পিনোকিও'র নাক ও আমার ভাবনা

Words
438
Reading
2 min
Listen
Play
6y

মনে আছে সেই কাঠের পুতুলের কথা মিথ্যা বললেই যার নাক লম্বা হয়ে যেত। যার নাম ছিল পিনোকিও। এটি তৈরী করেছিলেন ওয়াল্টা ডিজনি। এই নাক নিয়ে আজব সমস্যায় পরেছিল পিনোকিও। মিথ্যা বললেই নাক লম্বা হয়ে যেত। এটা যদি আমাদের বাঙ্গালিদের ক্ষেত্রে হত বাস্তবেই হত তাহলে খুব ভালোই হত। এক একজনের নাক হত বিশাল দীর্ঘ। নাক দিয়ে কূশল বিনিময়ের রেওয়াজটা দাড়ুন হত। হাতের বদলে অনেক কিছুই নাক দিয়ে করতো। এই ধরেন আম গাছের আম পারবে। প্রথমে নাক দিয়ে গন্ধ নিবে পাকা না কাঁচা। তারপর নাক দিয়েই খোঁচা মেরে আম পারাবে। এভাবেই আম কাঁঠাল ডাব সব কিছুই পারবে। এমনকি যাদের মেশিন অকেজো বউ পালিয়ে যাওয়ার ভয় থাকতো না। সেটা দিয়েই কাজ চালিয়ে নিত।

যদি সত্যি সত্যিই লম্বা হত তাহলে লম্বা হওয়ার প্রতিযোগিতায় আমাদের দেশের কোন শ্রেনীর লোকেরা এগিয়ে থাকতো?

আমার কাছে তো রাজনীতিবিদদের নাক সব থেকে বড় হবে। কোন দলের নেতাদের সব থেকে বড় হবে সেটা না হয় এখন নাই বললাম।

দীর্ঘতম নাকের অধিকারী হওয়ার জন্য সবাই প্রতিযোগিতায় নেমে পরতো এটা অন্তত শিওর আমি। একের পর এক গ্রিনিজ বুকে নাম আসতো আমাদের দেশের নেতাদের। এক জনের রেকর্ড আরেকজন ভাঙ্গতো। রেকর্ডের উপর রেকর্ড গড়তো।

ধরে নেন যদি উগান্ডার প্রধানমন্ত্রী নাক টা সব থেকে বড় হত তাহলে কেমন হত। তাহলে নিশ্চত একটা আলাদা মন্ত্রনালয় হয়ে যেতো। চুলকানি হাঁচি এলার্জি এসবের দেখভাল করতো মন্ত্রনালয়। মশা মাছি তারানোর বা সাইনোসাইডের সমস্যার জন্য প্রশিক্ষণ নিতে বিশাল একটা বহর যেত সিঙ্গাপুরে। সেখানে এক একজনের পিছনে বাজেট থাকবে ৫-১০ লক্ষ টাকা।

কবি লেখন সাহিত্যিকেরাও বসে থাকবে না। সেই নাক নিয়ে কবিরা কবিতা লিখতো, গল্পকাররা গল্প লিখতো। দিস্তার পর দিস্তা লেখা ছাপা হত পত্রিকা গুলোতে। হই হই কান্ড রই রই বেপার দেখা যেত।

যে দেশের জাতীয় ফলে তেল না মাখলে খাওয়া যায় না সেখানে তেলমর্দন কেন পিছিয়ে থাকবে। লাইন ধরে তৈল মর্দন চলবে।

চাটার দলেরা পিছিয়ে থাকবে তা তো হতে পারে না। চাটার দলেরা নাক চাটা শুরু করবে। পা চাটার দিন শেষ হয়ে যাবে।

রাতে প্রতিটা টিভিতে টক শো হবে। নাকের গুণগত মান নিয়ে আলোচনা চলবে। তর্ক বিতর্ক হবে কার নাক কত বড়, কার নাক কত সুদর্শন।

প্রধানমন্ত্রী নাক নিয়ে যাতে কেউ সমালোচনা করতে না পারে তার জন্য নাক সুরক্ষা আইন পাশ হবে সংসদে। এমপি মন্ত্রীরা সংসদে নাক নিয়ে প্রশংসায় পঞ্চমুখ হবে।

মমতাছের মত শিল্পীরা সংসদে কোমর দুলায় নাক নড়ায় আশে পাশে পুরুষ সাংসদদের ঘুতা মেরে গান গাবে। বাকিরাও নাক নাড়িয়ে বাহবা দিবে। কেউ কেউ মাননীয় স্পিকার বলে আক্ষেপ প্রকাশ করবেন এতো কম সময়ে কি নাকের মহত্ব প্রকাশ করা যায়? দুই তিন মিনিটে কি কিছু হয়।

মাঝে মধ্যে সরকার দলের নেতারা বিরোধীদলীয় নেতাদের বুকের দিয়ে বলবে নাক নিয়ে ষড়যন্ত্র হলে দাঁত ভাঙ্গা সরি নাক ভাঙ্গা জবাব দেওয়া হবে। এভাবেই চলতো।

ভাগ্যিস এমন কিছু হয় না। হলে বাঙ্গালীরাই হত সেরা। নাচ উঁচু করে সমহীমায় দাঁড়িয়ে থাকতো পৃথিবীর বুক চিরে।

images 16.jpeg

Source