আর সে এমন এমন সব কীর্তিকলাপ, যা শুনলে হাসি এমনিই চলে আসে। সে হাসি চাপবেন কি করে? – ওসব উদ্ভট কাণ্ডকারখানা শুনলে হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরে যাওয়ার জোগাড় হয় যে। আর সেই কারণেই তো ছোটোবেলায় পাওয়া গোপালের বইটা এতোদিন ঘরে যত্ন নিয়ে সামলে রাখা। আর যাঁদের ছোটো বয়সে শখ পূরণ হয়নি তাঁরাও এখনও বইমেলা ছোটোদের স্টলে ঢুকে গোপালের বই ঠিক নিজের কালেকশনের জন্য জোগাড় করে নেন। সুযোগ পেলেই মন খারাপের আড়ালে কয়েকটা পাতা উল্টে নেওয়া। আর তারপর একপ্রস্থ হাসির রোল…এরজন্য কোনও সঙ্গী চাই না, আর থাকলেও মন্দ হয় না.
গোপাল ভাঁড়ের বংশধর…
নগেন্দ্রনাথ দাস। তাঁর দাবি, গোপাল ভাঁড় সত্যিই ছিলেন, আর তিনি তাঁর বংশধর। আর এই দাবি জোরালো করতে আস্ত একটি বইও লিখে গিয়েছেন তিনি। নাম – নবদ্বীপ কাহিনী বা মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র ও গোপাল ভাঁড়। নিচের দিকে লেখকের নাম – শ্রীনগেন্দ্র দাস প্রণীত। আর সঙ্গে ৫৪ নং সুকিয়া স্ট্রিট, কলিকাতাও উল্লেখিত। বইটি থেকে জানা যায়, গোপালের পদবী ছিল নাই। তাঁর ঠাকুরদাদা নাম ছিল আনন্দরাম নাই। তিনি আবার তন্ত্রসাধক ছিলেন। গোপালের বাবা ছিলেন দুলাল চাঁদ নাই। পেশায় নাপিতের কাজ করতেন। তাঁর ছেলেই হলেন গোপাল। তাঁর বিচক্ষণতা আর উপস্থিত বুদ্ধি দেখে নদীয়ার রাজা মহরাজ কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে নিজের সভায় রত্নের স্থান দেন। তখন থেকেই তাঁর পদবী হয়ে যায় ভাণ্ডারী। আর সেই ভাণ্ডারী পদবিই বিবর্তিত হত হতে ভাঁড় শব্দে রূপ নেয়। যদিও রাজসভার কৌতুক শিল্পীদের ভাঁড় বলেও ডাকা হতো। কিন্তু, সে নিয়ে বইতে তেমন কিছু বলা নেই।
গোপালের বংশধর…
বইটির থেকে জানা যায় যে গোপালের একটি কন্যা সন্তান ছিল। আর তাঁর নাম রাধারাণী। আর বইয়ের লেখক নগেন্দ্র নাথ হলে গোপালের দাদা মানে দুলালের বড় ছেলে কল্যাণের বংশধর।
গোপাল ভাঁড়ের বংশ –
আনন্দরাম নাইয়ের ছেলে দুলাল চাঁদ নাই। তাঁর দুই ছেলে কল্যাণ ও গোপাল। কল্যাণের ছেলে কার্তিক। আর তাঁর ছেলে হলে গণেশ। তাঁর উত্তরসূরি বিশ্বনাথ। তাঁর ছেলে হলে বেহারীলাল। এই বেহারীলালের দুই ছেলে খগেন্দ্র আর নগেন্দ্র (বইটির লেখক)। খগেন্দ্রর কোনও বংশধর নেই। নগেন্দ্রর দুই ছেলে হয় – জীবনকৃষ্ণ ও কমলকৃষ্ণ। জীবনকৃষ্ণের দুই ছেলে – শিবরাম ও বলরাম। অন্যদিকে, গোপালের সরাসরি বংশধর বলতে তাঁর মেয়ে রাধারাণী। তাঁর দুই সন্তান – রমেশ ও শ। বইটিতে এখানেই উল্লেখ শেষ। এখন গোপালের বংশধর বলে নগেন্দ্রর দাবি সত্যি বলে প্রমাণ করার কোনও ঐতিহাসিক তথ্য পাওয়া যায়নি। তাঁর কথার ভিত্তিতেই এই ইতিহাসের সত্যতাকে মেনে নিতে হয়। দ্বিতীয় কোনও তথ্যও হাতে আসেনি যা থেকে নগেন্দ্র দাবিকে প্রমাণ করা যায় বা খণ্ডন করা যায়। তবে, সেসব কথা বাদ দিন – গোপাল ভাঁড় বাঙালির জীবনে ছিলেন, আছেন আর থাকবেন।