশ।
তরি উঠে শুধালেম যুবা মাঝিরে
মকবুল মাঝি কই? চেনো তাহারে?
কহিল নবীন মাঝি আঁখিজল ফেলে
গত হয়েছেন তিনি আমি তার ছেলে।
একী কথা কহে যুবা চাহি মুখপানে!
বেদনার ছায়া নামে হৃদগগনে।
কহিলাম যুবারে কেঁদো না বাছা
প্রবোধদানের আজ নেই কোনো ভাষা।
সেদিনের সেই স্মৃতি স্মরি বারবার
বৈরী আঁধার শীতে খেয়া পারাপার।
সদালাপী সজ্জন ছিল মকবুল
পরহিত সাধনে হইত ব্যাকুল।
নবীন মাঝিরে বলি বিদায়ের কালে
চিরদিন কে বাঁচে এই ধরাতলে?
স্রষ্টারে স্মরিয়ো ভেঙে না পড়ে
সকলেই যাবে চলে দু'দিন আগে পরে।
Copyright: This is a self-written story by [Abbas Ali]. All rights reserved.