আমি বাবার দিকে গভীর সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকালাম।বাবা এদিক সেদিক তাকাতে লাগলেন।
আমি তাকিয়ে রইলাম তখনো।
বাবা একবার গলা পরিষ্কার করে ধমকে উঠলেন,
কি হয়েছে টা কি?
আমি বলেছি কিছু হয়েছে?
তাকিয়ে আছিস কেন ওইভাবে?
দেখছিলাম। আমার যে কত আনন্দ লাগছে বাবা!
কেন? এত আনন্দ কিসের?
বা রে! বাবা আমার হাটতে পারছে! এর চেয়ে খুশির সংবাদ আর কি হতে পারে?
বাবা এবার কাশতে লাগলেন।মাঝখানে দুবার পানি চেয়ে আবারো কাশলেন।আমি পানি দিলাম না।বাবার কাশিও থেমে গেলো। সম্ভবত বুঝতে পারলেন যে, লাভ নেই।
কে বলেছে? আমি যে হাটতে পারি? স্বপ্নে দেখেছিস?
পারো না?
এবার আমি বাবাকে ধরে দাঁড় করিয়ে দিলাম। থপ করে বসে পরলেন বাবা।আমি তূর্য ভাই কে ফোন করে বললাম
আপনাকে আর বাসায় আসতে হবেনা, ফিরে যান।
তারপর কিছু না শুনেই আমি ফোন রেখে দিলাম এবার বাবা উঠে দাঁড়িয়ে গেলেন।
আমি কিছু একটা শোনার আগ্রহে বাবার দিকে তাকিয়ে রইলাম।বাবা বললেন,
আসলে হয়েছিল কি!
কি?
আমার পা আসলে ঠিক হয়ে গেছে!
এই বলে বাবা বোকার মতো হাসতে লাগলেন। নিঃসংকোচ অভার এক্টিং!
আমি অবিশ্বাস এর দৃষ্টিতে বাবার সামনে গিয়ে বাবার দিকে তাকালাম। বাবা অন্যদিক ফিরে গেলেন। এবার আমি আবার বাবার সামনে গিয়ে দাড়ালাম।আবারও বাবা অন্যদিক ফিরে গেলেন।বাবা কে আমার দিকে ফিরিয়ে বললাম,
সত্যি করে বল বাবা! আমার সহ্যক্ষমতা কতটুকু তুমি কিন্তু জানো!
বাবা এবার আমার দিকে তাকালেন। বললেন,
এক শর্তে বলবো। তূর্য কে কিছু বলবিনা তুই।ওর কোনো দোষ নেই।
ভ্রু কুচকে তাকালাম এবার। শর্তে আপাতত রাজি হলাম।
বাবা এবার পায়ের প্লাস্টার ছিরে ফেলে বললেন,
আমার পায়ে আসলে কিছু হয়নি।
আমি কোনো প্রতিক্রিয়া দেখালাম না
আসলে মিথ্যে বলেছিলাম। তূর্য কে এ বাড়িতে আনার জন্য।আসলে ওর সাথে…
এতোটুকু বলার পর বাবা থেমে চোর চোর ভংগী তে আমার দিকে তাকালেন।
আমি জিজ্ঞেস করলাম
কি? ওর সাথে কি?
তোর বিয়ে ঠিক করেছি
কিহ? কি বললে বাবা তুমি? কার সাথে? তুমি জানো এই লোকটা কেমন? তুমি আমার মতামত একবারও জানলে না? জানতে চাইলে না? বাবা তুমি কিচ্ছু জানোনা! মা জানলে কি করবে তুমি ভাবতে পারছো!
এক নিশ্বাসে কথা গুলো বলা মাত্রই বাবার উত্তর,
তোর মা ই তো ঠিক করলো
এবার হা করে বাবার দিকে তাকিয়ে রইলাম আমি!
বাবা আবার বললেন,
তূর্য কলেজ লাইফ থেকে তোকে পছন্দ করতো। তোর সিনিয়র ছিলো।কখনো দেখিসনি বুঝি? এহেম! ওর মা তোর মায়ের কলিগ।ওর মাকে তোর কথা বলে ও। ছবিও দেখায়। দেখেই চিনে ফেলে তোকে। তোকে দেখেছে তো তোর মায়ের সাথে! তারপর তোর মাকে আর আমাকে এ কথা জানায় তূর্যের প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর। অনেক ভেবে চিন্তেই এই সিদ্ধান্ত নিই।সাথে আরো একটা সিদ্ধান্ত।
কি?
তোর আর তূর্যের চেনাজানার ব্যাবস্থা করতে গিয়ে এই প্ল্যান টা করেছিলাম।ভেবেছিলাম তুই তূর্যের প্রেমে পরবি। তোদের মধ্যে ভালবাসা হবে।একদিন ভয়ে ভয়ে আমাদের বলবি! হয়তো কড়া গলায়! বাবা আমি ওকে ছাড়া কাওকে বিয়ে করবো না! তারপর আমরা তোদের প্ল্যান টা বলে দিয়ে মজা লুটতাম! ধূর সবই তো ভেস্তে গেলো।
আমি আমার ঘরে চলে এলাম। মাথার ভেতর সবগুলো ঘটনা একত্রে ঘুরছিল।
হঠাৎ করে দেখলাম তূর্য ভাই আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন। হয়তো কল্পনা। আমি গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলাম। ঘুম ভাংলো অনেক্ষন পর। চোখ খুলে দেখলাম আমার মাথার কাছে তূর্য ভাই ঘুমিয়ে। বিছানার পাশেই একটা চেয়ার এ বসে বিছানায় মাথা রেখে ঘুমিয়ে পরেছেন।আমার কপালে জলপট্টি। আমি এক দৃষ্টিতে ওনার দিকে তাকিয়ে রইলাম।ওনার ডান চোখের এক কোণায় এক ফোটা পানি চকচক করছে অন্ধকারেও।তবে কি উনি কাদছিলেন? কি যেন ভেবে আমি সুখ অনুভব করি। ওনার চুলে হাত বুলাই।বিছানা থেকে নেমে ওনার গায়ে চাদর জড়িয়ে দিয়ে আমি বাবার ঘরের দিকে যাই। গা টা ভার ভার লাগে আমার। হঠাৎ জ্বর এলো কেন?
ঘরিতে দেখি দুটো বাজে। আমি পানি পান করে বাবার ঘরে গিয়ে বাবা কে ডাকি। বাবা উঠে আমার কপালে হাত দিয়ে বলেন,
জ্বর কমেছে তবে।ছেলে টা রাত জেগে সেবা করেছে তোর। মা রে! ছেলে টা খুব ভালো। মেয়ের জীবনের এত বড় ডিসিশান না বুঝে না জেনে তো নিইনি!
বাবা উনি আমার ঘরেই ঘুমিয়ে পরেছেন।তুমি ও ঘরে গিয়ে ঘুমোও আমি আজ এখানেই শুই।
বাবা এই রাতে আমার ঘরে গিয়ে ঘুমুলেন।আমি বাবার ঘরে। সারারাত ছটফট করেছি। একবার এদিক তো একবার ওদিক ফিরেছি।ঘুম হয়নি বিন্দুমাত্র।
পরদিন সকালে….
বাবা কে জোরেশোরে ডাকলাম
নাস্তা রেডি বাবা!
বাবা ডাইনিং এ এসে হা করে তাকিয়ে রইলেন । আজ আমি বাবার চিবুক ধরে মুখ বন্ধ করে বললাম
ইউটিউব কা কামাল!
তুই? তুই নাস্তা বানিয়েছিস?
বা রে! শিখতে হবে তো! নাহলে বিয়ে করবে কে? তোমাকে কি এ বাড়িতে থেকে সইবো সারাজীবন?
তূর্য ভাই আড়ালে দাঁড়িয়ে মুচকি হাসলেন। আমার চোখ এড়ালো না।