Wanderlust (ভ্রমণের নেশা): একটি দীর্ঘ ভ্রমণের জন্য পৃথিবী তোমাকে স্বাভাবিক চাই।
ধুর খায়ে দায়ে কাম কাজ নাই টাকা খরচ করে ঘুরে বেড়াবো। বন্ধুরা এদিক সেদিক যায় আর আমি টুকটাক কাজ নিয়ে পরে থাকি। তোরা কই যাবি যা আমার কাজ আছে। এভাবেই তো সব ভ্রমণ বাদ দিয়ে দিতাম।
মনটা প্রচুর খারাপ। কেন খারাপ জানি না। এক ঘেয়েমী লাগছে। রাতের আড্ডায় ওদের সবার প্লান করা শেষ সামনের সপ্তাহে বৃহঃস্পতিবার পঞ্চগড়ের শীত উপভোগ করবো। আমিও যাবো মনে মনে প্রবল ইচ্ছা জাগলো। ভূতে ধরেছিল মনে হয়। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন।
এদিক আমার পকেটের স্বাস্থ্য পুরাই খারাপ। কোন ভাবেই কুলাতে পারছিলাম না। শেষে বাধ্য হয়ে রাসেল কে ফোন দিলাম দোস্ত আমার শরীর ভালো না আমি হয়তো তোদের সাথে যেতে পারতেছি না। ততখনে রাসেল বলেই ফেল্লো তোকে আমি টাকা দিব তুই পরে দিস। কারণ তার সাথে কয়েকদিন আগেই আমার পকেটের স্বাস্থের অবস্থা শেয়ার করেছিলাম।
যা হোক তার অনেক প্যারাপেরিতে রাজি হলাম। নির্ধারিত সময়ে সবাই বার হলাম। রাত ৯ টায় পৌছালাম। পথে নানা প্রতিবন্ধকতায় আমার ইচ্ছা মরে ভূত। মনে মনে ভাবছিলাম কোন যে পাগলা কুত্তায় কামড়াই ছিল, না এটাই আমার শেষ যাত্রা। অবশেষে আমারা আমাদের কাঙ্খিত স্থান পঞ্চগড় ডাক বাংলোতে পৌছাই। সেখানে যাওয়ার সাথে সাথেই সব ক্লান্তি নিমেষেই দূর হয়ে গেল।
বলুন তো, নদী ঘেষে বাংলো। নদীর ঐ পার্শে ভারতের বর্ডার এইদিকে আমাদের বাংলো। ভারতের বোর্ডারে ওয়াচ টাওয়ার গুলোর লাইটের আলোতে নদীর পানি জল জল করছে। এদিক আবার পচন্ডশীত। তখন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। নদীর প্রতি আমার একটা আলাদা দুর্বলতা আছে। নদী দেখলেই ভালো লাগা কাজ করে। কাজেই এতো সুন্দর নদী আর প্রকৃতি কার না ভালো লাগে? সেই পরিবেশে ক্লান্তি বেশ একটা সুবিধা করে নিতে পারলো না? নিমিষেই হাড়িয়ে গেছিলাম স্বপ্নের ঘোরে। আহা যদি হেনা থাকতো সাথে সারারাত এখানে বসেই গল্প করতে করতে কাটিয়ে দিতাম। হোক না প্রচন্ড শীত তাতে কি। আগুন জালিয়ে তাপ নিতাম আর গল্প করতাম। যাই হোক সেই ভালোলাগা থেকেই ভ্রমনের নেশা।
ভ্রমণের ভূত কি আর সহজে তাড়ানো যায়? ঐ যে পঞ্চগড়ের হাড় কাঁপানো শীত, নদীর জলধারা, ওপারে বোর্ডারের কাঁটাতার। আহা! ভোলানো যায় না।
পরে গেলাম খুলনা ১১ ঘন্টা ট্রেনের ভ্রমন শেষে কাঙ্খিত স্থানে। আবার সেই নদী। বরাবরের মতোই নদী আমার সব থেকে পছন্দের। আমাদের এদিকে নদী নেই। নদীপথে কখনো যাতায়াত করতে হয় না। কাজেই নদী পেলেই মন চাঙ্গা। পশুর নদী পার হয়ে সুন্দরবন। চির সবুজ ম্যানগ্রোভ বন।
তারপর একে একে বাগেরহাট ষাট গম্বুজ মসজিদ, নয় গম্বুজ মসজিদ, খান জাহান আলীর মাজার, জাদুঘর সব গুলো মিলে যেন দিন কে দিন ভ্রমনের নেশার মাত্রা বাড়িয়ে তুলেছে।
পরের ভ্রমন রাজশাহী। সেখানেও ঐ পদ্মার পার। নৌকায় পার হয়ে বিশাল চর। আর রমণীদের মেলা। উঠতি যৌবনাদের যেন আর ফিরতে মন চায় না।
ভ্রমণ তো এখন মাদকের মত কাজ করছে। এই জুনেই সিলেট, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জের ভ্রমণের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু মহান আল্লাহ্ উত্তম পরিকল্পনা কারী।। বর্তমান করোনার এই প্রাদুর্ভাবে সব কিছুই ভুন্ডুল হয়ে গেছে।
এই লক ডাউন পরিস্থিতিতে মানসিক অবস্থা মোটেও ভালো না। এই অবস্থায় একটি ভ্রমণ খুবই প্রয়োজন ছিল।
এই তো গত কালকেই কিশোরগঞ্জের নিকলির হাওর এর একটা ভিডিও দেখলাম। মন আর মানছে না। অপরূপ দৃশ্য মনে মাদকতা সৃষ্টি করেছে।
অপেক্ষায় আছি পরিবেশ শান্ত হলে আর একটুও অপেক্ষা করবো না। বের হয়ে পরবো ভবঘুরের মত। নিজেকে হাড়িয়ে ফেলবো বাংলাদেশের অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্যে। নিজেকে দিশেহারা করে ফেলবো নদীর গভীর জলরাশিতে। যেখানে প্রবাহিত হবে স্বর্গীয় বাতাস। নিজেকে দুলাবো নিকলী হাওরের পানির শ্রোতের ধাক্কায়। হাওরের পানি ভেদ করে অষ্টগ্রামের সেই বাই পাস দিয়ে ছুটে চলবো প্রকৃতির টানে।