একদিন বাড়ি ফিরবো না, ক্যাম্পাস থেকে ফেরার পথে, মাঝরাস্তায় কোথাও নেমে যাবো। যে ট্রেন পাহাড়ে যাবে সেটায় উঠে পরবো। ফোন বন্ধ করে ব্যাগের মধ্যে রেখো দিব, যেন ফোনেও কেউ না পায় আমায়। সব চিন্তা ভাবনা ঝেড়ে ফেলে দিব। পড়াশোনা, পরীক্ষা, টিউশন ফি সমস্ত কিছু মুছে ফেলে, ট্রেনের জানালার পাশের একটা সীট ধরবো, হারিয়ে যাব পাহাড়ের দিগন্তে, দেখতে থাকবো দুরে সরে যাওয়া মানুষ গুলোকে। একদিন সত্যিই পালিয়ে যাব, এই সমস্ত কোলাহল, হিংসা বিদ্বেষ, চেনা মানুষ, চেনা শহর, বন্ধুবান্ধব।
সত্যিই একদিন পালিয়ে যাবো, শহরের সকল ঝঞ্জাট ছেড়ে। একান্তে, নিভৃতে,বুকভরে নিশ্বাস নেয়ার স্থানে, এক নাগারে তাকিয়ে থাকবো আকাশের পানে, আর সর্বশক্তি দিয়ে চিৎকার করবো, যেটা ভিতরে আটকে থাকতে থাকতে প্রায় জমাট বাধা অবস্থা, এক চিৎকারে ঝেড়ে ফেলে দিব সব। আর একটা গল্প বলা শুরু করবো, সে গল্পের শ্রোতা হবো আমিই। গভীর মনোযোগে শুনবো, যেগুলো কাউকে কখনো বলতে পারিনি। বিরক্তির বাঁধ ভেঙে দিব সেদিন, সমস্ত বিরক্ত পিছনে ফেলে হারিয়ে যাব সবুজে ছাওয়া রাজ্যে।
একদিন ঠিকই পালিয়ে যাবো, ঐ দূর আকাশের নীল আর পাহাড়ের সবুজে হারিয়ে যাবো। কর্তব্য আর দায়িত্বের শিকলে ছিঁড়ে পালিয়ে যাব, মায়ার জাল কাটিয়ে অভিকর্ষ বলের বিপরীতে এগিয়ে যাব। ট্রেনের শান্তি একটা সীটে বসে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পরবো, উঠে আবিস্কার করবো এক অচেনা শহর, যেখানে আমাকে কেউ চিনবে না, আমিও কাউকে চিনবো না। স্বাধীন মতো নতুন জীবন শুরু করবো।
একদিন পালিয়ে যাব, মন ভীষন ক্লান্ত, হারিয়ে যাব সকালের স্বর্নালী উজ্জল রোদ্দুরে, তাকাবো পিছন ফিরে। পাহাড়ের এতেটা উপরে উঠবো যেন নিচে তাকালে দেখা না যায় কাউকে। এমন জায়গায় যাবো যেখানে কেউ পিছনে কুন্জুস এবং সামনে গুনগানে ভাসিয়ে দেওয়ার থাকবে না।
একদিন ঠিক পালিয়ে যাব, শীতের ভোরে, হাজার খানেক মান অভিমান আর একখানা হুডি পরে। কুয়াশার অন্ধকারে মিলিয়ে যাব, তাকাবো না পিছন ফিরে। যে কুয়াশায় সূর্যের আলো প্রবেশ করতে পারে না, সেখানে আমায় দেখার প্রশ্নই আসে না। একদিন ঠিক মিলিয়ে যাব এই মেঘ ঘেরা পাহাড়ের ছোট্ট গ্রামের ছোট্ট ঘরে।
একদিন ঠিক পালিয়ে যাব সমুদ্রে শহরের হৈচৈ থেকে, জাহাজের কোন এক কোনায় বসে পানির গর্জন শুনবো আর মনকে সতেজ করবো।
একদিন ঠিক পালিয়ে যাব সবকিছু ছেড়ে একবুক মান অভিমান নিয়ে।