চিনিগল্প | Sugar Story

Words
608
Reading
3 min
Listen
Play
5y

আমাদের সমাজে বা আশেপাশে একশ্রেণির লোকজন থাকে। যাদের মনমানসিকতা ধরতে প্রায় অসুস্থ থাকে। সুন্দর স্বাভাবিক জীবন থাকা সত্বেও অতৃপ্তি অনুভব করে। তারা এমন এক শ্রেনীর মানুষ যারা তাদের বাহ্যিক সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলা স্বভাব। তারা তাদের ধনসম্পদের অপব্যবহার করে স্বাভাবিক জীবনে অস্বাভাবিক করতে দ্বিধা করে না।

IMG_20210323_164143 (2).jpg

একশ্রেণীর লোক কে কি নামে ধরা যায়? উমমমম! চলুন তাদের চিনিবাবা আর চিনিকন্যা হিসেবে ধরা যাক।

তাদের বা চিনিবাবাদের কোনকিছুরই অভাব থাকে না, থাকে প্রাচুর্য, সুন্দরী স্ত্রী, বাচ্চা থাকে, সবই থাকে, তারপরেও তাদের তৃপ্তি হয় না। তাদের আরও চাই! সাদা, উত্তপ্ত (হট) চিনি চাই। তাদের চাই ব্যাকআপ পার্টনার চাই যারা তাদের রিল্যাক্স সময়ের সঙ্গী হবে।

এইদিকে আরেক দল আছে, তারা হলেন চিনিকন্যা। এনারা হলেন চিনিবাবাদের শিকার।
চিনিবাবারা বিভিন্ন টোপ দেয় চিনিকন্যাদের শিকার করার জন্য, আর চিনিকন্যারাও দেখেন যে, বাহ, সুন্দর তো! সংগ্রাম ছাড়া, কষ্ট ছাড়া, প্রতিযোগিতা ছাড়া শুধুমাত্র সাদা চামড়ার শরীর দিয়ে লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং করেই জীবনে টাকা পয়সা গাড়ী বাড়ি সব পাওয়া যাবে, সেইসাথে চিনিবাবাও নাকি তার হয়ে যাবে। এত বড় আর লোভনীয় টোপ দেখে তারা সেটা না গিলে পারে না। কারণ জীবনে তো সবাই একটা জিনিসই চায়- সফলতা, মান সম্মান, নিরাপত্তা, টাকা পয়সা। সেটা এত সহজে পেলে ক্ষতি কি, তারা হয়ত এমনটাই ভাবেন। আর টোপ গিলে ফেলেন দ্বিতীয়বার না ভেবে। সুন্দর! চিনিবাবার শিকার খাঁচায় আসছে সহজেই।

এরপর চিনিকন্যারা চিনিবাবাদের ভালোবাসা থেকে শুরু করে সবকিছুই উজাড় করে দেয়। সব কিছু মানে সব কিছু দিয়ে দেয় বিশ্বাস আর ভরসা আর প্রাচুর্যের জন্য। চিনিবাবারাও দুহাত ভরে পয়সা উড়ায় চিনিকন্যাদের পেছনে৷ দুজনই বেজায় খুশি থাকে এতে,কিছুদিন, মাস, বছর।

বিপত্তি আসে তারপরেই,
চিনিবাবাদের আবার এক চিনির স্বাদ খুব বেশীদিন ভালো লাগে না । তাদের যেহেতু টাকার অভাব নেই, তাই নতুন চিনির স্বাদ নিতে চায়। এইদিকে বর্তমানে থাকা চিনিকন্যাও তার চিনিবাবাকে ছাড়তে চান না। এমন জিনিস কেই বা হারাতে চাইবে! যেখানে শুধু সহজ লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং করেই বিলাসবহুল জীবনযাপন করা যাচ্ছে। কিন্তু চিনিকন্যারা ভুলে যায় যে জিনিস যত সহজে পাওয়া যায় সেটা তার চেয়ে দ্রুত বেগে হারিয়ে যায়। এটা হয়তো মাথায় ঢোকেনি তাদের হয়তো ঢুকলেও ভান করে বসে থাকে আর লেগে থাকে।

কিন্তু চিনিবাবা তো ছাড়বেই, কারণ তার আগের সেই মিষ্টি চিনিকন্যার স্বাদ এখন তেতো হয়ে গেছে তার কাছে, গরম(হট) চিনির আবেদনও কমে গেছে, তাই তার নতুন শিকার চাই এখন । এরপর চিনিবাবারা বিভিন্নভাবে চিনিকন্যাদের বিদায় দেওয়ার চেষ্টা করেন।

অভিজ্ঞ বা চালাক চিনিকন্যারা বিপদ আঁচ করতে পেরেই কেটে পড়েন, পরে অন্য চিনিবাবার সন্ধানে থাকেন। কোন বিপদ আপদ না ডিঙিয়ে। অনেকে হয়ত অনেক সম্পদের মালিকও হয়ে যান ততদিনে তারা সেটাতেই সন্তুষ্ট থাকেন ।
কিন্তু অনেক অপরিপক্ক, আবেগী চিনিকন্যারা বুঝতে পারে না যে তাদের সম্পর্কগুলো কখনও স্থায়ী হবে না, হবারও ছিলো না, কিন্তু তবুও তারা তাদের সেই চিনিবাবাকে চাইতেই থাকে। তাদের এমন আচারণে চিনিবাবারা ক্ষুব্ধ হন অনেক সময়, ভয়ভীতি দেখান কিংবা জোর করেন বিদায় হওয়ার জন্য । চিনিবাবাদের এমন আচারণে কষ্ট পেয়ে কেউবা আত্মহত্যা করে, কেউবা আবার চিনিবাবাদের খুনের শিকার হয়। এভাবেই চিনিবাবাদের পথ পরিষ্কার হয়, এরপর চলে আবার নতুন শিকারের প্রস্তুতি। আর ততদিনে তাদের শিকারের জন্য প্রস্তত হয়ে থাকে অসংখ্য চিনিকন্যারা। উদ্দেশ্য একটাই; বিনা কষ্টে সব পাওয়া।

আর চিনিকন্যাদের হত্যা কিংবা আত্মহত্যায় চিনিবাবাদের কিছুই আসে যায় না, তারা চলে টাকার গতিতে, টাকার গতি আইনের গতির চেয়ে অধিক দ্রুতগতিসম্পন্ন হওয়ার কারণে আইন অধিকাংশ ক্ষেত্রে চেষ্টা করেও তাদের ধরতে পারে না।

এটা হয়তবা বন্ধ হওয়া সম্ভব, চিনিবাবাদের টাকার অপব্যবহার আর চিনিকন্যাদের টাকার লোভ বন্ধ হলে। সেই সাথে আইনের গতিকেও বেশী হতে হবে টাকা কিংবা ক্ষমতার গতির চেয়ে। কিন্তু আদৌ কি সম্ভব? হয়তো হতে পারে কোন একদিন যেদওম আইনের গতি বেশি হবে টাকার গতির চেয়ে।


সোস্যাল মিডিয়া ঘাটলে প্রতিদিন প্রায় দুইএকটা নিউজ চলেই আসে সামনে, আত্মহত্যা, খুন, প্রেমিকের ফাঁদে প্রেমিকা খুন, স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন, মা সন্তানদের রেখে প্রেমিকের সাথে চলে গেছে হাহাহা এমন হাজার খানের নিউজ হয়তো মাসে বের হয়। ভাবুন তো আমাদের নৈতিকতা নিয়ে, কতটা অভাব পরিলক্ষিত হয় এইসব ক্ষেত্রে। ভাবতে থাকুন!! নৈতিকতার বরই অভাব দেখা দিয়েছে সমাজে, রাস্ট্রে।

চিনিগল্প | Sugar Story | Ecency