রবিবারের রম্যগল্প: আলুর ব্যবসা || SundayFun

Words
660
Reading
3 min
6y

কুদ্দুস মিয়ার বিকাশের ব্যবসা তো আর হলো না। গত গল্পে বিষয়টা জানতে পেরেছেন। তাই সে চিন্তা করল সবজির ব্যবসা করবে। কথায় আছে: চাকরির মধ্যে সরকারি, ব্যবসার মধ্যে তরকারি।

কাজেই সে বেশ কিছু সব্জি কিনলো। গুদামজাত করলো। কিন্তু বেচারার কপালটাই খারাপ। এবার সব্জির দাম গেল কমে। সে ব্যবসায় মার খেলো।

আলু পেঁয়াজের দাম বেশ চড়া। পরের সিজনে সে পেঁয়াজ কিনলো। সঙ্গে সঙ্গে ইন্ডিয়া আর মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আসা শুরু হলো। ফলে পেঁয়াজের দাম গেল কমে। বেচারা আবার খেলো ধরা।

তাই এই সিজনে সে আলু কিনলো। আলুর দাম গেল কমে। কুদ্দুস মিয়ার তো মাথায় হাত। পরামর্শের জন্য ফোন করল তার সম্বন্ধী ছোটখাটো ব্যবসায়ী নাদেরালি'র কাছে।

20200927_113941.jpg


নাদেরালি দীর্ঘদিন ধরে গার্মেন্টসের ব্যবসা করছে। ছোটখাটো একটা গার্মেন্টস তার আছে। সব শুনে নাদেরালি বলল, ব্যবসাতে তো লাভ লস আছে। এত টেনশনের কী আছে?

-কিন্তু আমার তো খালি লস হয়?
-আজকে লস হয় মানে কালকে লাভ হইব, এটাই মেনে নিয়ম। এইটা জোয়ার ভাটার মতো চিরন্তন সত্য।

-আপনার যখন লস হয়, তখন আপনি কি করেন?
-আগুন লাগাইয়া দেই।

-মানে কি?
-মানে খুব সহজ। যখনই ব্যবসায় লস খাই, অর্ডার ক্যান্সেল হয়, রাতের অন্ধকারে আমার গার্মেন্টসের গুদামে আগুন ধরিয়ে দেই। ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি আমাকে টাকা দিয়ে দেয়।

-তাই নাকি। সত্যিই টাকা দেয়?
-দিব না মানে? ১০০ বার দেয়। আমার যত টাকার মাল পুড়ে, তার তিনগুণ দেয়। খালি ক্ষয়ক্ষতি একটু বেশি দেখাইতে হয়। আর তাদেরকে নাস্তা পানি টাকা দিতে হয়।

20200927_114404.jpg


ফোন রাখার পর কুদ্দুস মিয়া কিছুক্ষণ চিন্তা করল। আইডিয়াটা মন্দ না। তার আর দেরী সহ্য হলো না। সাথে সাথে গুদামে আগুন লাগাতে চলে গেল।

রাতের অন্ধকারে দারোয়ান দেখতে পেল একটা কালো ছায়ামূর্তি। ‌বোতল থেকে কেরোসিনের মত কি যেন গুদামে ছিটাচ্ছে। তারপর দিয়াশলাই-এর কাঠি জ্বালিয়েছে আগুন ধরানোর জন্য।

দারোয়ান সঙ্গে সঙ্গে গিয়ে পিছন থেকে জাপ্টে ধরলো। লাঠি দিয়ে কয়েকটা আঘাত করলো পশ্চাৎদেশে। কুদ্দুস মিয়া চেঁচিয়ে উঠলো: আরে থাম, থাম। আমি কুদ্দুস, গোডাউনের মালিক।

দারোয়ান তার টর্চলাইট কুদ্দুস মিয়ার মুখে মেরে চমকে উঠলো।

-স্যার আপনে? আমি ভাবছি চোর আসছে। না হয় কেউ শত্রুতা করে গুদামেতে আগুন লাগাইতে আইছে।
-না, আমিই আগুন লাগাতে এসেছি। এখন তুই এই দিয়াশলাইয়ের কাঠিটা জ্বালাইয়া কেরোসিনের উপর ফেলে দিয়ে আয়। কেউ যেন টের না পায়।

-কন কি স্যার। নিজের গুদামে আগুন! আপনার মাথা তো পুরাই গেছে। নিশ্চিৎ মাথার তার-তুর ছিড়ে গেছে। আমাগো গেরামে ব্যবসায় লস খাইয়া এক লোকের মাথার তার ছিড়ে গেছিলো। তারে দেখতাম ল্যাংটা হইয়া রাস্তায় রাস্তায় হাঁটতো। আপনেও কি স্যার কালকে থেকে হাঁটবেন?
-বেশি কথা বলিস না। যেটা বুঝোস না, ওইটা নিয়ে কথা কস ক্যান? তোরে যা করতে বলছি সেটা কর।

দারোয়ান বিড়বিড় করতে করতে কথামতো আগুন লাগাতে চলে গেল।

images (16).jpeg


পরদিন সকালে কুদ্দুস মিয়া আবার ফোন দিলে তার সম্বন্ধীকে: বড় ভাই, আমি তো শেষ হইয়া গেলাম।

-কেন? কি হইছে?
-আপনি না কইছিলেন: আগুন লাগাইলে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি টাকা দিব। এখন তো আমারে টাকা দেয় না। আমার সব পুড়ে ছারখার করে ফেলছি। এখন টাকা দিব না কয়।

-কোন কোম্পানি টাকা দেয় না? কেন দিবে না?
-সব কোম্পানিতে ফোন করছি। এরা ধমক দিয়ে ফোন রাইখা দেয়।

-সব কোম্পানিতে মানে? তোমার ইন্সুরেন্স করা আছে কোনটাতে?
-আমার তো ইন্সুরেন্স করা নাই।

-তুমি তো হালা সর্বনাশ করছো। ইন্সুরেন্স করা নাই, টাকা দিব কেন?
-আপনি তো ইন্সুরেন্স করার জন্য বলেন নাই। আগুন দেওয়ার কথা বলেছেন।

-তোমারে সব খুইল্যা বলা লাগবো?
-আমার তো সব শেষ হতে গেল। এখন আমি কি করতাম?

-কি আর করবা। আলু পোড়া খাও।


আমি প্রতি রবিবার একটি করে রম্য গল্প লিখছি #bdcommunity -তে। এতে কুদ্দুস মিয়া চরিত্রটির বিভিন্ন হাস্যরসাত্মক কর্মকাণ্ডে বিনোদনের পাশাপাশি স্যাটায়ার হিসেবে সমাজের অনিয়ম তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। সবগুলো লেখায় #sundayfun ট্যাগ ব্যবহার করি, যাতে পাঠকগণ চাইলেই রম্যগল্পগুলি সহজে খুঁজে পান। এই প্রকল্পের আরেকটি গল্প আজ লিখলাম। নির্মল বিনোদনের জন্য আগের গল্পগুলোও চাইলে পড়তে পারেনঃ

...কুদ্দুস মিয়ার ডায়াগনোসিস...

...ঘটক পশু ভাই...

...কুদ্দুস মিয়ার ব্যাংক একাউন্ট...

...কুদ্দুস মিয়ার বিয়া...

...সবজান্তা সমশের...

...কুদ্দুস মিয়ার পার্সোনাল সেক্রেটারি...

...কুদ্দুস মিয়ার বিকাশের দোকান...

20200627_034755.jpg


আত্মকথনঃ

poster_1593196763985_rd7uzi0du0.gif

আমি ত্বরিকুল ইসলাম। সখের বশে ব্লগিং করি। ব্লকচেইন এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি বিষয়ে আগ্রহী।


"পড়াশোনায় ইঞ্জিনিয়ার। পেশায় শিক্ষক। নেশায় লেখক। সাবেক ব্যাংকার। পছন্দ করি লিখতে, পড়তে, ভ্রমণ করতে এবং জমিয়ে আড্ডা দিতে।"


        জীবনটাকে অনেক অনেক ভালোবাসি
রবিবারের রম্যগল্প: আলুর ব্যবসা || SundayFun | Ecency