শীতের সকালে ঘুম যেন ভাঙতেই চায় না। ৯টা বাজে ক্লাস, তখনো ঘুমাচ্ছিলাম। ঘড়িতে ইতিমধ্যে ৯ বাজে, তাই ভাবলাম, প্রথম ক্লাস টা মিস দিয়ে পরের ক্লাস গিয়ে এটেন্ড করবো। এই বলে ফোনটা রেখে পাঁচ মিনিট ঘুমিয়ে উঠে দেখি সাড়ে ৯টা বাজে। ১০টায় আরো একটা ক্লাস আছে, তাই আর আলসেমি না করে উঠে ফ্রেশ হয়ে, কোন রকম সকালের নাস্তা টা সেড়ে বেরিয়ে পরি।
রাস্তায় কোন রিকশা নেই, হেঁটে হেঁটে যেতে ১০ মিনিট লেগে গেলো বাসস্ট্যান্ডে পৌছা'তেই। ইতিমধ্যে ক্লাস শুরু হয়ে গেছে। বাসস্ট্যান্ডে দাড়াতেই সিএনজি চালিত অটো পেলাম, অটোতে গেলে বেশিক্ষণ লাগে না। ১০ঃ২০ এ ক্লাসে ঢুকলাম, স্যারের দিকে তাকিয়েই বুঝতে পারছিলাম, স্যার রেগে আছে। কোন কিছু না বলে চুপচাপ চেয়ারে গিয়ে বসে কম্পিউটার অন করে স্যারের দেওয়া কাজ করতে ছিলাম।
কিন্তু কিছুই বুঝতে পারছিলাম না, পাশের বন্ধুর দেখে ট্রাই করতে নিতেই সামনে থেকে কর্কশ কণ্ঠে আওয়াজ আসে, যার যার মতো করে কম্পপ্লিট করতে হবে। যাক বাবাহ! তাইলে এটা আমার দ্বারা হবে না। চুপচাপ বসে রইলাম, বর ক্লাস শেষ হওয়ার অপেক্ষায় রইলাম। আজকে আবার ক্যাম্পাসে পিঠা উৎসব, ক্লাসে ঢোকার আগে দেখলাম অন্য অন্য ডিপার্টমেন্টের স্টুডেন্টরা পিঠা সাজিয়ে বসে আছে।
ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেই উৎসবের আমেজটা টের পেয়েছিলাম। শীতের সকালে ঠাণ্ডা হিম বাতাসে উৎসবের আমেজটা নতুন মাত্রা দিয়েছে। ক্লাস শেষ হওয়ার অপেক্ষা করতে পারছিলাম না। যাক অবশেষে ক্লাস শেষ হলো, তাড়াতাড়ি বাইরে বের হয়েই স্টল গুলায় এক নজর করে দেখা শুরু করলাম।
ওহ, বলতে ভুলে গেছি, সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সলর অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। একাডেমিক ভবনের সামনে এ পিঠা উৎসবের আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষর্থীরা, তবে ফার্মেসী বিভাগের বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদেরই বেশি দেখা যাচ্ছিলো;)। পিঠা উৎসবে বেশ কয়েকটি স্টল বসেছে। নানান রকমের পিঠাগুলো খেতে ভিড় করেছে শিক্ষার্থীরা। স্টলগুলো ঘুরে দেখা গেল বাঙালি ঐতিহ্যের নানা রকম পিঠা সাজানো রয়েছে। পুলি, ভাপা, চিতই, পাটিসাপটা, মাংস পিঠা, নকশা, পাকন, শামুক, ডিম প্রভৃতি পিঠার সমাহার
ইতিমধ্যে পিঠা বিক্রি শুরু হয়ে গেছে। পিঠাগুলোর দাম ছিল শিক্ষার্থীদের সাধ্যের মধ্যেই। আলাদা আলাদা করে দাম লেখা ছিলো। উৎসবে অংশগ্রহণ প্রায় সব পিঠা স্টলগুলোতেই ছিল পিঠার বৈচিত্র্য। উৎসবে আসা সবাই বিভিন্ন স্টল ঘুরে ঘুরে পিঠা খাচ্ছিলো। প্রতি বছরই এ উৎসব হয় আমাদের ক্যাম্পাসে। আমার কাছে খুব ভালোই লাগে। যদিও শীত এলেই আম্মু পিঠা বানায়। তবে ক্যাম্পাসে এ রকম উৎসবে সবার সঙ্গে পিঠা খাওয়ার মজাই আলাদা।
এসেছে শীত গাহিতে গীত বসন্তেরি জয়, যুগের পরে যুগান্তরে মরণ করে নয়- কবিগুরু