অনেক দিন পর এক পুরনো বন্ধুর সাথে দেখা, স্কুলের বন্ধু, প্রায় ৪ বছর হবে আনুমানিক। হঠাৎ একটা অপরচিত নাম্বার থেকে কল আসলো, ধরতেই ওপাশ থেকে বলে উঠলো তাইয়েব? আমিও কণ্ঠ না চিনে বললাম, জ্বি, আপনি কে বলছেন। প্রায় ৪ বছর, কণ্ঠ ভুলে যাওয়া অস্বাভাবিক না। ও পাশ থেকে বললো আমি রাকিব বলছি, আমি আন্দাজ করে নিছিলাম যে এটাই সেই রাকিব যার সাথে স্কুলে প্রতিদিন একই বেঞ্চে বসতাম। তারপরও জিজ্ঞেস করলাম কোন রাকিব? বললো, চিনতে পারতেছো না! আমি রাকিব, শ্যামকিশোরে আমরা একসাথে পড়তাম। আমি তো রীতিমতো অবাক হয়ে গেলাম এত দিন পর ওর ফোন পেয়ে। মাঝখানে ওর পরিবারে এই শহর থেকে অন্য শহরে চলে যায় ওর আব্বুর বদলির কারনে। তখন ঐরকম ফোন ইউজ করা হতো না তাই নাম্বারও জানতাম না। আমার নাম্বার কেমনে সে জোগাড় করেছে, সেই ভালো জানে। ও বললো যে আমি তো তোর শহরে আসতেছি আজকে তুই কি ফ্রি আছোস নাকি, তাহলে দেখা করতাম। একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজে আসতে হইছে। আমি বললাম অবশ্যই, এখনি বের হচ্ছি তুই আয়।
এতোদিন পর দেখা হবে, এটা মিস করা মোটেও ঠিক হবে না। দুপুর বেলা, বাইরে খা খা রোদ কিন্তু প্রচুর বাতাস বইছে। রেডি হয়ে বের হয়ে গেলাম, আম্মুকেও বলে গেলাম রাকিব আসতেছে ওর সাথে দেখা করতে যাচ্ছি। আমার যাওয়ার আগেই ও চলে এসেছে, গিয়ে ফোন দিলাম, আমার স্কুলজীবনের বন্ধুর সাথে পুরো এতোদিন বাদে দেখা। অনেক আগ্রহ ও উৎসাহ নিয়ে দেখা করতে আসছি। আমার ঠিক পাশে থেকেই ফোন রিসিভ করলো, লাল রঙের শার্ট হায়!! আমি চিনতেই পারি নাই এত কাছে থেকে। আমি ওকে দেখে যতটা না অবাক হবো আমায় দেখে ও বেশি অবাক! আমায় দেখেই জিজ্ঞেস করলো তোর শরীরের এ অবস্থা কেন? ওজন কত তোর। দিলো তো মনটা খারাপ করে;3 আমার ওজন বলাতেই আমায় বকতে শুরু করলো, তোর জীবন হুমকির মধ্যে, আরো এতো কথা।
ওর তেমন কোন শারিরীক পরিবর্তন দেখলাম না, স্কুলে থাকতেও যেমন ছিল, আজও তেমনি। এমনকি কোন আত্মনির্ভরতার বা পরিণতির ছাপ পেলাম না তাঁর মধ্যে।আগের মতই কথা বলতে শুরু করলে একেরপর এক বলতে থাকে, থামানো কঠিন হয়ে যায়। পুরো ইতিহাস তুলে ধরে একদম। যাইহোক এতোদিন পরে দেখা, একটি সময় কাটাই ওর সাথে, কিন্তু ও সোজা এখানেই চলে আসছে, যে কাজের উদ্দেশ্যে আসছে সেটা করেনি। আমি বললাম চল কোথাও গিয়ে বসি, কাজ একটু পরে করিসনি।
আমার স্কুলে অনেক বন্ধুত্বই ছিলো কিন্তু সবাইকেই সময়ে সময়ে বদলে যেতে দেখেছি। কিন্ত ওকে যেমন দেখেছি স্কুলে, এখনো তেমনটাই আছে। ও আমার থেকে অনেক বেশি অর্জন করেছে জীবনে কিন্ত কখনো আমার প্রতি ওর আচরন বদলে যায় নি। মানুষ হিসেবে ও খুবই সৎ, নম্র-ভদ্র এবং ধৈর্যশীল। ওর আম্মু এই শহরের দমকলকর্মী হিসেবে কাজ করতো, আংকেলও অনেক ভালো ছিলো। ওর মধ্যের একটা গুন বেশি ভালো লাগে সেটা হলো, ও অনেক বেশি কথা বলে, যখন কথা বলে শুরু করে সারাদিন বা সপ্তাহে যা হয় সব বলে, আমি চুপচাপ শুনতাম, এখনো শুনছি, এই ৪ বছরে কি কি করেছে সব ইতিহাস বলা শুরু করছে।