এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অপরাধে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বাবুল হোসেন নামে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রকে দুই বছরের কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
রবিবার সকালে উপজেলার বাঁশতৈল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। মির্জাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক আজগর হোসেন এ সাজা দেন।
গত ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষার প্রতিটি বিষয়ের প্রশ্নই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাওয়া যাচ্ছে পরীক্ষা শুরুর আগেভাগেই। আজ তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ের প্রশ্নও এসেছে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমের গ্রুপে।
পরীক্ষা শুরুর দিন বাংলা প্রথমপত্রের প্রশ্ন ফেসবুকে এসেছিল পরীক্ষঅ শুরুর ২৪ মিনিট, আগে, ৩ ফেব্রুয়ারি বাংলা দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন আসে ৪৫ মিনিট আগে। আর ৪ ফেব্রুয়ারি প্রশ্ন ফাঁসে জড়িতদেরকে ধরিয়ে দিলে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এরপরও প্রশ্ন ফাঁস ঠেকানো যাচ্ছে না।
তবে পুরস্কার ঘোষণার পর থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকাতেই পরীক্ষা কেন্দ্র বা আশেপাশের এলাকা থেকে স্কুল ও মাদ্রাসা শিক্ষক, পরীক্ষার্থী, অভিভাবক, কলেজ ছাত্র, ব্যাংকার, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্ররা ধরা পড়তে শুরু করে।
মির্জাপুরে ধরা পড়া বাবুল হোসেন করটিয়া সাদত বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএর ছাত্র। উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের গাইরাবেতিল সোনালিয়া গ্রামে তার বাড়ি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, সকালে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে পরীক্ষা শুরুর আগে বাঁশতৈল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে বাবুল তার মোবাইল ফোনে ফাঁস করা প্রশ্নপত্র তার ছোট ভাইসহ আরও কয়েকজন পরীক্ষার্থীকে সরবরাহ করছিল। এ সময় কয়েকজন অভিভাবক তা দেখে পুলিশে খবর দেন। আর পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করে।
মির্জাপুরের বাঁশতৈল পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক ফয়সাল এই তথ্য নিশ্চিত করেছন। তবে বাবুল কার কাছ থেকে প্রশ্ন পেয়েছেন, সেটি জানা যায়নি।
১০ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীতে আটক হয় ১৪ জন। এদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পেরেছে কেন্দ্রে প্রশ্ন পাঠানোর সময় প্রশ্নের ছবি তুলে তাদের কাছে পাঠানো হয়। তবে যারা এই কাজ করে তাদেরকে শনাক্ত করা যায়নি এখনও।
টাঙ্গাইলটাইমস