নীতুদের ভার্সিটি হঠাৎ করে বন্ধ ঘোষণা করেছে। ছাত্রদের দুই গ্রুপের মারামারি। বেশ কয়েকজন ছাত্র আহত হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, একজন ছাত্র নাকি নিহতও হয়েছে।
অবশ্য এ ধরনের মারামারি যখন ক্যাম্পাসগুলোতে, হয় তখন কিছু গুজব ছড়ায়। হয়তো দেখা গেছে, একজনের মাথা ফেটেছে। তার পক্ষের ছেলেরা গুজব ছড়িয়ে দিয়েছে, তাদের দলের কর্মী অমুকের মাথায় আঘাত লেগে মারা গেছে..
এটা করে ছাত্র সংগঠনগুলো তাদের দলের ফায়দা নেওয়ার জন্য এবং সাধারণ ছাত্র ও প্রশাসনের সহানুভূতি আদায়ের জন্য।
কি নিয়ে গন্ডগোল, সেটা অবশ্য এখনও জানা যায় নি। তবে সম্ভবত নারী বিষয়ক। ভার্সিটিগুলোতে ৯০ ভাগ মারামারি এই একটা বিষয়েই হয়ে থাকে।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, কে কার প্রেমিকাকে প্রপোজ করেছে, তমুক অমুকের প্রেমিকাকে টিজ করেছে, অথবা গোলাপের হিসাব নিয়ে দুইজন লেগে যায়। দুইজন থেকে দুই গ্রুপ, গ্রুপ থেকে হল, হল থেকে পুরো ভার্সিটিতে ছড়িয়ে যায় সংঘর্ষ। আর এর ভুক্তভোগী হয় সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা।
নীতুর বাড়ি কক্সবাজার। এখন সন্ধ্যাবেলা। হঠাৎ করে ক্যাম্পাস-হল বন্ধ করে দেওয়ায় সে বিপাকে পড়ে গেছে। আজ বৃহস্পতিবার। সায়েদাবাদে এসে দেখে কাউন্টারে কোন বাস নেই।
বৃহস্পতিবার এমনিতে একটু চাপ থাকে মানুষের। বাড়ি ফেরার তাড়া। ঢাকা শহরে তার তেমন পরিচিত কেউ নেই। সন্ধ্যা ঘনিয়ে রাত্রি হয়ে যাচ্ছে।
নীতু এর আগে কখনো বাড়ির বাইরে আসে নি। কিছুদিন আগে ভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছে। ক্লাস শুরু হওয়ার সাথে সাথেই গণ্ডগোলে ক্যাম্পাস বন্ধ। এখনো শহরের তেমন কিছু চিনেও না।
কোথায় যাবে..কোথায় যাবে.. ভাবতে ভাবতে মাথা ঘুরতে শুরু করল তার। নিউ ফার্স্ট ইয়ার হওয়াতে এখনো সেরকম কারো সাথে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে নি। তাই কোন বান্ধবীর বাসায় গিয়ে উঠবে, সেরকম ঘনিষ্ঠতা কারো সাথে হোয় নি।
একটু আগে বাবাকে ফোন দিয়েছিল। বাবা-মাও টেনশন শুরু করে দিয়েছে বাড়িতে। এদিকে মোবাইলে চার্জ শেষ হয়ে গেছে। মোবাইল বন্ধ।
শেষে উপায়ান্তর না দেখে ভালো কোন একটা হোটেলে থাকার সিদ্ধান্ত নিল। যদিও মেয়ে হিসেবে স্বাভাবিকভাবে সে জানে, এটা তার জন্য নিরাপদ নয়। কিন্তু এছাড়া আর কোন উপায় নেই। সারারাত রাস্তায় কাটিয়ে দেওয়া যায় না।
কমলাপুরে একটা ভালো হোটেলের দিকে সে এগিয়ে গেল। কাউন্টারের ম্যানেজার রীতিমত জেরা শুরু করেছে। করাটাই স্বাভাবিক।
একটা মেয়েকে একা এত রাতে এভাবে আসতে দেখলে যে কারোই সন্দেহ হওয়ার কথা। নিতু বুঝতে পারছে, সে ম্যানেজারের কনফিউশন দূর করতে ব্যর্থ হয়েছে।
এ ধরনের সিচুয়েশনে পড়লে তার গলা কাঁপতে শুরু করে, হাত ঘামে ভিজে যায়। এ কারণে তাকে আরো অপ্রস্তুত দেখায় এবং সন্দেহ বাড়িয়ে দেয়।
হোটেল ম্যানেজার তাকে ন্যাশনাল আইডি কার্ড দিতে বলল। কিন্তু তার কাছে আইডি কার্ড ছিল না। ম্যানেজার সাফ জানিয়ে দিল আইডি কার্ড ছাড়া তাকে এলাউ করবে না।
অনেক রিকোয়েস্ট করেও ব্যর্থ হয়ে বেরিয়ে আসলো। তারপর আরো কয়েকটি আবাসিক হোটেলে গেল। সবগুলোতেই একই অবস্থা। আসলে তাদেরকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। সে যেভাবে নার্ভাস এর মত কথা বলছে, তাতে সন্দেহ হতেই পারে।
অনেক ঘোরাঘুরির পরে একটা হোটেল ম্যানেজ করতে পারল। কিন্তু হোটেলটার পরিবেশ কেমন যেন মনে হচ্ছে! এখন এসব দেখার সুযোগ নেই। তাকে রাতটা কোন মতে কাটাতে হবে।
একপাশে একটি জানালা থাকলেও, জানালার অপর পাশে আরেকটি ভবন থাকায় বাতাস ঢোকার কোন সুযোগ নেই। মনে হচ্ছে একটা বন্দি খাঁচার ভেতরে আটকে আছে। নীতু দরজা লাগিয়ে দিল।
তারপর বাথরুমে গিয়ে ঠান্ডা জলে নিচে অনেকক্ষণ ধরে মাথা ভেজাল। এখনো মাথা টনটন করছে। ব্যথা শুরু হয়েছে সেই কখন! ঘুরতে ঘুরতে আর টেনসনে সে খুব ক্লান্ত পরিশ্রান্ত।
আসার সময় নীতু কিছু কেক আর একটা জুস এনেছিল। সেটাকে খেয়ে শুয়ে পড়ল। শরীর প্রচন্ড ক্লান্ত থাকায় শোয়ার সাথে সাথে গভীর ঘুমের মধ্যে তলিয়ে গেল।
ঘুমের মধ্যে একটা প্রচন্ড ভয়ঙ্কর দুঃস্বপ্ন দেখতে পেল। একটা মস্ত বড় অজগর সাপ তার পায়ের কাছে আস্তে আস্তে তার শরীরের দিকে এগিয়ে আসছে। শরীর বেয়ে উঠতে থাকলো সাপটা।
সাপটার পিচ্ছিল দেহ তার চামড়ায় ঘষা লেগে শিওরে উঠতে থাকলো। তারপর অজগরটা সাবধান তাকে পেচিয়ে পেচিয়ে তার দেহের ভিতর আটকে ফেললো।
নীতুর দম বন্ধ হয়ে আসছে। কানের কাছে ফোঁস ফোঁস শব্দ শুনতে পাচ্ছে। দম বন্ধ অবস্থায় তার ঘুম ভেঙে গেল। সে উঠে পড়েছে। বসে হাঁফাতে শুরু করল। তার বুক ধরফর করছে।
এমন সময় হঠাৎ মনে হল দরজায় কে যেন নক করেছে- টক টক টক..
আত্মকথনঃ
আমি ত্বরিকুল ইসলাম। সখের বশে ব্লগিং করি। ব্লকচেইন এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি বিষয়ে আগ্রহী।
- Hive: My Blog
- LeoFinance: My Leo
- Dtube: My Tube
- 3speak: My Vlog
- Twitter: My Tweet
- FB: My Profile
- Pinmapple: My Tour
- TravelFeed: My Feed
"পড়াশোনায় ইঞ্জিনিয়ার। পেশায় শিক্ষক। নেশায় লেখক। সাবেক ব্যাংকার। পছন্দ করি লিখতে, পড়তে, ভ্রমণ করতে এবং জমিয়ে আড্ডা দিতে।"
জীবনটাকে অনেক অনেক ভালোবাসি