আমার পড়ার টেবিলটা জানালার ঠিক পাশেই, চেয়ারে বসে, সামনে একটি প্লেটের মধ্যে কয়েকটা শুকনা বিস্কুট নিয়ে বসে, বিস্কুট গুলো হাত দিয়ে ভাঙছিলাম আর ভাবছিলাম। একই সাথে চোখেরজল মুছছিলাম। তখন বাইরে ঠান্ডা বাতাস বইতে ছিলো, শুষ্ক বাতাসে চোখেরজল শুকিয়ে যাচ্ছিলো। বিস্কুটের প্লেটটি টেবিলের নিচে রেখে বাইরে গিয়ে বসলাম।
আমি তখন ভীষণভাবে কনফিউজ ছিলাম, আমি কি করতে যাচ্ছি বা কি হতে যাচ্ছে, সেসব নিয়ে মাথায় হাজার টা চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছিলো। আমি অবাক হচ্ছিলাম এটা ভেবে যে, প্রায় ২০ ঘন্টার বেশি হতে চলছে, কেন আমি এখনো স্বাভাবিক হচ্ছি না? অন্তত স্বাভাবিক হওয়ার কথা ছিলো, আমি প্রত্যাশা করছিলাম ঠিক হয়ে যাবো কিন্তু ঠিক হচ্ছিলাম না।
তবে এটা শান্তিপূর্ন ছিলো, অধিক প্রত্যাশা বা অশ্রু ভাগ করে নেওয়ার থেকে দুরে। এখন আমার দুঃখ শুধু মাত্র আমাট একার, সাথে সুখও আমার একান্তই নিজের। কারো সাথে ভাগাভাগি করতে হবে না আর। তবে এটা সত্যি যে আমি দিনের প্রতিটা সেকেন্ডে তাকে মিস করছিলাম, আমার এমন কেউ নেই যার সাথে মন খুলে আমার দুঃখগুলো ভাগ করে নিবো,এবং বলবো যে আমি তাকে খুব বেশি মিস করছি। যে আমাকে একটু সান্ত্বনা দিবে এবং বলবে সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে। কেউ নেই যার কাছে আমি তার সম্পর্কে বলবো যে সে সত্যি অনেক ভালো ছিলো, সে আমায় খুব কেয়ার করতো, তাকে ঘৃনা করার মতো কিছু নেই আমার কাছে। হ্যা, এটাকেই বলো একাকিত্ব।
আমার পাশে যদি কেউ থাকতো তবে তার সাথে সমস্ত কিছু শেয়ার করতাম, আমি তার উপর কতটা রেগে আছি, আমি কতটা হতাশ তার আচরনে, আমার সমস্ত ইফোর্ট আজকে ছাই হয়ে গেছে। সবকিছু বলতাম, কিন্তু আমি রুমের সামনে দরজার পাশে বসে বাইরে তাকিয়ে আছি। লবনাক্ত অশ্রু শুকিয়ে চোখ কালো হয়ে আছে। আমি কাউকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরার আক্ষেপ করছি, আমি জোরে কাঁদতে পারছিলাম না কারন আশেপাশে সবাই ছিলো কিন্তু কেউ আমার দুঃখ বুঝতে পারছিলো না কারন আমি কাউকে বুঝতেই দিচ্ছি না। বুঝবে কিভাবে!!
আমি চোখ বন্ধ করতে পারছিলাম না, যখনই বন্ধ করতে যাই, এটা আমাকে দুস্বপ্নের দেশে নিয়ে যায়, ঠিক একই কারনেই আমি ঘুমাতেও পারছিলাম না। আমি ঘুমের ঔষধ খাওয়ার কথা ভাবছিলাম কিন্তু আমি প্রত্যাশা করছিলাম যে সে আমাকে ফোন দিবে, আমি যদি গভীর ঘুমিয়ে যাই তাহলে হয়তো তার ফোন রিসিভ করতে ব্যার্থ হবো। আমি দিনে বসে বসে দুঃস্বপ্ন দেখছিলাম, ভীষন ভয়ংকর ছিলো।
আমি যখন ঘড়ির দিকে তাকালাম, এটা এমন মনে হচ্ছিলো যেন সময় থমকে আছে। ঘড়ির কাটা থামকে দাড়িয়ে আছে এক জায়গায়, এটা নড়াচড়া করছে না। হঠাৎ আম্মু ডাক দিলো গোসল করার জন্য, কিন্তু আমার কেমন শীত শীত লাগছিলো। এবং এক ঘন্টা পর উপলব্ধি করলাম আমি জ্বরে আক্রান্ত । ততখনাৎ ঘুমের পিলের পরিবর্তে একটি জ্বরের তীব্রতা কমানোর জন্য ঔষধ খেলাম।
কারন বুঝতে পারছিলাম, যে আমার এখন দুঃখে ডুবে থাকার চেয়ে সব ঠিক হওয়া বেশি জরুরি। আমাকে স্বাভাবিক হতে হবে । ঘুমের পিল খেয়ে সারাদিন ঘুমানো আমার সাথে যায় না, আমার আরো হাজার টা জিনিস করার বাকি আছে, সেগুলো করতে হবে। আমাকে অনেক দুরে যেতে হবে যেখানে দূঃখের সাথে আপোষ করলে চলবে না।