খুব ছোটো বেলায় আমার স্কুল থেকে ফিরার পথে মনে হতো আমি যদি পানির স্রোত হতাম তাইলে খুবই ভালো হত। আমার এখনো মনে আছে, কাঠের পুলের মোড়ে, ব্রিজটা পাড়ি দেয়ার সময় এই ভাবনাটা প্রথম মাথায় আসে। এর পর জীবনে বহুবার আসে এই চিন্তা।
তবে একবার এক বড় ভাই জিজ্ঞেস করলো, বললো আমার সম্বন্ধে তোমার ধারণা বল। আমি বললাম, ভাই আপনি হচ্ছেন তরল পদার্থ, যে কোনো আকার ধারণ করতে পারেন! আরেহ সর্বনাশ, ভাইয়ের কী রাগ!
পানি হইতে পারলে অনেক ভাল হইতো! সেন্ট মার্টিনের দিকে যখন গেলাম, যতদূর চোখ যায় ঢেউ ঢেউ! তখন আমার মনে হইলো এই নদীর পানি কি সিঙ্গুলার না প্লুরাল ?
পানির মধ্যেও কত বিভাজন! সমুদ্রের এতো পানি, কিন্তু খাওয়া যায় না । হোয়াট আ ওয়েস্ট ! ওইদিকে মিলিয়ন ওয়েস টু ডাই ইন দা ওয়েস্ট এর ১০১ হবে পানি না খেয়ে মরুভূমিতে মরীচিকার সাথে লুকোচুরি খেলতে খেলতে মারা যাওয়া! আবার আমি গোসল করতে যেই পানি খরচ করি সেই পানি দিয়ে মরুভুমিতে কয়েক গ্রাম মানুষের কয়েকদিনের খাওয়ার পানি হয়ে যায়।
তার মানে স্থানভেদে পানির অনেক দাম! এই যে মনে করেন গলির টঙ্গের দোকানে পানি এখন দুই টাকা, বুফে বা রেস্টুরেন্টে সেইম পানিই আরেকটু দামী, আরণ্যক বা চাঁদের পাহাড় বইয়ে, বা কারবালায় অ-নেক দামী!
পানির অপর নাম নাকি জীবন বা প্রান? পানি খাইতে হবে ফ্রেস পানি, বাচ্চারা পানি কে বলে মাম, একুয়াও পানির একটা নাম, পানি কিনলে খাওয়া যায়, তবে পানি হচ্ছে প্রেসিয়াস! প্রেসিয়াস এর পারিভাষিক শব্দ এভিয়ান। এই সবগুলোই বোটোলড ওয়াটার ব্রান্ড!
লিখার কোনো উদ্দ্যেশ্য কিচ্ছু নাই, অনেকদিন লিখতে ইচ্ছা করতেছিলো। ঠিক করে রাখছিলাম ১০ মিনিট টাইপ করব।
— মার্চ ৪, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ