কেমন আজব মানুষ আমরা তাই না? আমরা ভালোবাসতে পারি না, পক্ষান্তরে ঘৃনাও সহ্য করতে পারি না। কোন অনুভূতি যেন আর বেঁচে নেই আমাদের মাঝে, মায়া তো ধরা-ছোয়ার বাইরে, একে-অপরকে যত্ন করা ভুলে গেছি। আমরা মিলেমিশে চলতে চাই না, কিন্তু কষ্ট আমরা ঠিকই করি, ভিতরে ভিতরে সারাজীবন কষ্ট করে যাব কিন্তু মিলেমিশে চলবো না থাকবো না। রাগ আর হিংসায় পরিপূর্ণ হয়ে আছে দেহ মন, ভুল আমরা কখনোই স্বীকার করি না, আর ক্ষমা চাওয়া বেইজ্জতি মনে হয়, ছোট মনে হয়। হাজার খানেক ইচ্ছে পুষতে থাকি কিন্তু মৃত্যুে তো সেই কবেই ভুলে গেছি। এতো কিছুর পর আমরা সুখ শান্তির পিছনে ছুটেও খুজে পাই না, কোথায় সুখ শান্তি?
হিংসা ক্রোধ আমাদের শরীর মন দুটোকেই গিলে খেয়েছে। আমরা মানুষরা আসলেই বড় আজব আর বোকা যেখানে একটু স্যাক্রিফাইস করলেই শান্তি পাওয়া যায় সেখানে আমরা আমাদের মনকে আরো শক্ত করে বসে থাকি, আর কষ্ট উপভোগ করি আর দিনশেষে? আর দিন শেষে আমরা ব্যাথায় জর্জরিত মন নিয়ে বলি কোথায় সুখ শান্তি? বড়ই অদ্ভুত!
রাতে যখন নিজেরই ভুলের খেসারত দিতে মৃত্যুর যন্ত্রণা অনুভব করলাম, সবকিছু যেন অর্থোগোনাল মনে হচ্ছিল। এতো ভালোবাসা, মায়া সবকিছুই যেন মরিচিকা লাগছিলো। যখন আমার মস্তিষ্ক বাইরের সব বুঝতে পারছিলো কিন্তু উঠে দাড়ানোর বা চোখ মিলে তাকানোর শক্তি হারিয়ে ফেলছিলো, আমি তখন উপলব্ধি করেছিলাম, মৃত্যু যন্ত্রণা অনেক কঠিন। আমি উপলব্ধি করেছিলাম এখন এই যন্ত্রণার মুহুর্তে যে আমায় শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রেখেছিলো, আমার মা, যে কখনো আমায় এতোটা কষ্ট পেতে দেখেনি, সেই আমি তার কানে ফিসফিস করে বলেছিলাম, আমার অনেক হচ্ছে। তখন তার চোখে স্পষ্ট ফুটে উঠেছিলো তখন, আমারে চেয়েও বেশি কষ্ট পাচ্ছে আমার মা।
যখন সব বোধগম্য হচ্ছিল কিন্তু উঠে দাড়ানোর বা হাটার শক্তি কোনটাই ছিলো না, তখন উপলব্ধি করেছিলাম যার জন্য এই ভুল করলাম, ভুলের খেসারত আমাকেই গুনতে হলো। আমি সৃষ্টিকার্তার কাছে ভিক্ষা চাচ্ছিলাম আমাকে আগের অবস্থায় ফিরে যেতে আর নিজের ভুলকে সংশোধন করতে। ঘুমের তীব্রতায় যখন চোখ বন্ধ হয়ে আসছিলো আমার মা তখন আমার চোখ খোলায় ব্যাস্ত ছিলো। সে কেন আজকে চাচ্ছিলো না যে আমার ছেলে ঘুমাক! ডেইলি রাতে রুমে এসে বলে যায় ঘুমাই যা! কিন্তু আজকে আমি ঘুমাইতে চাইলে সে আমায় জাগানোর চেষ্টা করছিলো। বুঝতে পারছিলাম সব ঘুম সুখকর না।
আমার প্রিয়জন গুলো সব সময়ই আমার প্রিয় হয়েই থাকে, তাদের অনুপস্থিতি আমাকে একাকিত্ব দিলেও তাদের প্রতি ঘৃনা কখনো স্পষ্ট হয়নি। কিন্তু তখন আমার প্রতি তাদের চলে যাওয়ার অজুহাত গুলো কেন এমন ঠুনকো? এমন ইউজলেস এক্সকিউজ দিয়ে এতো তীব্র ভালোবাসার বন্ধন ভেঙে ফেলাও সম্ভব? আমার তখন বাহ্যিক ভাবে কোন চিহৃ নেই কিন্তু নীরবে আমার চোখের অশ্রু আমার কান বরাবর অনুভব করতে পারছিলাম, মুছতে চেষ্টা করেও ব্যার্থ হয়ে বইতে দিলাম, চেষ্টা করছি ঘুমাতে কিন্তু এতো তীব্র পিলেও আমার মস্তিষ্ক শান্ত হচ্ছিল না।
তবে আমি মেনে নিয়েছিলাম যে আমাকে এভাবে আরো অগণিত রাত পাড় করতে হবে, কিন্তু সৃষ্টি কর্তার কাছে একটাই চাওয়া আমাকে বাঁচিয়ে রেখো, আমি মৃত্যুকে ভয় পাই।
মিথ্যা যতটা একজন মানুষের জন্য ধ্বংসাত্ক তারচেয়ে বেশি ভয়ংকর হলো একটা সুন্দর সম্পর্ক ধলোয় মিশিয়ে দিতে। আর এটার চেয়েও বেশি বিপদজনক হলো পরস্পর সম্বন্ধে ভ্রান্ত ধারণা আটকে রাখা।
ফিকশন