রমজান মাস সবার জন্য সমান নয়। আমাদের আশেপাশে অনেক
অসহায় মানুষ আছে যারা এই রোজার জন্য অন্য সবার মতো বা আর্থিকভাবে সচ্ছল প্রস্তুতি নিতে পারে না। হঠাৎ দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতির ফলে তাদের অসহায়ত্ব যেন দিগুণ আকার ধারন করেছে। যেমন তেলের দাম কয়েক গুন বাড়ায় দিনমজুর মানুষদের জন্য যেন প্রায় অসম্ভব সেই সাথে চাল-ডাল সহ অন্যসব দ্রব্য মূল্যও অনেক বেড়ক গেছে রোজায়। সাধারণ মানুষ গুলোও অসহায় পড়েছে।
এদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অধিক হাড়ে বাড়লেও মানুষের আয় বাড়েনি, আয় আগের মতো থাকলেও দ্রব্য মূল্যের দাম অনেক গুনে বেড়েছে। আমরা যদি একটু সংযত হয়ে সেইসব অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াই, তাহলে তাদের রোজা রাখা অনেক সহজ হবে। এতে তারা আমাদের জন্য দোয়াও করবে, আবার তাদের রোজার সমপরিমাণ সওয়াবও পাওয়া যাবে।
আমরা মুসলমানরা জানি যে, যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিঃস্বার্থভাবে কোন ক্ষুধার্ত মানুষের আহারের/খাবারের ব্যবস্থা করে, আল্লাহ তাদের জন্য সুসংবাদ রেখেছে। আবার বর্তমান সময়ে বেশির ভাগ মানুষই আছে অসহায়ত্বে, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্তরা পরিবারের ব্যয়ভার বহন নিয়ে ভীষণ বিপাকে আছে। এই সময়ে আমরা যদি নিজেদের জন্য কম কম খরচ করে অন্যদের সহযোগিতা করি, তাহলে আল্লাহর কাছে এর উত্তম প্রতিদান পাওয়া যাবে।
প্রতিবছরের ন্যায় এই বছরেও আমি প্রায় ৩৫ টি পরিবারকে সাহায্য করেছি নির্দিষ্ট কিছু খাদ্য দ্রব্য দিয়ে। আমি মূলত আমার গ্রামের অসহায় মানুষদের ভালো ভাবে চিনি যারা সংগ্রাম করছে এই কঠিন সময়ে। ৩৫টা পরিবার যারা বেশিই সমস্যার মধ্যে আছে তাদের বাছাই করে দিয়েছি। তাদের মুখের হাসিতেই ছিলো আমার খুশি, তারা খুব সামান্য কিছুতেই এতে বেশি খুশি হয়েছিলো যা কল্পনাতীত।
নিচে কি কি খাদ্যদ্রব্য এবং কিপরিমান দিয়েছি তার একটি লিষ্ট রাখবো।
হাফ কেজি খেজুর।
১ কেজি ছোলা ।
১ কেজি চিনি ।
৫ কেজি চাল।
১ কেজি- ডাল ।
এক বোতল সয়াবিন তেল।
২৫০ গ্রাম গুড়ো দুধ ।
এক প্যাকেট লাচ্ছা।
এক প্যাকেট সেমাই।
প্রতিটি বাক্সে উপরের ৯টি পদ ছিলো এবং প্রতিটি পরিবার যারা পেয়েছে তাদের জন্য রোজায় ঈফতার এবং ঈদের দিনে মিষ্টিমুখ করার জন্য যথেষ্ট।
একটু খেয়াল করলেই দেখবেন আপনার আশেপাশে অনেক অসহায় মানুষ রয়েছে যাদের আপনার একটু সাহায্য ভীষণ উপকার করবে। এতোটুকু অন্তত নিশ্চিত করবেন যাতে আপনার সাধ্যথাকা সত্বেও একটি পারিবার অনাহারে না থাকে। আমি সাধারণত ডোনশন করি না যদি না খুব জরুরি, আমি নিজে খুজে বের করে এগিযে যাই সাহায্য নিয়ে। আমার স্বল্প আয়ে এবং বড় প্রচেষ্টায় আমার আশেপাশের অসহায় মানুষগুলোকে অনাহারে থাকতে দেই না। আমার স্বল্প আয়ের কিছু পরিমান অর্থ তাদের পিছনে খরচ করি যারা ভিক্ষা করতে পারে না বা অন্যের কাছে হাত পাততে পারে না। আমার মতে তাদের মতো অসহায় মানুষ আমাদের আশেপাশে অনেক রয়েছে।