টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার ৪০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। ভারপ্রাপ্তরা পালন করছেন প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব। শিক্ষক সংকটের ফলে চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যালয় গুলোর শিক্ষাসহ প্রশাসনিক কার্যক্রম। ফলে ভারপ্রাপ্তদের ভারে ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েছে ওই সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ৯৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৪০টি বিদ্যালয়েই প্রধান শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। সিনিয়র সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিযুক্ত করে প্রশাসনিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, সিনিয়র সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিযুক্ত করে প্রশাসনিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় তাদের উপজেলা শিক্ষা অফিসে দৌঁড়ঝাপেই সময় পার হচ্ছে। বিদ্যালয়ে ক্লাস নিতে পারছেন না তারা। ফলে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
এমনিতেই উপজেলার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই শিক্ষক স্বল্পতা রয়েছে। তার ওপর সহকারী শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করায় যথোপযুক্ত শিক্ষা কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে। নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের মৌলিক শিক্ষায়।
এ নিয়ে নলুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শেখ নূর মোহাম্মদ বলেন, ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে এ বিদ্যালয়ে তিনি প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। তবে ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি সরকারি হওয়ায় প্রধান শিক্ষক পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দিয়ে সহকারী শিক্ষক পদ নির্ধারণ করাসহ বেতন ভাতাদিও ধার্য করা হয়। কিন্তু প্রধান শিক্ষকের পদটি রয়েছে এখনও শূন্য। এর ফলে সহকারী শিক্ষকের বেতন ভাতাদি নিয়েও তিনি বিনা পারিশ্রমিকে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষক স্বল্পতার কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার কথা স্বীকার করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে দেলদুয়ার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকতা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ইতোমধ্যে ওই সব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদ পূরণ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
টাঙ্গাইলটাইমস