আমিই ভুল ছিলাম।

Words
552
Reading
3 min
Listen
Play
5y

একজন দায়িত্বশীল বাবা হলে যা করে রহিম সাহেবও তার সন্তানের জন্য ব্যাতিক্রম করেনি। সে চেষ্টা করছে তার একমাত্র সন্তানের ভবিষ্যত যেন সুন্দর হয়। আকাশ রহিম সাহেবের একমাত্র সন্তান! তার হাসি-খুশি সুখ-দুঃখ সবই সে। কিন্তু আকাশ ভুল ছিলো তার বাবার প্রতি, তার প্রতি তার বাবার চেষ্টা কখনো বোঝার চেষ্টা করেনি সে। তার ভাবনা ছিলো তার যতটা ভালোবাসা পাওয়া দরকার সে ততটা পেত না বাবার কাছ থেকে।

IMG_20200911_181134 (1).jpg

গল্পটা বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেই নেওয়া। কেউ কেউ পিতামাতার ভালোবাসা বুঝতে অক্ষম হয়, জীবনের চুড়ান্ত পর্যায়ে গেলে উপলব্ধির দরজা খুলে যায় সেই অভাগা পিতামাতার ভালোবাসা। কিন্তু তখন বড্ড দেরি হয়ে যায়।

তেমনি আকাশের জীবনেও আফসোস আছে সে সঠিক সময়ে সঠিক ভালোবাসা অনুধাবন করতে পারেনি।

আকাশ বেশ চঞ্চল টাইপ ছেলে। এবছরই এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে, রেজাল্টের অপেক্ষায় আছে। বেশ মেধাবী ছাত্র, বাবা অফিসের স্টাফদের কাছে গল্প করে তাকে নিয়ে, সে খুবই গর্বিত আকাশকে নিয়ে। রহিম সাহেব ঢাকার একটা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে। সিরাজগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গ্রামের বাড়ি,সেখানে পরিবারকে রেখে ঢাকায় গিয়ে রোজগারের উদ্দেশ্যে গিয়ে থাকে। অফিসে ভালো একটা পজিশনে আছে সে কিন্তু পরিশ্রম অনেক। মাসে একবার বাড়িতে আসাও তারজন্য কঠিন। বাড়িতে আকাশ আর তার মা থাকে। আকাশ দায়িত্বহীন, মায়ের খেলায় একদম রাখে না। মা নিজেই বাজারঘাট করে খাওয়ায় তাকে। তবে মায়ের কষ্ট গায়ে লাগায় না কারন সে যথেষ্ট মেধাবী ছেলে, পড়াশোনা করে তাদের মুখ উজ্জ্বল করবে এটাই তাদের প্রত্যাশা।

এসএসসির রেজাল্ট প্রকাশ হলো, আকাশ গোল্ডেন জিপিএ পেয়ে উত্তির্ন হলো। সবাই খুশি তার এমন ভালো ফলাফলে। সেদিনও রহিম সাহেব বাড়িতে আসতে পারলো না কাজের চাপে। সেইজন্য আকাশের মন খারাপ, মা তাকে বুঝালো তবুও সে তার বাবার সাথে রাগ করে রইলো। সে বাবাকে দোষারোপ করতে থাকলো যে তাকে যথেষ্ট ভালোবাসা হয় না সে যতটা প্রাপ্য ভালোবাসার। তার যতটা যতটা প্রয়োজন সেটি তাকে সর্বদা দেওয়া হয় না। তার ক্ষোভ এইভেবে যে তার এতো খুশির দিনেও তার বাবা বাড়িতে তাদের সাথে সময় কাটালো না। সেবার রহুম সাহেব পরের মাসে এসে আকাশের রাগ ভাঙিয়ে ছিলো।

এসএসসির রেজাল্ট নিয়ে সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজে গিয়ে ভর্তি হলো আকাশ। সিরাজগঞ্জ সদর থেকে তার বাড়ি বেশি দুরে না, ২০টাকা বাস ভাড়া হলেই বাড়ি। কিন্তু সে বায়না ধরছে কলেজের পাশে মেচে থাকবে বন্ধুদের সাথে। বাবা রাজি হলেও মা একদম রাজি না তাকে মেচে দিতে কিন্তু ছেলের বায়না। মাসে মাসে প্রয়োজনের চেয়ে দ্বিগুণ টাকা নিতে থাকলো আকাশ একের পর এক এক্সকিউজ দেখিয়ে। বাবা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে পরিবার রেখে ঢাকায় গিয়ে রোজগারের করছে,সে জানতেছে আকাশ সব টাকা পড়াশোনার পিছনেই খরচ করছে কিন্তু সে আজেবাজে অপচয় করছে। কয়েকদিন পর আকাশ বায়না ধরে তাকে ৪ লাখ টাকার বাইক কিনে দিতে হবে।

রহিম সাহেব এইবার একটু নড়ে বসলো, কারন সে সংসারের খরচ সব আশেপাশের সব খরচ ম্যানেজ করে আকাশের ভবিষ্যতের জন্য টাকা জমাচ্ছে। সেখানে ৪ লাখ টাকা দিয়ে ছেলেকে বাইক কিনে দেওয়া মানে জামনো টাকার প্রায় সম্পুর্নই শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু আকাশ নাছোর বান্দা পড়াশোনা করবে না বাইক কিনে দিলে। কোন কুল না পেয়ে রহিম সাহেব তাকে তার পছন্দের বাইক কিনে দিলো।

১২ বছর পর আজকে আকাশ তার ভুল উপলব্ধি করতে পারছে। এখন কেউ নেই আকায় ছাড়া, বাবা ঢাকায়ই এক্সিডেন্ট করে মারা যায় তার কিছুদিন পরেই। আর মা সেই শোকে তার কয়েক বছর পর মারা যায়। আকাশ এখন একা, পড়াশোনাও সেই ২ বছরেই ধ্বংস হয়েছে তার। এখন গ্রামে তাতঁ বুনছে৷ এখন উপলব্ধি করতে পারছে সে তার জীবনে কতবড় ভুল করেছে।

আমাদের পিতামাতা আমাদের ভালোর জন্য সবকিছু বিসর্জন দিতে পিছুপা হন না। তারা কখনো আমাদের খারাপ চায় না, সর্বোচ্চ টা দিতে সব সময় প্রস্তুত তারা তবুও আমাদের স্বার্থের কমতি হলে আমরা তাদের ভুল বুঝে বসি।

আমিই ভুল ছিলাম। | Ecency