অনেকদিন পর প্রিয় ক্যাম্পাসে

Words
450
Reading
2 min
Listen
Play
6y

করোনা মহামারীর যেন সারা বিশ্বকে ওলোট পালোট করে দিয়েছে। বিশ্বকে যেন থামিয়ে দিয়েছিলো একদম। এখনো কিছু কিছু দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে আছে। সেই সাথে বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনা ভাইরাস সংক্রমণ শনাক্তের পর ১৭ মার্চ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এখন অবধি সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে আছে। দেশের শিল্প কারখানা গুলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা রাখা হয়েছে। গত ১ এপ্রিল থেকে নির্ধারিত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত হয়ে যায়, আজকে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ঘোষণা করে যে, জেএসসি এবং এসএসসি'র রেজাল্টের এর গড় করে এবছরের এইচএসসি এর রেজাল্ট দিবে,সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে এই মহামারীর পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের ক্ষতির কথা মাথায় রেখে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (UGC) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অনলাইনে ক্লাস নিতে নির্দেশনা জারি করে।
এপ্রিলের শেষের দিকে অনলাইন ক্লাস শুরু হয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে,এবং ধীরে ধীরে কিছু সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও অনলাইন ক্লাস চালু করে।

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়েও সেই সময় অনলাইন ক্লাস শুরু, কিছুদিন আমরা সবাই ক্লাসে নিয়মিত থাকলেও, কিছুদিন পর থেকে সবাই আগ্রহ হারিয়ে ফেললো। একদিন ক্লাস করলে পরের দিন আর কারো খবর নেই। এইভাবে কখন সেমিস্টার শেষ হলো বুঝতেই পারলাম না। ফাইনাল পরীক্ষার তারিখও দিয়ে দিয়েছে।

কিহ!! এতো তারাতাড়ি সেমিস্টার শেষ হলো।
পরীক্ষার খবর শুনে আমাদের প্রতিক্রিয়া এমন ছিলো।

যাই হোক ভার্সিটির টিউশন ফি দিতে হবে, মানুষ বাচুঁক মরুক এদের টাকা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই দিতে হবে। সেই সুবাদে সেদিন ভার্সিটি আসা হয়। যদিও কেউ চাইলে অনলাইনেও টিউশন ফি দিতে পারবে। কিন্তু আমি ভাবলাম অনেক দিন ভার্সিটি যাওয়া হয় না,যাই একটু ঘুরে আসি। বাসার পাশেই ভার্সিটির এক বড় ভাইয়ের বাসা, তার বাইকে করে চলে আসলাম ভার্সিটিতে।

কি ব্যাপার!! ব্যাংকের সামনে লম্বা লাইন। কিছুক্ষণেই মনে পড়লো আজকেই টিউশন ফি পরিশোধ করার শেষ দিন;(

কি আর করার, লাইনে ২ ঘন্টায় দাড়িয়ে টাকা দিলাম। পরে ভার্সিটির ক্যাম্পাসে আসলাম। (ভার্সিটির পাশেই ব্যাংক)।

IMG_20200910_132350.jpg

ক্যাম্পাসে ঢুকেই তো আমি অবাক, এতো নিরব, রাত ছাড়া কখনো এতো নিরব,শান্ত পরিবেশ দেখিনি আমি। ঘাস গুলো বড় হয়ে গেছে। ফুল গাছ গুলোও সতেজ দেখাচ্ছে। সব মিলিয়ে এক অন্যরকম পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। ক্যান্টিন ভুতুড়ে পরিবেশ, যেখানে চায়ের কাপে আড্ডা কিংবা রাজনৈতিক তর্কসভায় মুখরিত থাকতো, সেখানে আজ শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। যেখানে বসে বন্ধুরা মিলে আড্ডা দিতাম সেখানের ঘাসগুলোও লম্বা হয়ে গেছে।
মায়াভরা সেই ক্যাম্পাস, বন্ধুবান্ধবীদের সাথে আড্ডা, খুনসুটি কিছুই নেই। নেই কোন ব্যাস্ততা, নেই ক্যাম্পাসের সেই কোলাহল। জীবন যেন হঠাৎ থমকে গেছে।

IMG_20200910_122223.jpg

ক্যাম্পাসের পিছনের দিকটা গিয়ে আরো অবাক হলাম। পিছনটাও দেখার মত পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। নদীর পানি বেড়ে ভার্সিটির দেয়াল পর্যন্ত এসেছে। ক্লাস শেষে বর্ষাকালে বন্ধুদের মিলে নৌকায় আড্ডা দেওয়ার কথাও মনে পড়ে গেলো। নৌকা নিয়ে ঘুরে বেড়ানোটা মিস করতে লাগলাম। ক্লাস শেষে টং দোকানের চায়ের আড্ডা দেওয়ার কথা মনে পড়েই মন খারাপ হয়ে গেলো। খুব বেশি করছি টং দোকানের চা, সবাই মিলে এক বন্ধুকে পচানি দেওয়া।

IMG_1594138662603.jpg

ছবিটি ভার্সিটির পিছনে তোলা। তার কিছুদিন পরে আবার গিয়েছিলাম।



এই সংকটকালীন মুহুর্তে মিস করছি সেই ফেলে আসা দিনগুলো। যা বর্তমানে কেবল এক সুন্দর অতীত।

অনেকদিন পর প্রিয় ক্যাম্পাসে | Ecency