প্রথম রোজা আর শৈশব।

Words
485
Reading
3 min
Listen
Play
5y

রোজার মাস শুরু হওয়ার আগে থেকেই আমি চিন্তিত হয়ে পরি। সারাদিন না খেয়ে থাকতে হবে, কিচ্ছু খেতে পারবো না। যদিও আমি সারাদিন ওতো খাওয়া দাওয়ার উপর থাকি না তবুও রোজার মাসের কথা মনে হলেই আমার এমন চিন্তা ভাবনার উদয় হয়। তবে রমজান মাস এলে আমার ছোট্ট প্রানটাও নেচে উঠতো, রমজান মাস শেষেই ঈদ।

রোজার আমার আর শৈশবকাল ভাবলে প্রথম রোজা নিয়ে উত্তেজিত হয়ে পরতাম। সেহরী খাব, রোজা রাখবো, ইফতারে সবার সাথে ইফতার করবো। ছোটবেলার রোজার সাথে সবার মধ্যে যে কমন বিষয় সেটা বলো প্রথম রোজা আর শেষের রোজা রেখে বাঁধ দেওয়া। আমি ছোট বেলায় রোজার রাখার জন্য পাগলামি করতাম, তখন আম্মু বলতো দুপুর বেলা খেয়ে আবার আমাদের সাথে ইফতার করলে তোমার দুটো রোজা করা হবে।

মানুষের জীবনে একটা সময় আসে যখন সে পুরোনো স্মৃতি আঁকড়ে পড়ে থাকে। পরবাসে থাকায় বারবার হারানো দিনের স্মৃতিতে ডুবে যাই। মাঝেমধ্যে অতীতে হারিয়ে যাই। আজকে তোহান রোজা রাখছিলো, দুপুরে আব্বুকে বলতে শুনছিলাম যে, এখন খাও, আবার ইফতার করবা তাহলে তোমার দুটো রোজা করা হবে। এটা শুনেই শৈশব স্মৃতি মনে পড়লো। ছোট বেলায় আমরা সবাই এমন করেছি, যেখানে রোজা রেখেছি, কিন্তু মনের ভুলে খেয়েছি, পানি খেয়েছি তবুও দাবি করেছি আমি রোজা রেখেছি। এতো গেলো সারাদিনের রোজা রাখার স্মৃতি।

আমার সেহরির অনেক প্রিয় সময় ছিলো, এখনো আছে। ভোর রাতে মুয়াজ্জিন ভরাট কণ্ঠে বলতেন, উঠুন, সাহরি খাওয়ার সময় হয়ে গেছে। আর ঘুমাবেন না। মাঝেমধ্যে তিনি সুমধুর কণ্ঠে গজল গাইতেন, সে যেন থামার নয়, একের পর এক ডেকেই চলছে পুরো মহল্লাকে জাগাতে।

এইতো ৩ বছর আগের কথা, আমার প্রিয় একজন হুজুর ছিলেন যে সেহরির সময় সবাইকে ডেকে দিতেন তার সুমধুর কন্ঠ দিয়ে। তার গাওয়া গজল গুলে সত্যি মনোমুগ্ধকর ছিলো। কিন্তু দূর্ভাগ্যবশতঃ সে এখন আর এখানে থাকে না। হয়তো এখন সে অন্যকোথাও গিয়ে তার কণ্ঠে ভোররাতো রোজাদারদের জাগিয়ে দিচ্ছে। দিন চলে যাচ্ছে, থেমে নেই। এখন বড় হয়েছি, হচ্ছি, সময় পরিবর্তন হচ্ছে প্রতিনিয়ত, ঘড়ির কাটার সাথে টিকটিক করে জীবনের সময় ফুরিয়ে আসছে। সময় এসেছে শৈশব স্মৃতিতেই রাখা। এখন রোজা রাখা ফরজ চাইলেও শৈশবের মত বাঁধ দিতে পারি না, প্রথম টা আর শেষের টা রেখে ৩০ টা রেখেছি বলে দাবি করতে পারি না। আব্বু আম্মু বলে না দুপুরে খাও আবার আমাদের সাথে ইফতার করবা, তাহলে দুটো রোজা হবে।

আজকে প্রথম রোজা হিসেবে অনেক শান্তিতে সম্পন্ন হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ। সেহরি খেয়ে, ফজরের নামাজ পড়েই ঘুম দিয়েছিলাম, উঠে ১০ টা বাজে ঘড়িতে। আব্বুর সাথে বাজারে গেলাম, লকডাউনের প্রথম দিন চলছে, বাজারে তেমন কিছু নেই। কয়েকটা পাকিস্তানি মুরগী নিয়ে চলে আসলাম। বাড়ি আসতেই যোহরের আযান পড়লো, গোসল করে নামাজ পড়ে নিলাম। দুপুরে ঘুমাবে করে ঘুম হলো না, ক্রিপ্টে মার্কেট অস্থির হয়ে আছে, সাথে নিজের মধ্যেও অস্থিরতা আবিষ্কার করলাম। ঘুম বাদ দিয়ে চোখ রাখতে লাগলাম মার্কেটে। দেখতে দেখতে আছরের আযান দিয়ে দিলো নামাজ পড়ে, সমবয়সীদের সাথে আড্ডা দিতেই ইফতারের সময় হয়ে আসলো। ইফতার বানানের দায়িত্ব সবারই আমাদের পরিবারে।

কিন্তু ইফতার বানানের মত এনার্জি থাকে না দিন শেষে আমার শরীরে। তাই এ থেকেও বাদ পড়ে থাকি, অপেক্ষা করি কখন আযান দিবে আর খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করবো।

আলহামদুলিল্লাহ, প্রথম রোজা শান্তিপুর্ন ভাবেই সম্পন্ন হয়েছে।সেহরিতে বেশি বেশি পানি খান, স্বাস্থ্যসমৃদ্ধ খাবার খান, সুস্থ থাকুন।

IMG_20210412_101722.jpg

প্রথম রোজা আর শৈশব। | Ecency