এই অবেলায় বাজার নিয়ে আসায় শিল্পীর ভীষণ মেজাজ খারাপ। বৃহস্পতিবার দুপুর বেলায় এরকম শাক, সবজি, মাছ নিয়ে আসলে কার না মেজাজ খারাপ হয়। এমনিতেও রান্না শেষ।
মানুষ বলে, বুদ্ধিহীনেরা বউ পেটায়, আর যারা চালাক, তারা দুপুর বেলা নিয়ে আসে এক গাদা গুড়া মাছ। এখানে গুড়া মাছ না আনা হলেও বিশাল একটা মাছ নিয়ে আসা হয়েছে! অগ্যতা একগাদা ছাই নিয়ে বিশালাকৃতির একটা রুই মাছ কাটতে শুরু করলেন শিল্পী। শুরুর আগেই টেলিফোন বেজে উঠলো। রিসিভার নামিয়ে রেখে তিনি মনে মনে বললেন, না আজ কোন ভাল খবর নেই। একটা দুঃসংবাদ। বিক্রমপুরে তাদের এক আত্মীয় মারা গেছেন।
তরিঘরি করে ছেলেমেয়েদের নিয়ে তারা বেড়িয়ে পরলেন। বিক্রমপুরে থাকা অবস্থায় তৃতীয় দিনে শিল্পীর মনে হলো পরলো যে তিনি বের হবার সময় বাজার কিচ্ছুই ফ্রিজে ঢুকানো হয়নি। ওরা আরো তিনদিন থাকলো গ্রামের বাড়ি। ফেরার সময় মনে কিছুটা বিরক্তি। শুধুশুধু কিছু কথা শুনতে হবে। মাছ পচে নিশ্চয়ই বাজে গন্ধ বের হচ্ছে এতক্ষণে। এসব পরিষ্কার করতে হবে। ভেবেই গা খিতখিত করে উঠলো শিল্পীর।
ফ্ল্যাটে ঢুকেই সবার আগে রান্নাঘরে গেলো শিল্পী। কিন্তু সে এক অবাক করা বিষয় । রান্নাঘরে কি সুন্দর একটা তাজা রুই মাছ শিল্পীর দিকে চোখ বড়-বড় করে তাকিয়ে আছে।
— ফরমালিন