জীবনের অনেকটা সময়ই তো পাড় করলাম, নিজেকে নিয়ে না লিখলে হয়!? কখনো কখনো মনে হয় শান্ত হয়ে কোথাও বসে আজকে অন্তত একটু নিজেকে নিয়ে ভাবা যাক। এতটা বছর জীবনের কিভাবে পার করলাম, জীবনের মূল্যবান সময়গুলো কেমন ছিল,কেমন কাটছে। এখন এসে অনেক কিছুই মনে করতে পারি না। আগের আনন্দঘন মুহূর্ত গুলো এখন বেশি মনে পড়ে না। চাইলেও জীবনের অনেক সময় আমরা অনেক কিছু মনে করতে পারি না। সময়ের সাথে সাথে নিজেদের মস্তিষ্ক থেকে আগের দিনগুলো হারিয়ে যায়। তখনই হয়তো মানুষ নিজের জীবনের সব মুহূর্ত মনে রাখার জন্য একটা জীবন বৃত্তান্ত লেখার সিদ্ধান্ত নেয়। চলতে চলতে অনেকটা সময়ই জীবনে চলে গেছে। ভালো, খারাপ স্মৃতির সংমিশ্রণে এতোদুর। সবকিছু মেনে নিয়েই আমরা সময়ের পর সময় পার করে আসছি। অনেক সময় জীবনের অনেক আনন্দঘন মুহূর্ত কাটিয়েছি, অনেক সময় অনেক কষ্টের দিনও দেখতে হয়েছে। আমার স্কুলের বন্ধুদের দেখতাম, তারা ডায়রিতে অনেক কিছু লিখে রাখতো।
সত্যি বলতে আমার এসব নিয়ে কোন আগ্রহ ছিলো না। নিজের বন্ধু মধ্যে যখন নিজের জীবন নিয়ে লেখার কথা শুনতাম তখন একটু হাসি পেতো। প্রতিটি দিন সম্পর্কে লিখে রাখার কিছু নেই। একজনকে দেখতাম জীবনের ছোট ছোট মুহূর্তগুলোকেও ডাইরির পাতায ভর্তি করে লিখতে পছন্দ করতো। একটা ক্লাস শেষ হতো, আর ডায়রিতে লিখতে শুরু করতো। নিজের জীবনের ছোট ছোট খুশি গুলো ডাইরির পাতায় লিখতে পছন্দ করতো। জীবনের সময় গুলো কিভাবে পার করেছে, স্মৃতি হিসেবে ডাইরির পাতায় রাখতে অনেকেই পছন্দ করে। এখন আমার মধ্যেও কেন জানি এই লেখার বিষয়টা বারবার নাড়া দিচ্ছে। সবার মত আমারও মাঝে মধ্যে নিজের জীবনটাকে একটু ফুটিয়ে তুলতে ইচ্ছে করে ডাইরির মধ্যে, জমিয়ে রাখতে ইচ্ছে করছে। যত সময় যাচ্ছে নিজের প্রিয়জনদের নিয়ে ততই যেন ভয় পাচ্ছি। মনে হয় যেন এই সুন্দর সময় গুলো যদি কখনো হারিয়ে যায়। তাই ইচ্ছে করে নিজের ভালোবাসার মানুষদের সাথে কাটানো সময়গুলো ডায়েরির পাতায় বন্দি করে রাখি।
নিজের বন্ধুদের সাথে হাজারো রঙে রাঙানো দিনগুলোকে ডাইরির মধ্যে আরো রঙিন করে তুলে ধরতে। সময়ের সাথে দিন গুলো ভুলে যাওয়ার আগেই বন্দি করতে ইচ্ছে করছে। বন্দি করে রাখতে ইচ্ছে করে চোখের পানিতে ভেসে যাওয়া কষ্টের সময় গুলো। মানুষের এবং নিজের ভুল গুলো যাতে ভুলে যেতে না হয়। ডাইরির প্রতিটা শব্দ যেন উচ্চস্বরে প্রতিশব্দ হয় স্মরণ করিয়ে দেয়। প্রতিটা স্বপ্ন যেন আমাকে নতুন ভাবে সুন্দর স্মৃতি হয়ে চোখের সামনে ভেসে ওঠে। আনন্দঘন সেই মুহূর্তগুলো যেন আমি বারবার পড়ে নতুনভাবে জাগরণ সৃষ্টি করতে পারি নিজের মধ্যে। আমি যখনই জীবনের প্রতিটা পৃষ্ঠা উল্টে দেখব তখন যেন প্রতিটা শব্দই আগের সময়গুলোকে আমার সামনে তুলে ধরে। শব্দের মাধ্যমে আমার অনুভূতি গুলো যেন জাগ্রত হয় সময়ের সেই ভুল গুলো সাথে। কখনো যেন নিজেকে একা অন্ধকার রুমে রেখে চিৎকার করে কাঁদতে না হয়। ডাইরির পাতার শব্দগুলোই যেন প্রতিনিয়ত চিৎকার করে কাঁদে। কিছু কিছু মুহূর্ত গুলো ভেবে হাসতে পারি নিজেকে নিয়ে।
এভাবেই নিজের নোটবুকের প্রতিটি পাতায় নিজের জীবনের শব্দগুলো তুলতে ইচ্ছে করে এখন। এক একটা শব্দ এমন ভাবে লিখতে ইচ্ছে করে যেন সেই শব্দগুলো জীবন্ত এক জীবন থাকে আমার কাছে। যখনই প্রিয় মানুষগুলো হারিয়ে যাবে তখন যেন এই নোটবুকের পাতাগুলি আমার সুখের জীবন সঙ্গী হয় তাদের নিয়ে। এখন খুব এভাবেই ভাবতে ইচ্ছে করে নোটবুক নিয়ে। সময় আমাকে ভালোবাসার মাধ্যমে একটু একটু করে পাল্টে দিচ্ছে। এখন নতুন অনেক কিছুই জীবনে করতে ইচ্ছে করে। আর এই ইচ্ছের মধ্যে নতুন ইচ্ছেটা হলো আমার নোটবুক। এক জীবন্ত নোটবুক। যেটা আমার সুখগুলো ও আমার কষ্টগুলোও নিজের মধ্যে বহন করে বেড়াবে। যতই আমার নোটবুক এর উপরের ধুলো ময়লা জমুক না কেন এর ভেতরটা থাকবে একদম প্রাণবন্ত। যার মধ্যে হাজার রঙের শব্দ থাকবে এবং সাদা কালো শব্দ ও এর মধ্যে ছড়িয়ে থাকবে।
মনের সব কথা শব্দ হয়ে বেরোতে পারে না, সেগুলো লিখে প্রকাশ করার জন্য হলেও আমি ডায়রি লিখতে চাই