ব্যর্থতার প্রধান তিন কারণ || কেন মানুষ হাল ছেড়ে দেয় || হাইভে সফলতা পেতে কি করবেন
মানুষ কেন ব্যর্থ হয়- এর প্রধান তিনটি কারণ নিয়ে আজ আমি আলোচনা করবো। যারা এখানে নতুন আছেন, তাদের জন্য আশা করি এই পোস্টটি খুব কাজে দিবে। কারণ আপনি যদি ব্যর্থতার কারণগুলো জানেন এবং সে গুলোকে ওভারকাম করতে পারেন, তাহলে সফলতা অনিবার্য।
প্রথম কারণ: মানুষ তার নিজের জন্য ব্যর্থ হয়
মানুষ কেন ব্যর্থ হয়- এই প্রশ্নটির উত্তর এককথায় দেওয়া অসম্ভব। অনেকগুলো কারণেই মানুষ ব্যর্থ হয়। তবে সবচেয়ে বেশি যে কারণে মানুষ ব্যর্থ হয় তা হচ্ছে তার নিজের জন্য।
যেমন: আমি যদি একজন ব্লগারের কথা বলি, যিনি হাইভ বা এই ধরনের কোনো ব্লক চেইনে কাজ করছেন। তিনি যে যে কারণে ব্যর্থ হতে পারেন, তার মধ্যে অন্যতম হলো তার ধৈর্যের অভাব, হাল ছেড়ে দেওয়া, মেধাস্বত্ব চুরি করে নিজের ইমেজ নষ্ট করা, অন্যকে অন্ধ অনুকরণ করতে গিয়ে স্বাতন্ত্র্যবোধ হারিয়ে ফেলা ইত্যাদি।
এগুলো সবগুলোই কিন্তু ওই ব্যক্তির নিজের সাথে জড়িত। একটা কথা অবশ্যই মনে রাখবেন, কোন মানুষকে অন্য কেউ ব্যর্থ করতে পারে না। সর্বোচ্চ যেটা পারে- তার সফলতাকে একটু দীর্ঘায়িত করতে। কিন্তু সে যদি ধৈর্য এবং একাগ্রতার সাথে তার অভীষ্ট লক্ষ্যের দিকে অগ্রসর হতে থাকে, তাহলে সফলতা একসময় না একসময় আসবেই। এটা পৃথিবীর সৃষ্টি কাল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত চিরায়তা সত্য।
আমি আমার পরিচিত কয়েকজনকে দেখেছি, যাদেরকে আমি মোটিভেট করেছিলাম ব্লকচেইনে লেখালেখি করার বিষয়ে, তারা শুরু করেছিল, অনেকেই হাল ছেড়ে দিয়েছে। তাদের সাথে কথা বলে আমি যে সকল অভিযোগ গুলো শুনেছি সেগুলো হলো- তারা ভাল কনটেন্ট লিখে, কিন্তু সেভাবে রেওয়ার্ড পায় না.. অন্যরা তুলনামূলক দুর্বল কনটেন্ট নিয়েও অনেক বেশি পুরস্কৃত হচ্ছে.. তাই নিজেকে অমূল্যায়িত ভেবে তারা কাজে ইস্তফা দিয়েছে!
কিন্তু এতে ক্ষতিটা কার হলো? তারা ঠিকই এই সময়ে ফেসবুক, ইউটিউব স্ট্রিমিং করছে এবং এসব করে করে এই কোয়ারেন্টাইনের লম্বা সময় তারা অলস ভাবে নষ্ট করেছে। যার থেকে কোন বেনিফিট আছে আসছে না।
যদি তারা নিজের কাজে লেগে থাকতেন, কে কি করেছে, আর কে কি পেয়েছে, না পেয়েছে- সে সব হিসেব-নিকেশ না করে যদি নিজের যোগ্যতা ও মেধা কিভাবে আরো বৃদ্ধি করা যায়- সেদিকে নজর দিতেন.. তাহলে কিছু না কিছু তারা গেইন করতেন। এখন তাদের লাভের খাতা শুন্য। এজন্যই আমি বলি ব্যর্থতার প্রধান কারণ হচ্ছে- ব্যক্তিটি নিজে।
দ্বিতীয় কারণ: ফুটবল নিয়ে লক্ষ্যহীন ছোটাছুটি
মনে করেন- পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবল খেলোয়ারটা যদি সারাদিন বল নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করে, আর কোন গোলপোস্ট মাঠে না থাকে, তাহলে কিন্তু একটা গোলও হবে না। ধরেন মাঠে মেসি খেলছে। অসাধারণ সব কারিশমা দেখাচ্ছে সে বল নিয়ে। খুব স্মার্ট দেখাচ্ছে। কিন্তু মাঠে কোন গোলপোস্ট নেই! তাহলে দিন শেষে তার পারফরম্যান্স হবে গোলশূন্য..
অতএব, ব্যর্থতার দ্বিতীয় যে প্রধান কারণ তা হলো- গোলপোস্ট না থাকা। ভিশন ক্লিয়ার না হওয়া।
আমরা বেশিরভাগ মানুষ খুব বেশী দুরে তাকাতে চাই না। আমাদের দৃষ্টি সবসময় বর্তমানের দিকে। ইনস্ট্যান্ট বেনিফিট আমরা চাই। যে কারণে আমরা খুব সহজে হাল ছেড়ে দেই। আজকে আমি যে কাজটি করছি, তার থেকে হয়তো সাথে সাথে কোন বেনিফিট আমি পাচ্ছি না, কিন্তু হিডেন কোন বেনিফিট কি নেই?
যেমন আমি নিজের কথাই বলি। ব্লকচেইনে কাজ করতে এসে বিভিন্ন রকম কমিউনিটিতে বিভিন্ন রকম কনটেস্টে এবং চ্যালেঞ্জে অংশগ্রহণ করেছি। যেগুলো থেকে হয়তো কোন বলার মত আউটপুট পাইনি। কিন্তু এমন কিছু কাজ শিখেছি, যা ভবিষ্যতে আমাকে সাপোর্ট দিবে। এক মাস আগেও আমি ভিডিও এডিটিং পারতাম না, দুই মাস আগেও আমি ফটো এডিটিং, পোস্টার তৈরি, গ্রাফ তৈরি.. এই কাজগুলো তো একেবারে আনারি ছিলাম।
কিন্তু ব্লক চেইনে কাজ করার সুবাদে বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট নিয়ে কাজ করতে গিয়ে এই কাজগুলো আমি করতে শিখে গেছি। প্রথম প্রথম অনেক ভুল হতো, অবশ্য এখনও হয়। এখনও শিখছি। ভুল করতে করতে একসময় দক্ষতা অর্জন হয়। আর যে কাজটি করতে করতে শেখা হয়, সেটির ভিত্তি অনেক মজবুত হয়।
তাই আমাদের উচিত শুধুমাত্র বর্তমানের দিকে না তাকিয়ে একটু দূরে দৃষ্টি দেওয়া। দূরদৃষ্টিসম্পন্ন মানুষ জীবনে সফল হয়।
তৃতীয় কারণ: খাপ না খাওয়া
তৃতীয় যে সমস্যাটি এখানে মানুষ বেশি ফেইস করে, সেটি হল- খাপ খাওয়ানো। আপনি যে কাজটি করবেন, সেটির সাথে আপনাকে এডজাস্ট হতে হবে। যদি এডজাস্ট হতে না পারেন, তাহলে আপনি ওই কাজে কখনো মজা পাবেন না এবং মজা না পেলে দীর্ঘদিন ধরে কাজটি করা আপনার জন্য সম্ভব হবে না। কোনো না কোনো সময় আপনি কুইট করবেন।
এবারও ব্লকচেইন দিয়েই উদাহরণটা দেই। ব্লকচেইনের সাথে অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ার কিছুটা পার্থক্য আছে। ফেসবুকে যে ধরনের পোস্ট দিলে বেশি লাইক পাওয়া যায়, কিংবা ইউটিউবে যে ধরনের ভিডিও দিলে আপনার ভিউয়ার্স এবং সাবস্ক্রাইবার বাড়বে, হাইভ ব্লকচেইনে সবসময় সেটা নাও হতে পারে। হয়তো আপনি মাইক্রোব্লগিংয়ের করতে পারেন, কিন্তু এখানে আপনার লেখাটা একটু বড় এবং কোয়ালিটি সম্পন্ন না হলে আপনি ভালো আউটপুট পাবেন না। এই বিষয়গুলোর সাথে আপনাকে এডজাস্ট হতে হবে।
পাশাপাশি এখানে বেশ কিছু কমিউনিটি আছে। সেই কমিউনিটির সাথে আপনাকে মিশে যেতে হবে। যাদেরকে নিয়ে আপনি কাজ করছেন, তাদেরকে জানার চেষ্টা করতে হবে। সেটা না করে যদি শুধুমাত্র টাকার পেছনে ছোটেন, তাহলে সামান্য কিছু টাকা সাথে সাথে হয়ত আপনি পাবেন। কিন্তু কাজটায় আপনি মজা পাবেন না। আর মজাবিহীন কাজে একটা নির্দিষ্ট সময়ের পরে গতি কমে আসে, উৎসাহ হারিয়ে যায়। ফলে তা ক্রিয়েটিভিটি কমিয়ে দেয়। এবং ধীরে ধীরে আউটপুট কমতে থাকে।
অতএব আপনি যে কাজটি করেন, চেষ্টা করেন কাজটি সাথে খুব দ্রুত এডজাস্ট হয়ে যেতে। এটার জন্য আপনাকে প্রথমে যা করতে হবে, তা হল- সেই কাজটি খুব ভালো করে বুঝতে হবে। আপনি যখন কোন একটা কাছে পৌঁছে করবেন তখন আপনি বুঝতে পারবেন কাজটা কি ডিমান্ড করে এবং আপনার কাছ থেকে কি প্রত্যাশা করে। আর যদি আপনি কাজটির মত নিজেকে পরিবর্তন করতে না পারেন তাহলে কাছ থেকে আপনার মত করে নিন। যেমন ব্লগিংয়ে আপনি যদি অভ্যস্থ না হন, আপনি হয়তো ভালো আর্ট করেন, তাহলে যারা আর্ট করে এবং আর্টের বিষয়ে আগ্রহী তাদের সঙ্গে নিজের ঘনিষ্ঠতা এবং পরিচিতি বাড়ানো তাহলে দেখবেন আপনি ছবি এঁকে তা পোস্ট দিয়েই অনেক সফলতা লাভ করতে পারছেন।
অথবা হয়তো আপনি কবিতা লিখতে পারেন। তাহলে কবিতা, কবিতা বিষয়ক অন্যান্য লেখা লিখতে পারেন। জন্য আপনাকে যেটা করতে হবে- যারা কবিতা পড়ে, বুঝে এবং কবিতাকে ভালোবাসে, তাদের মধ্যে নিজের একটা বলয় তৈরি করেন। তাহলে দেখবেন আপনিও কাজটি করে মজা পাবেন, কাজটিও আপনাকে পেয়ে মজা পাবে।
সর্বশেষে সবাইকে বলব- ভালো থাকেন, সুস্থ থাকেন এবং সুন্দর সময় কাটান।
আত্মকথনঃ
আমি ত্বরিকুল ইসলাম। সখের বশে ব্লগিং করি। ব্লকচেইন এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি বিষয়ে আগ্রহী।
- Hive: My Blog
- LeoFinance: My Leo
- Dtube: My Tube
- 3speak: My Vlog
- Twitter: My Tweet
- FB: My Profile
- Pinmapple: My Tour
- TravelFeed: My Feed
"পড়াশোনায় ইঞ্জিনিয়ার। পেশায় শিক্ষক। নেশায় লেখক। সাবেক ব্যাংকার। পছন্দ করি লিখতে, পড়তে, ভ্রমণ করতে এবং জমিয়ে আড্ডা দিতে।"
জীবনটাকে অনেক অনেক ভালোবাসি