টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার প্রায় ৯ শ' পরিবার বেঁত দিয়ে পাটি তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন । কিন্তু এ কাজ করে তাদের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হচ্ছে না।
সে কারনে পাটি তৈরির কাজ ছেড়ে অন্য কাজে জড়িয়ে পড়েছে অনেকে । হিংগানগর গ্রামের পাটি শিল্পী গোপাল চন্দ্র দে ও সন্তোশ কুমার দে জানান, বেঁত সংগ্রহ করে একটি পাটি বুননের জন্য প্রক্রিয়াজাত করতে দুই দিন সময় লাগে। আর পাটি বুননের কাজ বেশিরভাগই করে নারীরা ।
প্রতিটি পাটি বুনাতে দুই দিন সময় লাগে। পরিবারের অন্য কাজের পাশাপাশি প্রতিটি পাটি তৈরির জন্য চার দিন সময় লাগে । একটি পাটি তৈরির জন্য মুজুরি দেয়া হয় মাত্র ১৪০/১৫০ টাকা করে । বাজারে ওই পাটি পাইকারি বিক্রি হয় মাত্র ৮০০/৯০০ টাকা করে । এতে হিসাব করে দেখা যায় পাটি প্রতি ১২০০ টাকা ক্ষতি হয়। কিন্তু বাপ- দাদার পেশা তাই তারা এ কাজ ধরে রেখেছে । ওই গ্রমের পাটি বুনন শিল্পী সোনামনি ও জোৎস্না কায়েস জানান, সংসারের অন্য কাজের পাশাপাশি তারা পাটি বুননের কাজ করেন । তাদের পূর্বপুরুষ থেকেই তারা এ কাজ করে আসছেন ।
শীতল পাটি, শীতল নকশী পাটি ও বুটকা পাটি সহ চার প্রকারের পাটি তৈরি করা হয় । এ অঞ্চলের পাটি দেশ ও বিদেশে জন প্রিয়তা রয়েছে। বর্তমানে বাজারে প্লাস্টিকের পাটি আসায় বেঁতের পাটি বাজারে কিছুটা ধস নেমেছে বলে জানান শিল্পীরা। তবে প্লাস্টিকের পাটি মান ভাল নয়।
উপজেলার আটিয়া ইউনিয়নের হিংগানগর গ্রামে সব চেয়ে বেশি পাটি তৈরি হয়। সে জন্য ওই গ্রামে সপ্তাহে দু'দিন শুক্রবার ও মঙ্গলবার পাটি বিক্রির হাট বসে। যেখানে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকার আসে। পাইকারগণ সুলভ মূল্য পাটি ক্রয় করে বিভাগীয় শহরে বিক্রি করেন ।
পর্যায়ক্রমে এ অঞ্চলের পাটি দেশের বাইরেও রপ্তানি করা হয় বলে জানালেন কালিহাতি হতে আগত পাইকার করুনা সেন। তিনি বলেন, প্রতি বড় সাইজের পাটি ৭ শ' থেকে ৯ শ' টাকা ছোট সাইজের পাটি ৪ শ' থেকে ৭ শ' টাকা ক্রয় করেন। তিনি পাটি প্রতি ৪০/৫০ টাকা কমিশন বিনিময়ে তিনি পাটি সংগ্রহ করে মহাজনদের সরবরাহ করেন ।
তবে আধুনিতার যাঁতাকলে বিলুপ্ত হতে বসেছে পাটি শিল্প । সে জন্য গ্রাম বাংলার ঐতিজ্য ধরে রাখতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করছেন এ অঞ্চলের পাটি শিল্পিরা।
টাঙ্গাইলটাইমস